বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জুড বেলিংহামের সমতাসূচক গোল ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। নরওয়ের দাবি ছিল, গোলের আগে গোলকিপার অরইয়ান নিল্যান্ডের গোলকিক ওপরে ঝুলে থাকা স্পাইডারক্যামের তারে লেগেছিল। সে ক্ষেত্রে খেলা থামিয়ে পুনরায় গোলকিক দেওয়ার কথা। কিন্তু ভিএআর গোলটি বৈধ ঘোষণা করায় শেষ পর্যন্ত স্বস্তি পায় ইংল্যান্ড।
হ্যারি কেইনদেরও আপত্তি ছিল নরওয়ের প্রথম গোলের আগে ফাউল নিয়ে। তবে প্রথমার্ধে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেয় বেলিংহামের সমতাসূচক গোল।
অ্যান্থনি গর্ডনের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচের কোণে বল জড়ান বেলিংহাম। কিন্তু গোলের কয়েক সেকেন্ড আগে নেওয়া নিল্যান্ডের গোলকিক নিয়েই আপত্তি তোলে নরওয়ে। কোচ স্টোলে সলবাক্কেন ও গোলকিপার নিল্যান্ড জোর দিয়ে দাবি করেন, বলটি মাঠের ওপরে ঝুলে থাকা স্পাইডারক্যামের তারে লেগেছিল।
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী স্পাইডারক্যাম মাঠের অংশ নয়। বল যদি পোস্ট, ক্রসবার বা কর্নার পতাকায় লাগে, খেলা চলতে পারে। কিন্তু স্পাইডারক্যাম বা তারে লাগলে রেফারির খেলা থামানোর কথা। সেক্ষেত্রে গোলটি বাতিল হওয়ার সুযোগ ছিল।
তবে ভিএআরের পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। বর্তমানে প্রতিটি গোলই ভিএআর যাচাই করে এবং ম্যাচে ব্যবহৃত বলে থাকা সেন্সরের তথ্যও পরীক্ষা করা হয়। ওই সেন্সর বলের স্পর্শ শনাক্ত করতে সক্ষম।
বিতর্কের মধ্যেই ফিফা জানায়, নিল্যান্ডের গোলকিকের পর থেকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের প্রথম স্পর্শ পর্যন্ত বলের সেন্সরে কোনো অতিরিক্ত স্পর্শের সংকেত পাওয়া যায়নি। তাই বল স্পাইডারক্যামের তারে লেগেছিল—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। এই কারণেই বেলিংহামের গোল বহাল রাখা হয়।
যদিও স্পাইডারক্যামে বল লাগার ঘটনা বিরল, এর আগে এমন নজির রয়েছে। গত বছর কনকাকাফ গোল্ড কাপে কানাডা ও এল সালভাদরের ম্যাচে বল স্পাইডারক্যামে লেগে দিক পরিবর্তন করায় সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। সেই উদাহরণ টেনেই নরওয়ের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তাদের ম্যাচে কেন একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না।








