লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে অর্জনের তালিকা বিশাল। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অসংখ্য পুরস্কার জয় করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে অবাক করার মতো বিষয়, এতদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেননি তিনি। এর পেছনে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
প্রথম কারণ: লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালে। তখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা মাত্র শুরু। সেই বছরের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা দলে অভিষেক হয় তার। তবে অভিষেকটি সুখকর ছিল না। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৭ সেকেন্ড পরই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
ওই লাল কার্ডের কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়েন মেসি। ফলে একই বছরের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জিতলেও মাঠের বাইরে বসেই খেলা দেখতে হয়েছিল তরুণ মেসিকে।
দ্বিতীয় কারণ: প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যয়
এরপর আরেকটি কারণও দুই দলের সাক্ষাৎ না হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মেসি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত ম্যাচ ফি দিতে হতো।
এর সঙ্গে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ভ্রমণ ব্যয় যুক্ত হওয়ায় ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জন্য এমন ম্যাচ আয়োজন অর্থনৈতিকভাবে বেশ ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে দুই দলের মধ্যে আর কোনো প্রীতি ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি।
অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন লিওনেল মেসি।








