কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে কোনও সুযোগই দিল না স্পেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২-০ গোলের জয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লা রোজা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরোর আরেকটি গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি স্পেনের দ্বিতীয় ফাইনাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। নবম মিনিটে দানি ওলমোর ওপর ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের আদ্রিয়ান রাবিও। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে আলেক্স বায়েনার শট ফরাসি রক্ষণভাগের দেয়ালে আটকে যায়।
এরপর ২১তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের ভেতরে লুকাস দিঁনের চ্যালেঞ্জে পড়ে যান লামিনে ইয়ামাল। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ২৩তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে জোরালো শটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল।
গোল হজমের পরও ছন্দে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বরং ৩১তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তাদের নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় নামেন ম্যাকসেন্স লাক্রোয়া।
প্রথমার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ৩৯তম মিনিটে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বিত আক্রমণের পর ফাবিয়ান রুইজ বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
অন্যদিকে ফ্রান্সের সেরা সুযোগ আসে ৪৩তম মিনিটে। একা গোলমুখে ছুটে যাওয়া এমবাপ্পের সামনে দ্রুত বেরিয়ে এসে দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে স্পেন। ফ্রান্স আক্রমণে উঠলেও সেগুলো সহজেই সামলে দেয় স্প্যানিশ রক্ষণভাগ।
৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লা রোজা। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে মাইক মেইনিয়াঁকে পরাস্ত করেন ডান-ব্যাক পেদ্রো পোরো।
৬২তম মিনিটে লামিনে ইয়ামাল আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দিদিয়ের দেশম একের পর এক পরিবর্তন আনেন। দেজিরে দুয়ে, থিও হার্নান্দেজ ও রায়ান শেরকিকে মাঠে নামিয়েও আক্রমণে ধার ফেরাতে পারেননি। এমবাপ্পেও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। একাধিকবার অফসাইডে ধরা পড়েন তিনি, ৮৭তম মিনিটে হতাশা থেকে উনাই সিমনের ওপর ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখেন।
শেষদিকে ওসমান দেম্বেলের শট দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। যোগ করা সময়ে এমবাপ্পের আরেকটি শটও বার অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান কমাতে পারেনি ফ্রান্স।
পুরো ম্যাচে আক্রমণ, বলের দখল এবং সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে থাকা স্পেন শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে লা রোজা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।:::









