রেফারিংয়ে পক্ষপাত, সহজ ড্র আর বিশেষ সুবিধা...বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এমন নানা অভিযোগ ও সমালোচনা এখনও চলমান। বিশেষ করে মিসর ও সুইজারল্যান্ডের কোচদের মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তবে এসব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার ভাষ্য, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সাফল্যের পেছনে কোনও বিশেষ সুবিধা নয়, রয়েছে শুধুই কঠোর পরিশ্রম, মানসিক দৃঢ়তা এবং চ্যাম্পিয়নসুলভ চরিত্র।
সমালোচকদের উদ্দেশে লিওনেল মেসি ইংল্যান্ড জয়ের পর বলেছেন, ‘আমাদের কোনও কিছুই উপহার দেওয়া হয়নি।’
তার মতে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ার সামর্থ্য, সবশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও যেটি দেখা গেছে, কেবলই একটি চ্যাম্পিয়ন দলের মানসিকতার প্রতিফলন, এর পেছনে অন্য কোনও কারণ নেই।
বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
এর আগেও কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে ছিল আর্জেন্টিনা। আর মিসরের বিপক্ষে নির্ধারিত সময় শেষ হতে ১১ মিনিট বাকি থাকতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় দলটি।
তবে সুইজারল্যান্ড ও মিসরের দুই কোচই ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মিসরের কোচ হোসাম হাসান তো আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, তার দল এমন এক ফুটবল ব্যবস্থার শিকার হয়েছে, যা মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিতে চায়।
এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকের দাবি, নকআউট পর্বের ড্র আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামূলক সহজ ছিল। কেউ কেউ আবার ভিত্তিহীনভাবে অভিযোগ তোলেন, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা চায় আর্জেন্টিনাই আবার বিশ্বকাপ জিতুক।
তবে এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মেসি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘গত চার বছরে আমরাই সেরা দল ছিলাম। এটা কারও ভালো লাগুক বা না লাগুক, কিংবা যে যা-ই বলুক না কেন। আবারও আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের একটিতে জায়গা করে নিয়েছি। যেটি প্রমাণ করে, আমাদের অর্জনের পেছনে কোনও কাকতালীয় ঘটনা নেই, আর আমাদের কিছুই উপহার হিসেবে দেওয়া হয়নি।’









