নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরু থেকে প্রত্যাশিত কৌশলেই খেলেছে আর্জেন্টিনা। নিজেদের অর্ধে নেমে এসে রক্ষণে প্রতিরোধ গড়ে খেলেছে তারা। যাতে স্পেনের আক্রমণভাগ সহজে জায়গা তৈরি করতে না পারে। আক্রমণে স্পেন এগিয়ে থাকলেও নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। ফলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। সেখানে অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে ১-০ তে এগিয়ে গেছে স্পেন। গোলটি করেছেন ফেরান তোরেস।
অবশ্য নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের শুরুর দিকে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ৫ মিনিটে আক্রমণের সূচনা করেন লামিনে ইয়ামাল।
বক্সে ক্রস দেওয়ার চেষ্টা করলে বল প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দানি ওলমোর সামনে চলে যায়। ওলমো দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বলটি আবার ইয়ামালের পথেই ফিরিয়ে দেন। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শটের প্রস্তুতি নেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় তারা।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় গোলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে পুরো ৪৫ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে মোট তিনটি শট হয়েছে, যার সবকটিই নিয়েছে স্পেন।
বিরতির পরও একই অবস্থা বহাল থাকে। উল্টো শেষ দিকে ৯০+৩ মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। গোল হজমের হাত থেকে বাঁচার পরপরই অপ্রয়োজনীয় ট্যাকলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ।
আলগা বলের দখল নিতে গিয়ে স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন এনসো ফার্নান্দেজ। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি।
বলের দখল ও আক্রমণে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অনবদ্য নৈপুণ্য-ই ম্যাচ টেনে নেয় অতিরিক্ত সময়ে।
এদিন ১০টি সেভ করেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে কোনো গোলরক্ষকের এটিই সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভও এটি।
ফেরান তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন মার্টিনেজ। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন তিনি।








