ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে, যখন মাঠের সিদ্ধান্ত ‘স্পষ্টভাবে ভুল’ হবে বা রেফারি পরিষ্কার কোনও ঘটনা দেখতেই পারবেন না—এমন অবস্থানে ফিরতে চাচ্ছেন ইউরোপের ফুটবল রেফারিং কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির।
গত সপ্তাহে ইউরোপের ৫৫টি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রেফারিং কর্মকর্তারা উয়েফার রেফারিং কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ফুটবলের আইনে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার প্রবণতা ভিএআরকে তার মূল উদ্দেশ্যের বাইরে নিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে আইএফএবি ফুটবলের আইনে ভিএআর যুক্ত করার সময় এর মূল দর্শন ছিল ‘ন্যূনতম হস্তক্ষেপ, সর্বোচ্চ সুফল’। লক্ষ্য ছিল গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড ও ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার মতো ঘটনায় স্পষ্ট ভুল বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও ঘটনা বাদ পড়ে গেলে তা সংশোধন করা।
উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে রেফারিং কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে ভিএআরকে আবার সেই মূল নীতিতেই ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রটোকল অনুযায়ী, ভিএআর কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে, যখন রেফারির সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে ভুল হবে অথবা তিনি পরিষ্কার কোনও ঘটনা দেখতে ব্যর্থ হবেন।’
আরও বলা হয়, ‘ভিএআরের উদ্দেশ্য খেলার রেফারির সিদ্ধান্তের ওপর দিয়ে আবার রেফারিং করা নয়। এটি রেফারিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় রেফারিকেই থাকতে হবে।’
উয়েফা আরও উল্লেখ করে, দীর্ঘ সময় ধরে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা অনেক ক্ষেত্রেই ইঙ্গিত দেয় যে মাঠের সিদ্ধান্তটি আসলে ‘স্পষ্টভাবে ভুল’ ছিল না। তাই এমন পর্যালোচনা সীমিত রাখা উচিত।
বৈঠকে আইএফএবির সাম্প্রতিক ব্যাখ্যাও আলোচনায় আসে, যেখানে ‘ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি’ সংক্রান্ত নিয়মের সঠিক প্রয়োগ পরিষ্কার করা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিএআর কেবল শাস্তিযোগ্য অপরাধটি কোন খেলোয়াড় করেছেন তা শনাক্ত করতে পারবে; অপরাধটির ধরন পুনর্বিবেচনা বা পরিবর্তন করতে পারবে না।
এ ছাড়া গোলকিক, থ্রো-ইন ও বদলির ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ এবং মাঠে চোট ও গোলরক্ষকের সময়ক্ষেপণসংক্রান্ত নতুন নিয়মের প্রতিও বৈঠকে সর্বসম্মত সমর্থন জানানো হয়।
