২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছিল হাইতি। সেই দুর্যোগেই বদলে যায় এক শিশুর জীবন। দত্তক নিয়ে তাকে নিজের সন্তান হিসেবে বড় করে একটি আর্জেন্টাইন পরিবার। ১৬ বছর পর সেই শিশুই গড়েছেন ইতিহাস। আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া মাত্র চতুর্থ কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার হিসেবে নাম উঠেছে স্টিফেন ‘কিকি’ রামোসের।
এই সপ্তাহে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে অভিষেক হয় ১৭ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের। ২০০৯ সালে হাইতিতে জন্ম নেওয়া রামোস ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আর্জেন্টিনার একটি পরিবারে দত্তক যান। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিন লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
রামোস বর্তমানে আর্জেন্টাইন ক্লাব ভেলেজ সার্সফিল্ডের হয়ে খেলছেন। জাতীয় দলের ইতিহাসে তার আগে মাত্র তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তারা হলেন হেক্টর বালে, আলেহান্দ্রো দে লস সান্তোস এবং হোসে রামোস দেলগাদো। ১৯৮২ সালে সর্বশেষ আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছিলেন গোলরক্ষক হেক্টর বালে। এরপর চার দশকেরও বেশি সময় পর আবার কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার দেশটির জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন।
সম্প্রতি বর্ণবাদসহ বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফকল্যান্ড দ্বীপ সংক্রান্ত একটি ব্যানার ঘিরে সমালোচনা হয়। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড বিশ্বকাপ চলাকালে এক লাইভ সম্প্রচারে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে।
এমন প্রেক্ষাপটে রামোসকে বর্ণবাদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, ‘আমি যেদিন থেকে আর্জেন্টিনায় এসেছি, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজেকে বৈষম্যের শিকার মনে হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচ চলাকালে বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঝেমধ্যে যে ঝগড়া-বিবাদ হয়, সেটুকু ছাড়া মাঠের বাইরে সব সময়ই সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। আমি কখনও বৈষম্যের শিকার হইনি, কখনও নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা বলেও মনে হয়নি। তাই আমার মনে হয়, যারা বলে আর্জেন্টিনা বর্ণবাদী, তারা আসলে না বুঝেই এমন কথা বলে।’








