এমনটা একটা দিন যে আসবেই, সেটি জানা ছিল। কিন্তু লিওনেল মেসির মতো মহাতারকার বিদায় কখনোই সহজ নয়। ৩৯ বছর বয়সে এসে সেই শেষের পথে আরও এক ধাপ এগোলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন তিনি। তবে ক্লাব ফুটবল থেকে এখনই অবসর নিচ্ছেন না।
সোমবার আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন মেসি। দেশের জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করে শেষ হচ্ছে তার অবিশ্বাস্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
কেন আর্জেন্টিনা থেকে অবসর?
নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার আর কিছু দেওয়ার নেই। সোমবার ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ এক বার্তায় লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’
‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’
মেসি আরও বলেছেন, ‘আমি সবসময় আমার সর্বস্ব দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি, মাঠে সবকিছু দিয়েছি।’
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কথাটি এসেছে এরপর, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে, একটি অধ্যায়ের শেষ হয়। আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসবো। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’
বয়সও একটা কারণ
মেসির বয়স ৩৯ বছর। এমনিতেই বেশিরভাগ ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বয়স পেরিয়ে গেছেন। জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ালে আন্তর্জাতিক বিরতিতে দীর্ঘ ভ্রমণ, অনুশীলন ও ম্যাচের চাপ কমবে। ফলে ক্লাব ফুটবলে নিজের শরীরকে আরও ভালোভাবে সামলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি।
তবে মেসির অবসরের সময়টা কিছুটা বিস্ময়কর। সামনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে চারটি প্রীতি ম্যাচের আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। চাইলে সেই ম্যাচগুলোকে বিদায়ী সফর হিসেবে ব্যবহার করে সমর্থকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিতে পারতেন তিনি। কিন্তু মেসি সেই পথ বেছে নেননি।
এর আগেও একবার অবসর নিয়েছিলেন
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত মেসির জন্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পরও অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
সেবার টানা তিনটি আন্তর্জাতিক ফাইনালে হারের হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু কিছুদিন পর সিদ্ধান্ত বদলে আবার জাতীয় দলে ফেরেন। তারপরের গল্পটাই হয়ে ওঠে রূপকথা।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ শিরোপা-খরা ঘোচান মেসি।
তাহলে কি ইন্টার মায়ামিতেও শেষের পথে?
আর্জেন্টিনাকে বিদায় বললেও ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন মেসি। মেজর লিগ সকারের ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত। অর্থাৎ কাগজে-কলমে আরও কয়েক বছর খেলার সুযোগ আছে তার। তবে জাতীয় দলকে বিদায় বলা যে মেসির পুরো ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বড় ইঙ্গিত, সেটিও অস্বীকার করা যায় না।









