রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে সমর্থকদের হতাশা বাড়লেও কোচ হোসে মরিনহো এখনও তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে ভিনিসিয়ুসকে গ্যালারির একাংশের দুয়ো শুনতে হয়েছে। ম্যাচ শেষে অবশ্য ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থন দিয়েছেন রিয়ালের কোচ।
গত গ্রীষ্মে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছিল রিয়াল। তখন আর্সেনালে যাওয়ার গুঞ্জন থাকায় অনেক সমর্থক সেই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছিলেন। অথচ রিয়ালের বর্তমান যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এই ব্রাজিলিয়ান। ২০২২ ও ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করে দলকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের সঙ্গে একই দলে আক্রমণাত্মক তিন তারকাকে ঘিরে ভারসাম্য তৈরি করা রিয়ালের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। কার্লো আনচেলত্তি, জাবি আলোনসো ও আলভারো আরবেলোয়াও সমস্যাটির কার্যকর সমাধান করতে পারেননি। এমবাপ্পে আসার পর বড় কোনও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়ে গত দুই মৌসুমে তিন কোচই ক্লাব ছেড়েছেন।
রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ অবশ্য শুরু থেকেই ভিনিসিয়ুসের ওপর আস্থা রেখেছেন। ২০১৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে দলে নেওয়ার সময়ও ব্রাজিলিয়ান তারকা ছিলেন পেরেজের বিশেষ বাজি। দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও রিয়ালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ভিনিসিয়ুসকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবেই দেখছেন তিনি।
২০২৫-২৬ মৌসুমের অগোছালো পারফরম্যান্সের পর মরিনহোকে আবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেরানো হয়েছে। এমবাপ্পে, বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুসের মতো তারকাদের একসঙ্গে কার্যকর করার দায়িত্বও তার কাঁধে। কাজটি কঠিন বলে স্বীকার করলেও সমাধান খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী পর্তুগিজ কোচ।
আগস্টে মরিনহো বলেছিলেন, ‘কৌশলগতভাবে এটি কঠিন হতে পারে। তবে তারা এমন জায়গায় খেলে না, যেখানে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব।’
পরিসংখ্যানের দিক থেকে ভিনিসিয়ুসের শুরুটা খুব একটা খারাপ নয়। কিন্তু ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ড হিসেবে তাকে যে ম্যাচ-জেতানো ধারালো রূপে দেখা যেত, সেটি এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।
ইন্টারের বিপক্ষে জয়ের পর মরিনহো বলেছেন, ভিনি এখনও সেরা অবস্থায় নেই। তবে তার পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে গ্যালারির একাংশ থেকে দুয়ো শোনার পর ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিয়ুসকে তুলে নেওয়া হয়। মাঠ ছাড়ার সময় মরিনহো নিজেই এগিয়ে গিয়ে তাকে বেঞ্চ পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যান।
মরিনহো পরে বলেছেন, ‘আমার সম্মান তার প্রাপ্য। সে এখনও সেরা অবস্থায় নেই, এটা আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি। সে নিজেও সবার আগে বিষয়টি জানে এবং ম্যাচের পর ম্যাচ সেই ভিনিসিয়ুসে পরিণত হতে কঠোর পরিশ্রম করছে।’
ভিনিসিয়ুসের পুরোনো ঝলক যে একেবারে হারিয়ে যায়নি, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন মরিনহো। গত মৌসুমে বেনফিকার বিপক্ষে দুই লেগে গোল করা ম্যাচগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘ভিনি যখন সেরা অবস্থায় থাকে, তখন ম্যাচ শেষ করে দেয়। যেমন অতীতে বেনফিকার সঙ্গে থাকার সময় সে আমাকে শেষ করে দিয়েছিল।’
ইন্টারের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের আক্রমণাত্মক অবদান সীমিত থাকলেও রক্ষণে তার পরিশ্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। নয়বার বল পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি। মরিনহোর কাছে আপাতত এই পরিশ্রমই গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ না তিনি ভিনিসিয়ুসের আরও ভয়ংকর সংস্করণটি বের করে আনতে পারেন।
তার ভাষায়, ‘যখন সে রক্ষণ করতে পারেনি, সেটা ক্লান্তির কারণে। তবে ম্যাচে সে খুব ভালো চেষ্টা করেছে। আমাকে সেটার মূল্যায়ন করতেই হবে। আমি যে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পেয়েছি, তাকে নিয়ে আমার অনেক সম্মান আছে। সময় আসবে, যখন সে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।’
ইন্টারের বিপক্ষে জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়েছে। এর আগে লা লিগায় রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা। চলতি মৌসুমে সেটিই ছিল প্রথম হার। আজ শনিবার রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে নামবে রিয়াল। শীর্ষে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সঙ্গে লড়াইয়ে থাকতে হলে আর পয়েন্ট হারানোর সুযোগ নেই। আর সেই দৌড়ে ভিনিসিয়ুসের সেরা রূপটিই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।









