দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব বেশি সময় নেননি। জার্মান জাতীয় দলে নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। সাবেক লিভারপুল কোচের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে দলের দৈনন্দিন রুটিন। শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও দলীয় সংহতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক নতুন নিয়ম চালু করেছেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ।
জার্মানির কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করেছেন ক্লপ। আসন্ন নেশনস লিগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে এরই মধ্যে দলের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন তিনি। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য ও মনোযোগ বাড়াতে বেশ কিছু শৃঙ্খলাজনিত নিয়ম চালু করেছেন অভিজ্ঞ কোচ।
ক্লপের নতুন নিয়মগুলো তার পূর্বসূরি হুলিয়ান নাগেলসমানের সময়কার কিছু ব্যবস্থার তুলনায় বেশ আলাদা। জার্মান দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও পেশাদার পরিবেশে নিয়ে যেতে চান ক্লপ। তার লক্ষ্য, পরবর্তী আন্তর্জাতিক চক্রের আগে দলের ভেতরে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি তৈরি করা।
সবচেয়ে দ্রুত যে পরিবর্তনটি চোখে পড়েছে, সেটি দলের খাবারের সময় নিয়ে। নাগেলসমানের সময়ে খেলোয়াড়দের রাতের খাবারের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা ছিল। সাধারণত সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে খেলোয়াড়রা ধীরে ধীরে ডিনারে যোগ দিতেন। ক্লপ এসে সেই নিয়ম বদলে দিয়েছেন। এখন পুরো দলকে নির্ধারিত সময়ে একসঙ্গে ডাইনিং হলে উপস্থিত হয়ে খাবার টেবিলে বসতে হবে।
শুধু খাবারের সময়েই নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করেছেন ক্লপ। ম্যাচের দিন প্রস্তুতিমূলক সেশনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। জিম কিংবা চিকিৎসার টেবিলে থাকার সময়ও এর আওতায় পড়বে। প্রস্তুতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি মাঠ ও দলের দিকে মনোযোগী রাখতে চান জার্মান কোচ।
আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তৈরি হওয়া নানা ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেডিকেল ও প্রস্তুতিমূলক জায়গা থেকে মোবাইল সরিয়ে দিয়ে খেলোয়াড়দের পরস্পরের সঙ্গে এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে বেশি যোগাযোগে উৎসাহিত করতে চান ক্লপ। ক্লপের বিশ্বাস, প্রস্তুতির এই ছোট ছোট সময়গুলোই দলের মধ্যে প্রয়োজনীয় ‘টিম স্পিরিট’ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখানেই শেষ নয়। দলের ক্যাম্পে আসার আগেই খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি শেষ করে আসার নির্দেশনাও দিয়েছেন ক্লপ। তার চালু করা তুলনামূলক অদ্ভুত একটি নিয়ম হলো জাতীয় দলের হোটেল কিংবা অনুশীলনকেন্দ্রে পেশাদার হেয়ারকাট করা যাবে না।
এই নিয়মের পেছনেও ক্লপের যুক্তি বেশ সরল। তার চোখে জার্মান জাতীয় দলের ক্যাম্প একটি পেশাদার কর্মক্ষেত্র। সেখানে সময়ের মূল উদ্দেশ্য হবে ফুটবল। ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা প্রশাসনিক কাজগুলো খেলোয়াড়দের নিজেদের সময়েই শেষ করে আসতে হবে।








