অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লায় একরাতে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাছাই শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার সব থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানা এলাকার সেসব স্থানে বখাটেদের উৎপাত রয়েছে সেসব স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এই অভিযানে আটকদের পূর্বের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে তার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিম খুনের ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আবারও আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই পুলিশ এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
এদিকে বুধবার রাতে আটকদের মধ্যে ১৭ জন কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার কক্ষের দরজা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের লুৎফুর রহমান বলেন, একই কক্ষে অতিরিক্ত মানুষ হয়ে যাওয়ায় এমন বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। তবে যারা গিয়েছিল তাদেরকে লোকজন আবার ধরে এনে ফেরত দিয়ে গিয়েছে।
একইসঙ্গে অনেককে আটক করায় সাধারণ মানুষ থানায় ভিড় করে কারণ জানতে চায় এবং হট্টগোল তৈরি হওয়ার সুযোগে এমন ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।









