এই পরাজয়ের দায় কার?

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০০:৪৬, নভেম্বর ০৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২০, নভেম্বর ০৭, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুখেলায় জয় পরাজয় থাকবেই। অপ্রত্যাশিত ফলাফল হওয়াটাও মোটেই নতুন কিছু নয় ক্রিকেটে। এক দিনের ম্যাচে অঘটন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। কিন্তু টেস্ট ম্যাচে একটি ইনিংস খারাপ করলে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য অভিজ্ঞ দলের পারদর্শিতা দেখানোর সুযোগ থাকে যথেষ্ট। তবে আজ জিম্বাবুয়ে তেমন কোনও সুযোগই দেয়নি। তাদের চমৎকার বোলিং ও জেতার দুর্দান্ত আকাঙ্ক্ষার কাছে উদ্বোধনী জুটি বাদে কোনও ব্যাটসম্যান ভালো জুটি বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। দিনের প্রথম সেশনেই তাদের ব্যাটিং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বাকিটা ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

এত বড় ব্যবধানে এই ম্যাচ হারতে পারি তা আমার জাগ্রত জগতের হিসাবে ছিল না। আমাদের যে দল ছিল, সেখান থেকে সেরা ১১ জন নির্বাচন করতে না পারার বড় ব্যর্থতা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের বা বিসিবির। দলের বোলিং আক্রমণে বাড়তি পেস বোলারকে না নেওয়া, অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমানকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার কী ব্যাখ্যা দেবেন টিম ম্যানেজমেন্ট! জিম্বাবুয়ে আমাদের চেয়ে পিচের সম্ভাব্য আচরণ অনেক ভালো অনুধাবন করতে পেরেছে। দলে দুজন পেস বোলার খেলিয়েছে এবং চতুর্থ ইনিংসে তাদের দুর্দান্ত বোলিং সবার নজর কেড়েছে। উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের পেস ও স্পিন বোলিং ইউনিট পুরো টেস্টেই একে অন্যকে সহায়তা করেছে।

তবে বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে জিম্বাবুয়ের বোলিং মোটেও অভিজ্ঞ বা ভয়ানক কিছু নয়। প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটসম্যানদের শোচনীয় অ্যাপ্রোচ ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে দর্পচূর্ণ হয়েছে। চতুর্থ দিনে পিচ বাড়তি বাউন্স ও স্পিন নিয়ে বোলারদের অবশ্যই সাহায্য করেছে এবং নিজেদের খনন করা খাদে আমাদের ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা হয়ে আউট হয়েছেন। ম্যাচে টস জেতার নিশ্চয়তা নেই বলেই এমন পরিস্থিতিতে লড়াই করার কৌশল একজন টেস্ট ব্যাটসম্যানের জানা থাকতে হবে এবং অনুশীলনে তার প্রস্তুতি এমন পিচে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ নিয়েছিল কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

একদিনের সিরিজে নাজমুল হোসেন শান্তকে না খেলিয়ে টেস্ট ম্যাচে খেলানোর সিদ্ধান্ত মোটেও ভালো হয়নি। দুরদর্শিতার অভাব কত বড় একটু ব্যাখ্যা করি। যদি শান্তকে টেস্ট খেলানোর ভাবনা আগে থেকেই থাকত তবে তৃতীয় ওয়ানডের ফ্ল্যাট পিচে সৌম্যর জায়গায় শান্তকেই খেলানো উচিত ছিল। দ্বিতীয়ত মিঠুন যখন জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ওয়ানডেতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেললেন, তখন তাকেই ৫ নম্বরে টেস্টে খেলানো বেশি যুক্তিসঙ্গত হতো। ওপেনার শান্তকে ‍দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৪ ও ৫ নম্বরে ব্যাট করানোর কোনও যুক্তি খুঁজে পাই না। তার পাশাপাশি দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিককে চার নম্বর থেকে ছয় নম্বরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে কীভাবে গৃহীত হয় ভাবতেও অবাক লাগে। মুশফিক উপরে ব্যাট করলে একপ্রান্ত থেকে উইকেট পড়া ঠেকাতে পারতেন ও তার সঙ্গে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিতে পারতেন।

ঘরের মাঠে স্পিনিং পিচ বানিয়ে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডকে হারালেও প্রকৃত টেস্ট ম্যাচের পিচে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানরা বঞ্চিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাটিং কৌশলের উন্নয়নেও যত্নশীল ছিলেন না বলে এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানো বা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ দেখা গেল না।

মুমিনুল হকের এখন টেস্ট খেলোয়াড় ইমেজ ধরে রাখা দায়, তাকে মোটেও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। দলের চাহিদা তিনি মোটেও মেটাতে পারেননি। দলনায়ক মাহমুদউল্লাহ না পারলেন নিজে বা না পেলেন সতীর্থদের ব্যাট থেকে কোনও সহায়তা। টি-টোয়েন্টির তকমা লাগানো আরিফুল হক ভালো ও মন্দ বলের বিচার করে ব্যাট করেছেন অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে।

২০০৫ থেকে ২০১১ সাল- ছয় বছর টেস্ট ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা জিম্বাবুয়ে দলকে অভিনন্দন এই ম্যাচ জেতার জন্য। আমাদের দলের ব্যাটিং ব্যর্থতাই আমাদের এই গ্লানিময় পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তবে দলনায়ক তার সেরা একাদশ ও কৌশল নিয়ে এই ম্যাচ খেলতে পেরেছেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আগামীতে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট শতভাগ দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নিয়ে কাজ করছে এটা যেন বাইরে থেকেও পরিষ্কার অনুধাবন করা যায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ডের।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ