সহজ টার্গেট সহজেই ধরা দিলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:০১, নভেম্বর ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৬, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।দু’দলই জানতো খেলার ফলাফল কী হতে যাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের জন্য ম্যাচ ড্র করা মুশকিল; তাই দুই দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য লক্ষ্যটাই ছিলো মূল বিষয়। জিম্বাবুয়ে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান টেলর উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে নিজের প্রতিভার আলো ছড়িয়েছেন।

আজ তাইজুলের জায়গায় মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দ্রুত উইকেট তথা ম্যাচটাকেই শেষ করে দিয়েছেন। শুধু বাঁহাতি নয়, দুজন ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধেও যে ডানহাতি অফস্পিনারেরা কার্যকর হয় তা আজকাল সফলতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। সুযোগ পেয়ে দারুণ আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং নিয়ে ৫ উইকেট খুব সহজেই ১৮ ওভারে তুলে নিলেন তবে দলের ক্লোজ ক্যাচিং ভালো হওয়ায় দ্রুতই তিনি সফলতার মুখ দেখেছেন। একই সঙ্গে পিটার মুরের উইকেটটি ছিলো সবচেয়ে মূল্যবান। তবে একথাও সত্য এমন মানের পিচে এত কম পরিশ্রমে সচরাচর ৫ উইকেট পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে এই সিরিজ স্পিনারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তারাই আক্রমণে দলের মূল ভরসা ছিলেন। তবে তাইজুল যদি ফ্লাইটের ভেরিয়েশনের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করতেন তাহলে মিরাজ এত উইকেট পাওয়ার সুযোগ পেতেন না। টেস্ট ম্যাচে ফ্লাইটেড ডেলিভারির ওপর তাইজুল আরও দখল বাড়াতে না পারলে আসন্ন দুই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা বেশ কষ্টকর হবে।

এই সিরিজে মুমিনুলের ইনিংসটি তাকে নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে তিনি যে পরিমাণ সুযোগ দিয়েছেন এবং চারটি ইনিংসে দর্শক হিসাবে তার ব্যাটিং অনেকেরই দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। নতুন করে তামিমের পাঁজরের পেশীতে টান পড়া সবচেয়ে মাথা ব্যথার কারণ। যতটুকু জেনেছি তার খেলা এখনও নিশ্চিত নয়। তাই উদ্বোধনী জুটি হিসাবে টেস্টে ইমরুল ও লিটন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি এবং দ্রুত ৩ নম্বর ব্যাটসম্যানকে পিচে আসতে হয়েছে। মূলত জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণের বিপক্ষে আমাদের টপ অর্ডারের পরাজয় হয়েছে। টপ অর্ডারকে অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন বলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নইলে সাকিববিহীন মিডল অর্ডারকে বারবার সামাল দেওয়ার কাজটা মুশফিক-রিয়াদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

তামিম ও সাকিবের অনুপস্থিতিতে নতুনদের প্রাপ্ত সুযোগ টপ অর্ডার কাজে লাগাতে পারেনি। যেটা নির্বাচকদের সমস্যা কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে। মিঠুন কোন চাপ না নিয়ে ব্যাট করার সক্ষমতা দেখালেও অতিরিক্ত বাইরের বল তাড়া করার প্রবনতা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করতে না পারলে নিজের ও দলের জন্য বাড়তি বিপদ ডেকে নিয়ে আসতে পারেন।

জিম্বাবুয়ে আমাদের চলমান ম্যাচের মাঝেই নিজেদের উন্নতি আর কোথায় কোথায় করতে হবে তা দেখিয়ে দিয়ে গেছে। তবে সার্বিক ফলাফল বিবেচনায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াদ মাঠে তার কাজটা ভালো ভাবেই পালন করেছেন। এখন  খুব একটা ফুরসত পাচ্ছেন না। সাকিবও অনিশ্চিত থাকায় প্রথম একাদশ নিয়ে এখনই তাকে চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিতে হচ্ছে। কারণ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে এই ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের পর যে একটা বিরতির প্রয়োজন ছিলো সেই জায়গায় এটা খুব তড়িঘড়ি হয়ে গেলো।

তাই বাংলাদেশের থিংক ট্যাঙ্ককে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ কোন পিচে খেলবে সেই বিষয়টি পরিষ্কার থাকা উচিত। স্পিন সহায়ক, পেস বোলিং সহায়ক নাকি আদর্শ? এটা জানা থাকলে সেই আন্দাজে কোচ তার দলের রণ কৌশল ঠিক করতে পারবে। কারণ দুটো সিরিজের মাঝখানে একটু বিরতি প্রয়োজন ছিলো। এই সময়ে টপ অর্ডারেও ঘাটতি রয়ে গেছে। তাই এই বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকলে কোচ যে স্বল্প সময় পাচ্ছেন অনুশীলন করার সেই সময়ে মাঠে যেটা ঘটবে তার প্রস্তুতিটা তারা নিতে পারবে।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ