পাড়ার ক্রিকেটে ব্যাটিং না পাওয়া মাহমুদুলের বিশ্বমঞ্চে সেঞ্চুরি

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:১০, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৬, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

সেঞ্চুরি করার পথে মাহমুদুলপাড়ার ক্রিকেটে ব্যাটিং পেতেন না অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মাহমুদুল হাসান। সেই মাহমুদুল কি আর জানতেন, তার জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বড় কিছু! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালটা আলোকিত করলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে।

সেই প্রাইমারিতে থাকতে বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঠে ঠিকই যেতেন, কিন্তু এলাকার বড় ভাইয়েরা তাকে বঞ্চিত করতেন ব্যাটিং থেকে। শুধু ফিল্ডিং করে ব্যাটিং করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে বাসায় ফিরে যেতেন। তখন হয়তো একটা জেদই চেপেছিল তার, একদিন বড় ব্যাটসম্যান হয়ে দেখিয়ে দেবেন বড় ভাইদের! শুক্রবার মাহমুদুল তা করে দেখিয়ে দিলেন সেঞ্চুরি তুলে। এই সেঞ্চুরিতে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলেছেন দলকে। যুবাদের মঞ্চে যা করতে পারেননি তামিম, মুশফিক, আশরাফুল ও সাকিবের কেউ!

এমনিতে নিউজিল্যান্ডকে পেলেই জ্বলে উঠেন মাহমুদুল হাসান জয়। শুক্রবার বাংলাদেশের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সামনে পড়েছিল তার প্রিয় প্রতিপক্ষ কিউইরা। গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরে ৬ ম্যাচের সিরিজে একটি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। চতুর্থ ম্যাচে খেলেছিলেন ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। তৃতীয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৯৯ রান, ১ রানের জন্য মিস করেন সেঞ্চুরি। শুক্রবার প্রিয় প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে ফের জ্বলে উঠলেন, করলেন সেঞ্চুরি। তাতে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখালেন।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের দেওয়া মামুলি ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাহমুদুল খেলেছেন ১০০ রানের ইনিংস। ১২৭ বলে ১৩ চারে মাহমুদুল অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন।

ব্যক্তিগত অর্জনে আরও কিছু আছে মাহমুদুলের। দক্ষিণ আফ্রিকাতে যুব বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে এক ক্যালেন্ডারে ৯১৫ রান করেছিলেন। শুক্রবার এই সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেছেন এক হাজারি ক্লাবে। এই ম্যাচ শেষে ৩০ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরি ও ৫ হাফসেঞ্চুরিতে তার সংগ্রহ ১ হাজার ১৭৬ রান।

বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতানো এই মাহমুদুলের হয়তো ক্রিকেটারই হওয়া হতো না! যদি না রাঙামাটি বেড়াতে যেতেন! মাহমুদুলের এক আঙ্কেল চাকরি করেন বিজিবিতে, তার পোস্টিং ছিল সেখানে। ১৩ বছর বয়সে মাহমুদুলকে নিয়ে তার বাবা আবুল বারেক রাঙামাটি ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে সেই আঙ্কেলের কাছে ছেলের নামে বিচার দেন মাহমুদলের বাবা, পরবর্তীতে সেই আঙ্কেলই মাহমুদুলকে বিকেএসপিতে ভর্তি করাতে মূল ভূমিকা রাখেন। 

অথচ মাহমুদুলের ব্যাংকার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে পড়ালেখা শেষ করে তার পেশাই বেছে নেবে। বাবার স্বপ্ন কুঁড়িতেই ঝরে পড়ে। বাবার নয়, মাহমুদুল নিজের স্বপ্নের পেছনেই ছুটেছেন, মাতাচ্ছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ