সমর্থক-সংবাদমাধ্যমকে ধৈর্য ধরতে বলছেন ডমিঙ্গো

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:১৩, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৩, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোউপমহাদেশের মানুষদের ক্রিকেটপ্রেমের গল্পটা নতুন নয়। একসময় ছিল ভারত-পাকিস্তান, এখন ক্রিকেট বিশ্বের ‘পোস্টার’ বাংলাদেশের সমর্থকদের উন্মাদনা। দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সেটা উপলব্দি করেন ভীষণ। বাংলাদেশের ভক্তদের প্রত্যাশা আগের চেয়ে যে অনেক বেশি, সেটিও তার জানা। এই পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান বাংলাদেশের প্রধান কোচের।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রশংসা কুড়ালেও টেস্ট ক্রিকেটে এখনও হতাশার ছবিই। বিশেষ করে গত কিছুদিন টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভয়ানক হতাশাজনক। ভারতের পর পাকিস্তান থেকেও ইনিংস ব্যবধানে হেরে ফেরার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিসিবিও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছে ক্রিকেটারদের। যদিও ডমিঙ্গো তার শিষ্যদের পাশেই আছেন।

টেস্ট জিততে পেসারদের বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশ দলে নেই সেই মানের পেসার। যারা আছেন, তারাও অনভিজ্ঞ। বিশ্ব ক্রিকেটে দাপটের সঙ্গে টেস্ট খেলে বেড়ানো পেসারদের সঙ্গে তুলনা করে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘যাওয়ার আগে দুই-একটি বিষয়ে কথা বলতে চাই, যদিও এটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটকে পাগলের মতো ভালোবাসে। দর্শক, সংবাদমাধ্যম— সবার মনোযোগ এখানে অবিশ্বাস্য। তবে সবাইকে বুঝতে হবে এই টেস্ট দলে নাজমুল (শান্ত) ৩ টেস্ট খেলেছে, সাইফ (হাসান) তার দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। (আবু জায়েদ) রাহী, তাকে দেখে মনে হয় ৪০, কিন্তু আসলে মাত্র ৮ টেস্ট খেলেছে। ইবাদত (হোসেন) খেলেছে ৫টি। দলটা খুবই অনভিজ্ঞ।’

একটু দম নিয়ে ডমিঙ্গো আবার বলতে থাকলেন, ‘দলের অধিনায়ক দায়িত্ব নিয়েই ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অধিনায়কের হাতে ১০০-১৫০ টেস্ট খেলা বোলার আছে। (স্টুয়ার্ট) ব্রড খেলেছে ১৩৮, (কাগিসো) রাবাদা খেলেছে ৪৩ টেস্ট, (ভারনন) ফিল্যান্ডার খেলেছে ৬৪ টেস্ট। মিচেল স্টার্ক খেলেছে ৫৭ টেস্ট। সেই তুলনায় বাংলাদেশ খুবই অনভিজ্ঞ টেস্ট দল।’

এরপরই সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বললেন, ‘আমি বলতে চাইছি, সংবাদমাধ্যমকে ধৈর্য ধরতে হবে। নির্বাচকদেরও কিছু ক্রিকেটারদের ওপর ভরসা রাখতে হবে। আমি যে দলের কোচিং করাচ্ছি, এই মুহূর্তে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই সবচেয়ে অনভিজ্ঞ টেস্ট দল, যদি টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা দেখেন। আর আপনারা প্রত্যাশা করছেন, এই দলটি ভারত, পাকিস্তান গিয়ে একদিনের অনুশীলনেই ওদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। সুতরাং, ধৈর্য ধরুন। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের সমর্থন ওদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

কথাগুলো বোঝাতে পারলেন কিনা, সেটা নিশ্চিত হতে আবারও বললেন, ‘আপনারা জানেন, আমি কী বলতে চাচ্ছি। ভালো আমাদের খেলতে হবে, ওরা এটা জানে। তবে কিছু সময় দরকার, বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিযোগিতা করতে। সুতরাং ধৈর্য ধরুন। ওরা আপনাদের গর্বিত করবে, কিছু সময় দরকার এই যা।’

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ