নিউইয়র্কে খুব ভয়ে আছেন মারুফরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৯, এপ্রিল ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪০, এপ্রিল ০১, ২০২০

খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে কোচ মারুফ (বাঁয়ে)নিউইয়র্কে বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসনহাইটসে আর আগের মতো আড্ডা নেই। ভিড় নেই। শুনশান। করোনাভাইরাস এসে সেখানকার জীবনযাত্রাই থমকে দিয়েছে। এমনই অবস্থা যে সেখানে বাসার বাইরে বের হতেই সবাই ভয় পাচ্ছেন।

ভয় পাওয়ার কারণও আছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৮৯ হাজার ৬১৮ জন। এরমধ্যে চার হাজার ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর হার নিউইয়র্কেই বেশি।  চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন সাত হাজার ১০৯ জন। এছাড়া সেখানে বাংলাদেশির মারা গেছেন ৩৫ জন। শুধু নিউইয়র্কেই মারা গেছেন ৩১ জন!

তিন বছর ধরে সেখানে স্থায়ীভাবে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক মিডফিল্ডার মারুফ আহমেদ। কিছুদিন আগেও যার সময় কেটেছে স্কুলের বাচ্চাদের ফুটবল শেখাতে, সেই তিনি এখন ঘরে বন্দি! আগে যেখানে সুযোগ পেলে জ্যাকসনহাইটসে গিয়ে কেনাকাটা করতে যেতেন, অন্য প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে যোগাযোগ হতো, এখন সেই জায়গা যেন মৃত্যুপুরী। জরুরি অবস্থার কারণে ঘরের বাইরে বের হন না। প্রয়োজনে পানির বোতল কিনতে যেতেও ভয় পান। এক বিভীষিকাময় অবস্থা।

নিউইয়র্ক থেকে মারফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। কখন কে যে আক্রান্ত হয়! যে নিউইয়র্ক ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকে, সেখানে এখন সবকিছু যেন থমকে গেছে। ঘর থেকে বের হতে পারি না। প্রশাসন থেকে সবাইকে বাসায় থাকতে বলা হয়েছে। হঠাৎ করে যেন করোনা এসে আমাদের সবকিছু পাল্টে দিয়েছে।’

তবে  শুরুতে করোনাভাইরাসকে সেভাবে আমলে নেননি তারা। মারুফের কথায় সব পরিষ্কার, ‘আসলে আমরা যারা এখানে আছি তাদের কাজ নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে জীবনযাত্রা বেশ ব্যয়বহুল। এখানে একদিন বসে থাকলে পিছিয়ে যেতে হয়। এছাড়া দেখা যায় অনেক পরিবার একজনের আয়ের ওপর চলে। তাই শুরুতে আমরা করোনাকে সেভাবে পাত্তা দিইনি। এখন তো তার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের।’

নিউইয়র্কের দি ব্রোঞ্জে থাকেন মারুফ। তার বাসা থেকে তিন বাসা পর একজন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই তারা আরও বেশি আতঙ্কিত, ‘এখানে পুরো লকডাউন। আমার বাসার পাশেই একজন ৫৮ বছর বয়সী বাঙালি করোনাতে মারা গেছেন। এখন তাই আমরাও ভয়ে আছি কে কখন আবার আক্রান্ত হয়। যাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হচ্ছে সবার একই অবস্থা।’

 সবাই ঘরবন্দি। তবে আয় বন্ধ হয়ে গেলেও সরকার থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা পাচ্ছেন সবাই। আগে দেখা যেতো কেউ সপ্তাহে ৫০০ ডলার আয় করতো, এখন সবার কাজ বন্ধ। তাই বেকার ভাতা ৩০০ ও দুর্যোগ ভাতা পাচ্ছেন আরও  ৬০০ ডলার। ট্রাম্প প্রশাসন সবরকমের সহযোগিতাই দিচ্ছে।

মারুফ বলেছেন, ‘আমরা মোটেও ভালো নেই। যদিও আমাদের আয় বন্ধ হয়ে গেলেও সরকার পর্যাপ্ত সুবিধা দিচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে তা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যখন বলছে, যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরও লক্ষাধিক মানুষ মারা যেতে পারে, তখন নিজেদের কাছে আরও খারাপ লাগছে। আমি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে এখানে আছি। এখন আল্লাহ সহায়। জানি না কবে এই  দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাবো।’

 

 

 

/টিএ/পিকে/

লাইভ

টপ