টেন্ডুলকারের চেয়ে রোহিত শর্মা ভালো!

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৫৫, মে ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০২, মে ০৯, ২০২০

রোহিত শর্মা ও শচীন টেন্ডুলকাররেকর্ডের জন্মই হয় ভেঙে যাওয়ার জন্য। কোনও একদিন শচীন টেন্ডুলকারের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে। ভারতীয় কোনও উত্তরসূরিই হয়তো রেকর্ডের পাতায় তার নামটা নিচে নামিয়ে দেবে। অনেকে বিরাট কোহলির মধ্যেই সেই সম্ভাবনা দেখেন। ইদানীং ৫০ ওভারের ক্রিকেটের কথা বললে রোহিত শর্মার নামও উচ্চারিত হয়।

সাবেক কিউই ফাস্ট বোলার সাইমন ডুল রোহিত শর্মার দারুণ ভক্ত। কদিন আগে নিজের সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হিসেবে রোহিতের নাম বলেছেন। দিন যত যাচ্ছে, ততই যেন রোহিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন এই ক্রিকেট ভাষ্যকার। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় ওপেনারকে পরোক্ষে ভারতের ‘ক্রিকেট দেবতা’ শচীন টেন্ডুলকারের চেয়েও এগিয়ে রাখলেন তিনি।

গত মাসে ডুল ক্রিকবাজকে বলেন, তার সর্বকালের সেরা একাদশের এক নম্বর জায়গাটি দেবেন রোহিতকে। কদিন পর ভারতের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দলের ওপেনার হিসেবেও বেছে নেন তাকে। রোহিতের ব্যাটিংয়ের যে বিষয়টির জয়গান ডুল করেন, সেটি ইনিংসের আদ্যন্ত একই গতিতে তার ব্যাট করে যাওয়ার সামর্থ্য, যা টেন্ডুলকারের মধ্যেও দেখেননি।

‘স্ট্রাইক-রেট ক্রমশ বাড়িয়ে নেয় সে- ৬০,৭০,৮০… আপনি কখনও দেখবেন না রোহিত শর্মা ৯০-এর ঘরে গিয়ে খুব বেশি সময় আটকে আছে অথবা ৯০-এর ঘরে গিয়ে সংগ্রাম করছে। সে এক বিস্ময়কর খেলোয়াড়’- আইসিসির ক্রিকেট ইনসাইড আউটে বলেছেন ডুল।

এই ‘নড়বড়ে নব্বই’ রোগটা কিন্তু ভালোই ছিল টেন্ডুলকারের। শুধু ২০০৭ সালেই  নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়েছিলেন সাতবার, ৯৯ রানে তিনবার। সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকলেই মন্থর হয়ে পড়তেন। সত্যিটা বললে, টেন্ডুলকারের শততম সেঞ্চুরি, যেটি বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ২০১২ এশিয়া কাপে, ওটা ছিল তার দ্বিতীয় মন্থরতম সেঞ্চুরি ইনিংস। ১০২ বলে ৮০ রান করেছিলেন, বাকি ২০ রান করতে খরচ হয় ৩৬ বল। সমালোচকেরা বলেন, টেন্ডুলকারের মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণেই ভারত স্কোরবোর্ডে প্রত্যাশিত রান জমা করতে পারেনি, শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হয় বাংলাদেশের কাছে।

অন্যদিকে ২০১৯ সালে রোহিত ওয়ানডে ক্রিকেটে শীর্ষ রানসংগ্রাহক, ২৮ ম্যাচে ১৪৯০ রান করেছেন ৫৭.৩০ গড়ে, স্ট্রাইক রেট ৮৯। গত বছর সাতটি সেঞ্চুরিই করেছেন ভিন্ন ভিন্ন দলের বিপক্ষে। ওয়ানডেতে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির বাইরে ১৫০ থেকে ২০০ রানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইনিংস খেলার রেকর্ডও তার-পাঁচটি। ডুলের তথ্য-উপাত্ত ভুল কিছু বলে না।

`ভারতে ব্যক্তিগতভাবে আমি হয়তো তোপের মুখে পড়েছি, কারণ আমি তাকে (রোহিত) নাম্বার ওয়ান বলেছি, সর্বকালের সেরা ভারতীয় দলে নিয়েছি এক নম্বর ওপেনার হিসেবে। তবে এ নিয়ে আমার কোনও সংশয় নেই। আমি দু:খিত, কিন্তু আপনি পরিসংখ্যান ও অঙ্কের দিকে তাকান। তার গড় ৪৯। স্ট্রাইক রেট ৮৮। শচীনের গড় ৪৪, স্ট্রাইক রেট ৮৬’-বলেছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার।

গত ৩০ এপ্রিল ৩৪ বছরে পড়েছেন রোহিত। এই সময়ে টেন্ডুলকারের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক ম্যাচ (২২৪) খেলে ২৯ সেঞ্চুরি ও ৪৩টি ফিফটিসহ ৯১১৫ রান করেছেন। মুম্বাইয়ের বিখ্যাত পূর্বসূরিকে ছুঁতে কিংবা পেরোতে যথেষ্টই সময় পাচ্ছেন। দেখা যাক, সবকিছুতেই টেন্ডুলকারকে তিনি রেকর্ডের পাতা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন কি না। যে রেকর্ড ক্রিকেটের গ্রহটিতে আর কারও নেই- ৪৬৩ ম্যাচ, ৪৯ সেঞ্চুরি (যার একটি ডাবল, ওয়ানডে ক্রিকেটেরই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি) ও ৯৬টি ফিফটিসহ ১৮৪২৬ রান।

/পিকে/

লাইভ

টপ