কবে ক্রিকেট ফিরবে মাঠে, দিন গুনছেন ক্রিকেটাররা

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৩:১৬, মে ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:১২, মে ২৯, ২০২০

গত ১৫ মার্চ শুরু হয়েছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়ে যাওয়ায় লিগ শুরুর দুইদিনের মাথায় এক রাউন্ড শেষেই তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে করোনার বিরুদ্ধে সতর্কতার অংশ হিসেবে সরকার দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করে পুরো দেশকেই অলিখিতভাবে লকডাউন করে ফেলে। দফায় দফায় বাড়তে থাকে ছুটি। সরকার ছুটি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে গতকাল, ‘লকডাউন’ উঠে যাচ্ছে, যদিও সংক্রমণের হার কমছে না। এ অবস্থায় ক্রিকেটের মাঠে ফেরা কিংবা না-ফেরা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই মনে করছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রিকেট শুরু করা উচিত। বিসিবিও ভাবছে কী করা যায়। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পুরো বিশ্বের ক্রিকেটাঙ্গনই স্থবির। কিছু কিছু দেশে ক্রিকেট শুরুর চেষ্টা চলছে। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন শুরু করেছেন। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দল অনুশীলন শুরু করবে। আইসিসি গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে সত্যিই কি ক্রিকেটে ফেরা সম্ভব? বাংলা ট্রিবিউন কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু করার পক্ষেই মত পাওয়া গেছে বেশি। দু’একজন মুখে যদিও স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রসঙ্গটা উঠেছে বড় হয়ে।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের  শামসুর রহমান মনে করেন দ্রুতই খেলাটা শুরু হওয়া উচিত, ‘ সাধারণ ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটেরও মাঠে ফেরা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রিকেট খেলায় সমস্যা দেখছি না আমি। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা হয়তো আছে। সেগুলো ভালো একটি সূচির মাধ্যমে সমাধান করা যায়। আশা করি বিসিবি আমাদের জন্য ভালো সিদ্ধান্তই নেবে। আমরা মাঠে ফিরতে উন্মুখ। চাই প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হোক।’

শামসুরের সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স খেলোয়াড় মুমিনুল হক। তিনি মনে করেন আরও দুইমাস পর ক্রিকেট শুরু করা উচিত, ‘যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে অন্তত আরও দুই মাস অপেক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে। এখন তাড়াহুড়ো করে শুরু করলে ঝুঁকিটা বাড়বে। সংক্রমণ বেড়ে গেলে পরিণতি খারাপের দিকেই যাবে। এখন যদি কিছুদিন কষ্ট করি তাহলে আমাদের জন্যই ভালো হবে। তারপরও বিসিবি আছে, আইসিসি আছে। তারা আমাদের ক্রিকেটার ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে যখনই ক্রিকেট শুরু হোক, সেটা যেন প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই শুরু হয়।’

আবাহনীর নাজমুল হোসেন শাস্তর যুক্তি, ‘করোনাভাইরাস তো যাচ্ছে না, ফলে চাইলেই কিন্তু আরও ৬ মাস বসে থাকা যাবে না। আইসিসি ও বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা যে  স্বাস্থ্যবিধি দেবে, সেগুলো মেনে খেলা শুরু করে দেওয়া উচিত। কেননা আমাদের অনেকের রুটি-রুজি এই ক্রিকেট। অনেকেই এই ঘরোয়া ক্রিকেটের দিকে তাকিয়ে থাকে।’

শান্তর সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রাইম ব্যাংক ক্লাবের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনও খেলা শুরুর পক্ষে কথা বলেছেন, ‘গার্মেন্টস, বাজার, লোকাল টান্সপোর্ট এসবে মানুষের যে ভিড় হয়, তার চেয়ে ক্রিকেট অনেক নিরাপদ। ক্রিকেটে উদযাপন ছাড়া ক্লোজ  অন্য কিছু তেমন নেই। বলে থুতু দেওয়া, উদযাপন, বিভিন্ন জিনিস শেয়ার করা- এসব বাদ দিলে আমি মনে করি ক্রিকেট শুরু করা যায়। আইসিসি ও বিসিবি যদি আমাদের কিছু নিয়ম দিয়ে দেয়, আমরা সেগুলো মেনে চললাম। সমস্ত পৃথিবী যখন স্থবির ছিল তখন ক্রিকেট বন্ধ ছিল, ঠিক আছে। এখন যেহেতু সব কিছুই শিথিল কর, ক্রিকেট না ফেরানোর কোনও কারণই আমি দেখি না।’

আবাহনীতে নাম লেখানো টেস্ট দলের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ক্রিকেট ফেরা নিয়ে কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছেন, ‘ক্রিকেট মাঠে ফেরাও দরকার আবার করোনার ভয়ও আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি। আমি মনে করি বিসিবি ও আইসিসি ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের জন্য ভালো হয়, এমন সিদ্ধান্তই নেবে। আমরাও চাই ক্রিকেট মাঠে ফিরুক। আর কতদিন এভাবে বসে থাকা যায়। তবে অবশ্যই ফেরাটা যেন ঝুঁকিমুক্ত হয়।’

প্রাইম দোলেশ্বর ক্লাবের ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুবও আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পক্ষে, ‘আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত। তবে আমাদের অনেকের রুটি-রুজি যেহেতু ক্রিকেট, সমস্যা তো আমাদের হচ্ছেই। তারপরও আগে বেঁচে থাকা। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে তবেই মাঠের ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।’

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের রুবেল হোসেন ঝুঁকিমুক্তভাবে ক্রিকেট মাঠে ফেরানো যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে বলেছেন, ‘করোনা খুব দ্রুত যাবে না, এটা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে। এই অবস্থায় সরকারও সবকিছু শিথিল করছে। আমাদের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের রুটি-রুজি ঘরোয়া ক্রিকেট। সেটা দীর্ঘদিন বন্ধ। এই অবস্থায় বিসিবিকে আমি বলবো না যে কাল থেকেই ক্রিকেট শুরু করেন। তবে এতটুকু বলতে চাই, ক্রিকেট চালু করা যায় কি না, সেটা নিয়ে তারা যেন ভাবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা মাঠে ফিরতে চাই।’

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ক্রিকেটার ইমরুল কায়েসের মতে ক্রিকেটারদের স্বার্থেই মাঠে ক্রিকেট ফেরানো উচিত, ‘অবশ্যই ক্রিকেট ফেরানো উচিত। করোনার কারণে থেমে থাকলে চলবে না। দিনশেষে সবাইকেই পরিবার চালাতে হবে। ক্রিকেটারদেরও পরিবার আছে। সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করা গেলে দ্রুতই ক্রিকেট ফেরানো উচিত। ঘরোয়া ক্রিকেটে এত দর্শকও হয় না। নিশ্চিতভাবেই ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করা যায়।’

 ঢাকা ক্রিকেট লিগ আয়োজক সিসিডিএমের সমন্বয়কারী আমিন খান জানিয়েছেন আগামী ১৫ জুনের আগে লিগ শুরু হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।  তার কথা, ‘১৫ তারিখের আগে শুরুর কোনও সম্ভাবনাই নেই। আমাদের লকডাউন মাত্র শেষ হচ্ছে। তারপরও আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমরা দেখবো। আগামী শনিবার বিসিবির বিভিন্ন বিভাগের ম্যানেজারদের মিটিং আছে, সেখানেও আলোচনা হবে।’

আইসিসির গাইডলাইন ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিধি মেনে ক্রিকেট চালু করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে আমিন খান বলেছেন, ‘আইসিসির গাইডলাইন আছে। সরকারের সুরক্ষাবিধি আছে। সেগুলো মেনেই আমাদের খেলা শুরু করতে হবে। এটা করাটা যথেষ্ট কঠিন। করোনা এখনও মহামারির পর্যায়ে আছে। এজন্য আমাদের সবদিক বিবেচনা করে মাঠে নামতে হবে।’ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও ফিটনেসের বিষয়টির ওপরও জোর দিচ্ছেন আমিন খান, ‘দুই মাসের উপরে লিগ বন্ধ। হুট করে খেলোয়াড়দের বলতেও পারবো না পরশু খেলা। খেলোয়াড়দের এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন সময় দিতে হবে প্রস্তুতির জন্য। এর বাইরে আরও একটি সমস্যা, যদি কেউ অনুশীলনের মধ্যে আক্রান্ত হয়। তাকে নিরাপদ রাখতে হবে। এটা এমন এক পরিস্থিতি যে দুজন পজিটিভ হলেও বাকিদের কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। পাশাপাশি ঝড় বৃষ্টিও আছে।’

 

/আরআই/পিকে/

লাইভ

টপ