অলিম্পিক গেমস আগেও আয়োজন করেছে ফ্রান্স। এ নিয়ে তৃতীয়বার গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থের সাক্ষী হচ্ছে প্যারিস। বরাবরের মতোই আয়োজনে কমতি রাখেনি ভালোবাসার শহরটি। এবার গেমস ভিলেজ অর্থাৎ সব ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা থেকেছেন একই এলাকার ছায়াতলে।
প্যারিসরের প্রাণকেন্দ্র থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে সেন্ট ডেনিসে তৈরী করা হয়েছে সুসজ্জিত গেমস ভিলেজ। যেখানে জায়গা হয়েছে গেমসে অংশ নেওয়া দশ হাজার ক্রীড়াবিদ, কোচ কর্মকর্তাদের।
একটি লেকের দুই পারে নতুন ভবনগুলো যেন নানান দেশের পতাকায় রঙিন দেখাচ্ছিল। যাদের বহর বড় তারা এক ভবনে থাকছেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্র,চীন কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো। আবার যাদের বহর ছোট তারা কয়েকটি দেশ মিলে এক ভবনে রয়েছেন।
বাংলাদেশের ভবনের নম্বর ছিল-২২। এই ভবনে আরও আছে আলবেনিয়া, উজবেকিস্তান ও চিলি। ভবনের দুটি ফ্লোরে চারটি করে আটটি রুমে পেয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় তলায় ছিলেন কোচ, কর্মকর্তারা আর দ্বিতীয় তলায় খেলোয়াড়রা। প্রতি ভবনের নিচ তলায় প্রশাসনিক কক্ষ।
খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তার বাইরে অন্য কারও গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন থাকলেও ভিলেজে ঢোকার অনুমতি নেই। একদিন আগে আবেদন করে ঢুকতে হয় গেমস ভিলেজে। সেই সকল আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে একদিন দুপুরে ভিলেজে প্রাঙ্গণে পা রাখতেই দেখা গেলো চারদিকে অলিম্পিক গেমসের ট্র্যাকসুট পরা খেলোয়াড়, কোচসহ অন্যরা।
কয়েক একর জায়গা নিয়ে হয়েছে ভিলেজ। গরমে হাঁটা দায়। তাই ভিলেজের মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট শাটল। সেই শাটল গাড়িতে করেই এক জাগয়া থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন ক্রীড়াবিদরা।
শুধু ফুটবল, সার্ফিং, শুটিং ও আরও কয়েকটি খেলা প্যারিসের বাইরে হচ্ছে। ওই খেলোয়াড়রা শুধু ওই শহরগুলোর ভিলেজে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে থাকছেন নানা দেশের নানা ক্রীড়াবিদ। আবাসনের দিকে গেলেই প্রথমে নজর কাড়বে জায়ান্ট আমেরিকা। ৭ তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিংয়ের পুরোটাই আমেরিকান কন্টিনজেন্টের জন্য। যার নিচ তলা পুরোটাই ফাঁকা। একপাশে জিম আর অন্যপাশে কর্মকর্তারা বসে কাজ করছেন। ভবনের সামনেই দেখা গেলো আমেরিকার বেশকিছু অ্যাথলেটকে।
আমেরিকা ছাড়াও চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডও আলাদা ভবনে থাকছেন। প্রত্যেকটি ভবন সাজানো হয়েছে দেশের পতাকা দিয়ে। ভিলেজে পাঁচটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে ভবনগুলো। বাংলাদেশ পড়েছে ‘ই’ ব্লকে। ভবটির সামনে যেতেই চোখে পড়লো বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
‘ই’ ব্লকে ঢুকতেই চোখ কাড়বে রিফিউজি দল। চার তলা বিল্ডিংয়ের পুরোটাই রিফিউজি দলের জন্য। আবাসনের মাঝে রয়েছে ডাইনিং। সবাই যেন এক সঙ্গে খেতে পারে তারই ব্যবস্থা। সেখানে যেতে আবার দুই ধারে সব দেশের পতাকা টানানো। আবাসন ভিন্ন ভিন্ন ব্লকে হলেও ডাইনিং রয়েছে মাঝের এক জায়গায়। সেখানে যেতে আবার রাস্তার দুইধারে সব দেশের পতাকা আকাশের দিকে মুখ করে আছে। ভিলেজে একেক দেশের খাদ্যাভ্যাস একেক রকম। তাই সুবিশাল ডাইনিংয়েও রয়েছে আসিয়ান, সাউথ এশিয়ান, আফ্রিকান, ভেজ-নন ভেজ নানা ব্লক। আছে হালাল কর্ণার।
ক্রীড়াবিদদের জন্য ভিলেজে রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা। খেলোয়াড়, কোচদের জন্য রয়েছে গেমিং জোনও। ভিলেজে কয়েকটি জায়ান্ট স্ক্রিনও রয়েছে। সেখানে খেলা দেখেন অনেকেই। ভিলেজে স্যামসাংয়ের সুভ্যেনির শপ রয়েছে। সেই শপ থেকে অ্যাথলেট ও দর্শনার্থী যে কেউ সুভ্যেনির কিনতে পারেন।
প্যারিস ও প্যারা অলিম্পিককে সামনে রেখেই তৈরী করা হয়েছে এই গেমস ভিলেজ। ১০০টির অধিক ভবন রয়েছে সেখানে। যা এরইমধ্যে বিক্রি করেছে দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। দুটি গেমস শেষে বুঝে নিবেন ক্রেতারা।
এই ভিলেজকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাও কড়াকড়ি। গেমসের নির্ধারিত বাস কিংবা গাড়ি ছাড়া অন্য কিছু এই জোনে ঢোকার অনুমতি নেই।
সেখানকার এক বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ আমিন নিজেই বললেন, ‘আমি ওই এলাকায় থাকি। ভিলেজ আমার বাসার পাশেই। জায়গাটা বেশ সুন্দর দেখতে। আমাদের আসতে যেতে কিছু টা সমস্যা হয়। তবে অলিম্পিকের জন্য সবকিছু মেনে নিতে হচ্ছে। ’
প্যারিসের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা কোনওভাবেই যায় না। তবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মুন্সিগঞ্জে বড় এলাকা জুড়ে গেমস ভিলেজ করতে চেয়েছিল। মাঝে তোরজোর কম হয়নি। তবে সেটা ওই পরযন্তই।








