গল টেস্ট ড্র করতে হলে বাংলাদেশকে রেকর্ড গড়তে হতো। কিন্তু প্রথম সেশনের প্রথম ওভারেই ওপেনিং জুটি ভেঙে গেলে প্রাথমিক ধাক্কা খায় তারা। শনিবার সকালে প্রথম এক ঘণ্টায় ৩৭ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারায় তাদের টপ অর্ডার ৫ ব্যাটসম্যানকে। এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে হতাশাই ঝরেছে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মুশফিকের কণ্ঠে।
গল টেস্টে ড্রয়ের কোনও আশা কী ছিল ?
মুশফিক: হ্যা। আমাদের ওই রকম একটা আশা ছিল। কারণ শুক্রবার ওপেনাররা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। পঞ্চম দিনের প্রথম এক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা ভালো কিছু করতে পারিনি। প্রথম পাঁচজন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলার পর কাজটা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ আর জেতা যাবে না যখন এটা বোঝা যায় এবং প্রতিপক্ষ লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বোলিং করে যায়, তখন সব কিছু আরও কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও আমাদের আশা ছিল। কিন্তু আজ দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলার কারণেই ম্যাচ হেরে আমাদের চড়া মূল্য দিতে হলো।
এই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি?
মুশফিক: সৌম্য দুই ইনিংসেই ভালো ব্যাটিং করেছে। তামিমও ভালো ব্যাটিং করেছে। বোলিংটা ঠিকই ছিলো। যদিও এটা বলা যায় যে, বোলারদের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। অবশ্য উইকেট ফ্লাট ছিল। সব মিলিয়ে আমাদের যেমন পরিকল্পনা ছিল, তা আমরা প্রয়োগ করতে পারিনি। সব মিলিয়ে আমরা তিন বিভাগেই শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাজে খেলেছি। শ্রীলঙ্কাই এই ম্যাচটা জয়ের যোগ্য দাবিদার।
ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা ঠিকঠাক ছিল কিনা?
মুশফিক: মানসিক অবস্থা ঠিকঠাক না থাকলে একটা বলেই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যেতে পারে। আমাদের ব্যাটসম্যানদের মানসকিতা আমাকে হতাশ করেছে। শুক্রবার আমাদের আশাটা খুব ভালো আশা ছিল। সৌম্য-তামিম দারুণ জুটি গড়েছে। আমরা ভেবেছিলাম প্রথম সেশনটা যদি আমরা কম উইকেট হারাই ও টিকে থাকতে পারি তাহলে আস্তে আস্তে আমরা ড্র’র দিকেই এগিয়ে যেতে পারব। সেটা আমরা পারিনি। এটা আমাদের জন্য বড় একটা ব্যর্থতা।
সৌম্যর ৪৯ বলে ৫৩ রান, এটা কীভাবে ভালো ব্যাটিং?
মুশফিক: প্রতিপক্ষ যখন দেখবে আমাদের জয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই, তখন কিন্তু নানাভাবে আক্রমণ করবে। এ অবস্থায় ধীরেসুস্থে সারাদিন খেলা খুব কঠিন। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক খেলাটাই খেলা উচিত। তবে অবশ্যই কম ঝুঁকিপূর্ণ শটগুলোই খেলতে হবে। সেদিক থেকে বলব সৌম্য গতকাল (শুক্রবার) মারার বলগুলোই মেরেছে। তবে শনিবার যেভাবে শুরু করেছে সেটা হতাশাজনক। ম্যাচে যারা সুযোগ পাবে, তাদের উচিত দায়িত্ব নিয়ে খেলা। বিশেষ করে উপরের ৫ থেকে ৬ জন ব্যাটসম্যানের উচিত আরও দায়িত্ব নেওয়া। পরের টেস্টে এ রকমই কিছু যেন আমাদের পরিকল্পনা থাকে।
সৌম্য-মুমিনুলের রিভিউ কোনও চাপ তৈরি করে দিয়েছিল কিনা?
মুশফিক: সৌম্য বুঝতে পারেনি ও বোল্ড হয়েছে কিনা। এ জন্যই হয়তো। আর মুমিনুলেরটা বলব ওরা দুজন আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মনে হয়, দুশ্চিন্তার কিছু নয়। তবে টপঅর্ডার যদি দুই তিন ওভারের মধ্যে আউট হয়ে যায়, তাহলে যে কোনও ড্রেসিংরুমেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়ে যায়। টানা উইকেট পড়লে সারা দিন ব্যাটিং করার চ্যালেঞ্জ আসে, সেটা কঠিন। আমাদের কিন্তু টানা উইকেট পড়েছে। এই জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। যাতে নিয়মিত উইকেট না পড়ে।
দলের মনোযোগ নড়ে গেল কীভাবে?
মুশফিক: গত দুইটা সিরিজের কথা বলতে পারি, আজকের মতো খারাপ কিন্তু কোনো ইনিংসে হয়নি। প্রথম ইনিংসে কিন্তু আমরা খারাপ খেলেও ৩১২ করেছি (আসলে ৩১২)।এই একটা ইনিংস যদি বাদ দেন, আমি বলব এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ার কিছু নেই। এটা আমি বলতে পারি, এ রকম অবস্থা আমাদের পেরিয়ে আসতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। মানসিকভাবে আমরা হয়তো উজার করে দিতে পারছি না। দক্ষতা থাকা এক কথা, আর মাঠে প্রয়োগ কিন্তু আরেক কথা। মাঠে যে পরিস্থিতিগুলো আসবে সেগুলোতে যাতে আমরা আরও সুশৃঙ্খল হতে পারি, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
গল টেস্টের একাদশ কী ঠিক ছিল?
মুশফিক: আমরা যদি ড্র করতাম, তাহলে কিন্তু এই প্রশ্নটা আসতো না। এই টেস্টটা কিন্তু বোলিংয়ের কারণে নয়, হেরেছি ব্যাটিংয়ে কারণে। এখানে এতোটা স্পিন ছিল না যে ব্যাটিংয়ে সমস্যা হবে। তবে প্রথম ইনিংসে এতো বেশি পিছিয়ে ছিলাম। তারপর এতো বড় একটা টার্গেট। তো এখানে যে কোনও প্রতিপক্ষ দল অনেক স্বাচ্ছন্দে্য বোলিং করতে পারে। আর শুভাশীষ যেভাবে বল করছিল, ওই নো বলটা (কুশল মেন্ডিসের শূন্য রানে) না হলে আরও দুই একটা উইকেট পড়েও যেতে পারতো।
/আরআই/এফএইচএম/







