ল্যাপটপের অন্যতম বড় সুবিধা হলো চার্জার ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যায়। তবে একবার চার্জ দেওয়ার পর ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। ল্যাপটপের ধরন, ব্যবহারের ধরন এবং ব্যাটারির অবস্থার ওপর নির্ভর করে এর ব্যাকআপে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
সাধারণভাবে আধুনিক একটি ল্যাপটপ একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৪ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। তবে সব ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এই সময় একই নয়।
পাতলা ও প্রিমিয়াম মানের ল্যাপটপ এবং আল্ট্রাবুক সাধারণত তুলনামূলক বেশি সময় ব্যাকআপ দেয়। এসব ল্যাপটপে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া স্বাভাবিক। অনুকূল পরিস্থিতিতে কিছু মডেল ১৫ ঘণ্টার কাছাকাছিও চলতে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ মানের ল্যাপটপে প্রায় ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে। বাজেট ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এই সময় কমে প্রায় ৪ থেকে ৭ ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। গেমিং ল্যাপটপে শক্তিশালী প্রসেসর ও গ্রাফিকসের কারণে ব্যাটারি তুলনামূলক দ্রুত শেষ হয়। এসব ল্যাপটপে ভারী কাজের সময় প্রায় ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যাকআপ পাওয়া স্বাভাবিক।
তবে শুধু ল্যাপটপের ধরনই ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ধারণ করে না। চার্জারও ব্যাটারির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের বা ভুল স্পেসিফিকেশনের তৃতীয় পক্ষের চার্জার ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ ও পাওয়ার সঠিকভাবে না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ল্যাপটপের জন্য নির্ধারিত বা নির্মাতার অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করাই নিরাপদ।
ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর উপায়
কিছু সেটিংস পরিবর্তন করেও ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানো যায়। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও ব্রাউজার ট্যাব বন্ধ করা এবং প্রয়োজন না থাকলে স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট কমিয়ে রাখা যেতে পারে।
এ ছাড়া ল্যাপটপের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট থেকে পাওয়ার-সেভিং বা ব্যাটারি-সেভিং মোড চালু করলে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব। তবে ভিডিও সম্পাদনা, গেম খেলা বা অন্যান্য ভারী কাজের সময় এই মোড কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
কোন কাজগুলোতে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়?
ল্যাপটপে ব্যাটারি খরচের বড় একটি কারণ হলো ভারী কাজ। গেম খেলা, ভিডিও সম্পাদনা, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকস রেন্ডারিংয়ের মতো কাজ প্রসেসর ও গ্রাফিকস প্রসেসরের ওপর বেশি চাপ তৈরি করে। ফলে সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিং বা লেখালেখির তুলনায় এসব কাজে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়।
তাই বাইরে কোথাও গিয়ে ভারী কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই ল্যাপটপ পুরোপুরি চার্জ করে নেওয়া কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত পাওয়ার ব্যাংক বা বিদ্যুতের সংযোগের ব্যবস্থা রাখা ভালো।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখবেন যেভাবে
ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখতে তাপমাত্রার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য প্রায় ৬৮ থেকে ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তুলনামূলক উপযোগী। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে, বিশেষ করে প্রায় ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। আবার প্রায় ৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায় ব্যাটারির কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া নিয়মিতভাবে ব্যাটারি সম্পূর্ণ শূন্য শতাংশে নামিয়ে ফেলা এড়িয়ে চলা ভালো। একইভাবে সব সময় ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় ল্যাপটপকে দীর্ঘ সময় চার্জারে সংযুক্ত করে রাখাও ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ ধরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ ব্যাটারি প্রায় ৪০ শতাংশে এলে চার্জ শুরু করে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি চার্জে থামানো যেতে পারে। তবে এটি কঠোর কোনো নিয়ম নয় এবং সব সময় এভাবে চার্জ দেওয়া সম্ভবও নয়।









