এলজির স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীর অজান্তে আশপাশের ডিভাইসের তথ্য সংগ্রহ, টিভিতে কী দেখা হচ্ছে তা শনাক্ত এবং এমনকি কথোপকথন রেকর্ড করতে পারে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে একটি অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এসব দাবি সামনে আসার পর ১১ সেপ্টেম্বর অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে এলজি।
সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল গেমারস নেক্সাস ও লেভেল১ টেকসের সঙ্গে স্বাধীন নিরাপত্তা গবেষকেরা এলজির খুচরা বাজারের স্মার্ট টিভি পরীক্ষা করে এসব অভিযোগ তোলেন। নেটওয়ার্ক প্যাকেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, টিভি স্থানীয় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে। কাছাকাছি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে এলজি অ্যাড সলিউশন্সে পাঠানোর প্রমাণও পরীক্ষায় পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে উঠে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল টিভির মাইক্রোফোন নিয়ে। পরীক্ষায় দাবি করা হয়, স্ট্যান্ডবাই অবস্থাতেও অডিও রেকর্ড করার সক্ষমতা রয়েছে টিভিটির। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা অবস্থায় রেকর্ড করা অডিও স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত রেখে পরবর্তীতে সংযোগ ফিরে এলে আপলোড হতে পারে বলেও দাবি করা হয় অনুসন্ধানটিতে। একই সঙ্গে ‘অটোমেটিক কনটেন্ট রিকগনিশন’ বা এআরসি প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভিতে কোন কনটেন্ট দেখা হচ্ছে, এমনকি এইচডিএমআই ইনপুটের মাধ্যমে প্রদর্শিত কনটেন্টও শনাক্ত করার বিষয়টি উঠে আসে। গেমারস নেক্সাসের এডিটর-ইন-চিফ স্টিভ বার্কের ভাষ্য, এলজি টিভি কার্যত ‘পরিবারের সবার কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে’। পুরো ব্যবস্থাটিকে তারা ‘অতিরিক্ত অনুপ্রবেশমূলক ও ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেয়।
তবে এসব গুরুতর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে এলজি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টিভি নিয়মিতভাবে ব্যবহারকারীর কথোপকথন রেকর্ড করে না এবং এ ধরনের অডিও কোথাও পাঠানোও হয় না। রিমোটের ভয়েস বোতাম চেপে ধরে ভয়েস কমান্ড দিলে, অথবা ‘ফার-ফিল্ড ভয়েস রিকগনিশন’ চালু থাকা অবস্থায় ‘হাই এলজি’ ওয়েক-ওয়ার্ড শনাক্ত হলেই কেবল ভয়েস ডেটা প্রক্রিয়া করা হয়। ওয়েক-ওয়ার্ড শনাক্ত না হলে অডিও স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াকরণ শেষে মুছে ফেলা হয়।
এলজি আরও জানিয়েছে, টিভির নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং সুবিধাটি কনটেন্ট শেয়ারিং ও স্মার্ট-হোম ডিভাইস ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অটোমেটিক কনটেন্ট রিকগনিশন’ বা এআরসি, ভয়েস রিকগনিশন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপনের মতো ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সম্মতি নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অডিও ট্রান্সক্রিপ্ট সংরক্ষণ এবং ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে এলে রেকর্ড করা অডিও আপলোড হওয়ার মতো নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে এলজির বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।









