অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) একটি নির্ভরযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত নিরাপত্তা সুবিধা। এ পদ্ধতিতে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ই-মেইলে পাঠানো এককালীন যাচাইকরণ কোড বা ওটিপি দিতে হয়। তবে ই-মেইলে লগইন করে কোড খুঁজে বের করে কপি করার বাড়তি ধাপ এড়াতে জিমেইলে নতুন সুবিধা চালু করেছে গুগল। ‘কপি কোড’ নামের নতুন এই সুবিধায় জিমেইল ইনবক্সেই ২এফএ বা ভেরিফিকেশন কোডযুক্ত ই-মেইল শনাক্ত করে, ই-মেইলটি না খুলেই সেই কোড কপি করা যাবে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের জিমেইল অ্যাপে নতুন সুবিধাটি চালু করা শুরু হয়েছে।
নতুন সুবিধায় জিমেইল কোনো ই-মেইলে যাচাইকরণ বা এককালীন নিরাপত্তা কোড রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে পারলে ইনবক্সেই ওই বার্তার বিষয় লাইনের নিচে পিল আকৃতির ‘কপি কোড’ বোতাম দেখাবে। বোতামের পাশেই সংশ্লিষ্ট যাচাইকরণ কোডটি দেখা যাবে। ফলে কোডটি দেখতে ই-মেইল খুলতে হবে না। একইভাবে বার্তার ভেতর থেকে কোডের সংখ্যাগুলো খুঁজে বের করে আলাদাভাবে নির্বাচন ও কপি করার প্রয়োজনও থাকবে না। ‘কপি কোড’ বোতামে ট্যাপ করলেই কোডটি সরাসরি ডিভাইসের ক্লিপবোর্ডে কপি হয়ে যাবে। এরপর যে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কোডটি চাওয়া হচ্ছে, সেখানে গিয়ে সেটি পেস্ট করলেই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। বিভিন্ন দোকান ও ব্যাংক থেকে পাঠানো যাচাইকরণ ই-মেইলেও সুবিধাটি কাজ করতে দেখা গেছে।
নতুন সুবিধাটি বর্তমানে জিমেইলের অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপে ধীরে ধীরে চালু করা হচ্ছে। ফলে একই সময়ে সব ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ‘কপি কোড’ বোতাম দেখা নাও যেতে পারে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপে সুবিধাটি দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও, এখনো সব মডেলের ফোনে সুবিধাটি আসেনি। জিমেইলের ওয়েব সংস্করণে এখনো সুবিধাটি চালু হয়নি। একইভাবে অ্যান্ড্রয়েডের নোটিফিকেশন থেকেও সরাসরি ই-মেইলে আসা যাচাইকরণ কোড কপি করার ব্যবস্থা নেই এই মুহূর্তে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
জিমেইল অ্যাপ খুলে ইনবক্সে ২এফএ বা ভেরিফিকেশন কোডযুক্ত ই-মেইল খুঁজে নিন। ই-মেইলটি না খুলেই ইমেইলের বিষয় বা সাবজেক্ট লাইনের নিচে থাকা ‘কপি কোড’ বোতামে ট্যাপ করুন। জিমেইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত কোডটি ফোনের ক্লিপবোর্ডে কপি করবে। এরপর যে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ২এফএ কোড চাওয়া হয়েছে, সেখানে ফিরে গিয়ে কোড দেওয়ার ঘরে ট্যাপ করে পেস্ট করুন। সবশেষে ‘ভেরিফাই’, ‘সাইন ইন’ বা সংশ্লিষ্ট বোতামে ট্যাপ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
যদি ‘কপি কোড’ বোতামটি দেখা না যায়, জিমেইল অ্যাপটি হালনাগাদ করে আবার পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে হালনাগাদের পরেও সুবিধাটি না পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট মডেলে সুবিধাটি চালু হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, সুবিধাটি এখনো ওয়েব সংস্করণে না থাকায় কম্পিউটার থেকে জিমেইল ব্যবহার করলে প্রচলিত পদ্ধতিতেই ই-মেইল খুলে কোড কপি করতে হবে।









