বিজনেস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ওয়েবসাইট, ডোমেইন ও ইউআরএলে থাকা তথ্য মেটার বিভিন্ন পণ্য ও সেবার উন্নয়ন, গবেষণা এবং এআই মডেল প্রশিক্ষণসহ নানা কাজে ব্যবহার করতে পারবে, এমন একটি শর্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারের নীতিমালায় যুক্ত করেছিল মেটা। তবে শর্তটি নিয়ে সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হলে তা সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। মেটার দাবি, বাণিজ্যিক ব্যবহারের শর্তাবলিতে পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক সেবাসংক্রান্ত নিয়মগুলো একত্র করা, ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন আনা নয়।
সম্প্রতি মেটার বাণিজ্যিক ব্যবহারের শর্তাবলিতে যুক্ত করা নতুন এক বিধি অনুযায়ী, ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোমেইন, ওয়েবপেজ ও ইউআরএলে থাকা তথ্য প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্য ও সেবা পরিচালনা, উন্নয়ন, গবেষণা এবং এআই মডেল প্রশিক্ষণসহ নানা কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। শর্তটির ব্যাপক পরিসর ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট থাকা সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিম্যান জার্নালিজম ল্যাবের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, নতুন শর্তের ভাষা ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহে প্রচলিত বিধিনিষেধ, বিশেষ করে ‘রোবটস ডট টিএক্সটি’ ফাইলের মাধ্যমে জানানো নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। ওয়েবসাইটের মালিকেরা এই ফাইলের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারকে কোন অংশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারেন।
তবে মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, শর্তাবলির পরিবর্তনের সঙ্গে ওয়েব ক্রলিংয়ের পদ্ধতির কোনো সম্পর্ক নেই। গত ১৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত শর্তটি বাদ দিয়ে জানায়, সংশোধিত শর্তে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ক্রলিং-সংক্রান্ত নিয়মগুলো কেবল বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মেটার দাবি, ওয়েবসাইটের মালিকেরা আগের মতোই রোবটস ডট টিএক্সটি ফাইল ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে নিজেদের পছন্দ জানাতে পারবেন। নতুন শর্তে ওয়েবসাইটের মালিকদের এই অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে বলে জানানো হয়।
তবে শর্তের ভাষা সংশোধন করা হলেও ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের পরিধি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। নিম্যান জার্নালিজম ল্যাবের পরবর্তী প্রতিবেদনে আইনজীবীরা বলেন, সংশোধিত শর্তেও বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক পণ্যের উন্নয়নে ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহারের বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবসায়িক পণ্য’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় এসব তথ্য ভবিষ্যতে এআই-সংশ্লিষ্ট সেবা উন্নয়নেও কাজে লাগতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর এআই উন্নয়নের জন্য অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের অধিকার, ব্যবহারকারীদের হাতে নিয়ন্ত্রণের পরিধি এবং তথ্যের অনুমতিভিত্তিক ব্যবহারের প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।
সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা ইউজিসির
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন বাজার আসার এক মিনিটেই সব সোল্ড আউট