ফোন চার্জ দেওয়ার ১০ ভুল অভ্যাস, যা কমিয়ে দেয় ব্যাটারির আয়ু

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫

নতুন স্মার্টফোন কেনার কয়েক মাস পরই অনেকের মনে হয়, ব্যাটারি আর আগের মতো ব্যাকআপ দিচ্ছে না। বেশিরভাগ সময় ব্যবহারকারীরা এর জন্য ফোনের ব্র্যান্ড বা ব্যাটারির মানকে দায়ী করেন। তবে বাস্তবে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা থাকে আমাদের প্রতিদিনের চার্জিং ও ব্যবহারের অভ্যাসের।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে যায় না, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু ভুল অভ্যাস ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বর্তমানে বেশিরভাগ স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল থাকে, যা চার্জ দেওয়ার পদ্ধতি, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং ফোন ব্যবহারের ধরন দ্বারা প্রভাবিত হয়।

তাই ব্যাটারির যত্নে কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চললে এর স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব এবং ফোনের পারফরম্যান্সও বজায় থাকবে।

১. অতিরিক্ত গরম অবস্থায় ফোন চার্জ দেওয়া

ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তাপ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ব্যাটারির রাসায়নিক গঠন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্থায়ীভাবে চার্জ ধারণক্ষমতা কমতে শুরু করে।

করণীয়: চার্জের সময় ফোন ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখুন।

২. বারবার ব্যাটারি পুরোপুরি ০ শতাংশে নামিয়ে ফেলা

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সম্পূর্ণ ডিসচার্জ হয়ে নিয়মিত ০ শতাংশে পৌঁছানোর পর চার্জ দিলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং চার্জ সাইকেলের আয়ু কমে যায়।

করণীয়: ব্যাটারি ২০-৩০ শতাংশে নামলেই চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করুন।

৩. দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জে রেখে দেওয়া

বিল্ট-ইন চিপযুক্ত আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখা এখন নিরাপদ হলেও দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় থাকা ব্যাটারির ভোল্টেজের চাপ বাড়াতে পারে।

করণীয়: ব্যাটারি ৮০-৯০ শতাংশের মধ্যে রাখুন অথবা ফোনের অপ্টিমাইজড চার্জিং মোড ব্যবহার করুন।

৪. নিম্নমানের বা নকল চার্জার ব্যবহার করা

নিম্নমানের চার্জার বা কেবল অনিয়মিত ভোল্টেজ ও কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে, যা শুধু ব্যাটারিই নয়, পুরো ডিভাইসের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

করণীয়: নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় নির্মাতা কোম্পানির বক্সের সাথে দেয়া চার্জার ও কেবল ব্যবহার করুন।

৫. চার্জে রেখেই ভারী গেম খেলা বা ভিডিও ধারণ করা

গেমিং, ফোর-কে ভিডিও রেকর্ডিং বা ভারী অ্যাপ চালানোর সময় প্রসেসর প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। একই সময়ে চার্জ দিলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়।

করণীয়: চার্জ চলাকালে ভারী কাজ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৬. বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ দেওয়া

অনেকেই ঘুমানোর সময় বালিশের নিচে ফোন রেখে চার্জ দেন। এতে পর্যাপ্ত এয়ার-ফ্লো এর অভাবে তাপ বের হতে পারে না এবং অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

করণীয়: যথাসম্ভব ঠাণ্ডা ও খোলা জায়গায় (যেখানে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে) ফোন চার্জ দিন।

৭. আনসাপোর্টেড ফোনে ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করা

যেসকল আধুনিক ফোনে ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা আছে, সেগুলোতে উন্নতমানের হিটসিংক বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা ফাস্ট চার্জিংয়ের কারণে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপ অপসারণ করে। এই সুবিধাটি যেসব স্মার্টফোনে নেই, সেগুলোতে ফাস্ট চার্জারের ব্যবহার ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।

করণীয়: আনসাপোর্টেড ফোনে ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

৮. বারবার কয়েক মিনিটের জন্য চার্জে লাগানো

প্রতি অল্প সময় পরপর চার্জে লাগানো ব্যাটারির জন্য খুব ক্ষতিকর নয়, তবে অপ্রয়োজনীয় চার্জিং অভ্যাস ব্যাটারির চার্জ ব্যবস্থাপনাকে অকার্যকর করে তুলতে পারে।

করণীয়: প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ দিন এবং অকারণে বারবার চার্জে লাগাবেন না।

৯. নিম্নমানের পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা

নিম্নমানের পাওয়ার ব্যাংক সবসময় স্থিতিশীল ভোল্টেজ ও কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে না। এতে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

করণীয়: নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা সনদপ্রাপ্ত পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করুন।

১০. ত্রুটিপূর্ণ চার্জিং কেবল ব্যবহার করা

ছেঁড়া, বাঁকানো বা নিম্নমানের চার্জিং কেবল স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে না। এতে চার্জিং বারবার বিচ্ছিন্ন হতে পারে বা ধীরে হতে পারে, যা ব্যাটারির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।

করণীয়: ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

 /এমএএল/
সম্পর্কিত
মানুষ ছাড়াই সাইবার হামলা, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এআই র‍্যানসমওয়্যার
পুরোনো স্মার্টফোনকে বানিয়ে ফেলুন ঘরের সিসিটিভি ক্যামেরা
গুগলে সার্চ করার এই ৫ ট্রিকস জানা থাকলে বেঁচে যাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
সর্বশেষ খবর
টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের যে নির্দেশনা দিলো প্রশাসন
টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের যে নির্দেশনা দিলো প্রশাসন
সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরেছেন, রাঙামাটিতে ৩০ গ্রাম প্লাবিত
সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরেছেন, রাঙামাটিতে ৩০ গ্রাম প্লাবিত
অ্যাকশন দৃশ্যে ২০ ঘণ্টা পানির নিচে রাশমিকা, গড়লেন নতুন ইতিহাস
অ্যাকশন দৃশ্যে ২০ ঘণ্টা পানির নিচে রাশমিকা, গড়লেন নতুন ইতিহাস
আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ইরান
আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ইরান
সর্বাধিক পঠিত
খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, তবে আড়ালে অন্য চিত্র
খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, তবে আড়ালে অন্য চিত্র
সরোয়ার আলমগীরই হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি
সরোয়ার আলমগীরই হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি
যে কারণে হত্যার শিকার আলোচিত সেই শিশু, খুনি থাকতো পাশের ঘরে
একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ডযে কারণে হত্যার শিকার আলোচিত সেই শিশু, খুনি থাকতো পাশের ঘরে
‘মদ নিষিদ্ধের’ বিল কেন প্রত্যাহার করে নিলেন জামায়াত এমপি
‘মদ নিষিদ্ধের’ বিল কেন প্রত্যাহার করে নিলেন জামায়াত এমপি
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’ 
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’