‘দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তরুণ সমাজ’

Send
তারুণ্য ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:২৮, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৯, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তরুণ সমাজ। এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো দুর্যোগের সময় তারা খুব দ্রুত সচেতনতা বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। সেই সাথে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি হ্রাস উদ্যোগে অংশ নিয়ে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য যুব সমাজ সহায়তা প্রদান করে থাকে। তাই এই কাজে তাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।


শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে তরুণ সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে দুর্যোগ চলাকালীন তরুণরা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে এবং সরকারকে সাহায্য করতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দেশের প্রতিটি স্তরে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে যুব সমাজের নেতৃত্ব প্রচারের লক্ষ্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, প্রাসঙ্গিক বিভাগ এবং আইএনজিওগুলোকে এক কাতারে আনাই ছিল এর লক্ষ্য। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন ডঃ এ. এস. এম মাকসুদ কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক মহসিন উল হাকিম এবং সংগীতশিল্পী রাশেদ উদ্দিন আহমেদ তপু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক সাজেদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, গ্রিন আর্থ (কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক), বিওয়াইআই এবং ইয়ুথ অ্যাডভাইসোরি প্যানেল (ইয়াপ) এর প্রায় ১৫০ জন তরুণ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তরুণ সমাজের যে আন্দোলন, সেটা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে কিছু এজেন্সি তরুণ প্রতিভাকে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস টেকসই পরিবর্তন এবং নিজেদের কমিউনিটিতে এই সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে অভূতপূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদক এবং উপস্থাপক নাজনীন মুন্নি। ‘দুর্যোগের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের করণীয়’ শীর্ষক ভিডিও দেখানোর পর শুরু হয় মুক্ত আলোচনা। এখানে তরুণরা দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তরুণদের কথা শুনে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন অতিথিরা।
ইউএনডিপি এর ইউএন ভলানটিয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আকতার উদ্দিন বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের স্বেচ্ছায় যোগদান করতে হবে। তরুণদের এই মহৎ কাজে তাদের সুরক্ষা প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব।’ যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মহসিন উল হাকিম বলেন, ‘দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে হলে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবেই। কারণ তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকেই মিলবে নতুন নতুন পরিকল্পনা।’ ড. এ. এস. এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে কখনই দমিয়ে রাখা যায় না। ওদের দ্রুত গতি ওদের সম্পদ। এই গতি যত বৃদ্ধি পাবে, তরুণ প্রজন্ম তত এগিয়ে যাবে।’ এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন এবং তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের ডিরেক্টর সাজেদুল হাসানের বক্তব্যে। তিনি যুবকদের দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাসে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘দুর্যোগের সময় সবার অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য। দুর্যোগের সময় তরুণদের কার্যক্রম কী কী হতে পারে তা যে কেউ আলাদা করে নিতে পারেন। এছাড়া দুর্যোগের ঝুঁকি নিরসনে তরুণদের প্রথম ধাপ হচ্ছে দুর্যোগের আগে সচেতনতা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দুর্যোগের পরে খোঁজ ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করা। ব্র্যাক, সরকার, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো যদি ছাত্রছাত্রীদের হাতে কলমে এসব শিক্ষা দেয়, তাহলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমে আসবে অনেক।’

/এনএ/

লাইভ

টপ