দ্বিধান্বিত সত্য

Send
মাহমুদুর রহমান
প্রকাশিত : ১০:৪৯, জুন ১০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭, জুন ১০, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানবছরের শুরুর দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছিলেন,  বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম বিশ্বমানের। সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর বন্ধু বিরোধী দল নিয়ে আইন প্রণয়ন সহজ। এটা গতিশীলতার পেয়েছে। স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে কোনও মন্ত্রী নেই এবং কিছু-কিছু ক্ষেত্রে কমিটি যেমন জবাবদিহিতা চেয়েছে, তেমনই জনগণের দাবি পূরণে ব্যর্থতা স্বীকার করেছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ সাবেক খাদ্য মন্ত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি ভ্যাট কমানোর প্রচেষ্টায় অপারগতা। মহাজোট সরকারে অন্য দলীর মন্ত্রী একাধিক বার বলেছেন,  সরকারকে সমর্থনের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ থেকে শুরু করে অন্য দলের মন্ত্রীরা উপজেলা নির্বাচন ও সুশাসন নিয়ে ইদানিং সংশয় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু,  রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগের এমন জয়জয়কার হতো না।
প্রশ্নটা দাঁড়ায় সরকারে থেকে এমন মন্তব্য কতটা স্বতঃসিদ্ধ। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার দলের কেউ দলীর সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদে ভোট দান করতে পারেন না। কিন্তু বিরোধী বা অন্য দলের সদস্যদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। তবে নৈতিকভাবে সরকার বা তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে ইস্তফা দেওয়ার রেওয়াজ আছে। করছি, করব না—এ দোটানার মুখোমুখি হয়েছে জাতীয় পার্টি (এরশাদ)। ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের  কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও এ দেশের গণতন্ত্র চর্চার তারিফ করতে হয়। দুজন মন্ত্রী সম্প্রতি শাসকদলের মন্ত্রিসভা থেকে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করেছেন। সামনে যুক্তরাজ্যে একই রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার সমূহ-সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনে ওই দেশ থাকবে থাকবে না, এর গণভোট নিয়ে যত সমস্যা। রাজনৈতিক আত্মীকরণ হবে না, এমন নিশ্চয়তা আদায় করে শুধু সীমিত  অর্থনৈতিক অংশ ব্রিটেন নেবে কিনা, এর গণরোষ দেবে ব্রিটিশ জনগণ জুন মাসের শেষের দিকে। অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সারাদেশে প্রচার চালাচ্ছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে দোটানা। সংসদে ভোট হলে ক্যামেরনের প্রস্তাব হেরে যাবে এতে সন্দেহ নেই। জনগণ জরিপে এখন পর্যন্ত ইইউ-থেকে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। কিন্তু চিরাচরিত দোটানায় যে ভোটার আছেন তাদের ওপর সব কিছু নির্ভর করবে। কনজারভেটিভ দলের মধ্যে যে বিভাজন দেখা দিয়েছে এর নেতৃত্বে রয়েছে লন্ডনের সাবেক মেয়র এবং আগামীতে দলের নেতৃত্বপ্রত্যাশী বরিস জনসন। গণতন্ত্রের ধারা অনুযায়ী সদস্যদের ভোট না হওয়ায় তারা তাদের নিজস্ব এলাকাবাসীর অভিমতকে সমর্থন করছেন। মুক্তশ্রমনীতির আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে জীবিকার অন্বেষণে যে সংখ্যায় লোকজন আসছে, তাতে তাদের আগমনে সামাজিক সুতোর পরিবর্তনে ব্রিটিশরা শঙ্কিত। ক্যামেরন অবশ্য অন্য দেশে তার নাগরিকদের চাকরি নিয়ে বিতর্ক করেছেন। বিরোধীরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাচ্ছেন বলে মনে হলেও, এক্ষেত্রে দলের নেতৃত্বে তারা পরিবর্তন চাইবেন, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন: শ্যামল কান্তি ভক্তের ঘরে ফেরা

বাংলাদেশে কোনও-কোনও ক্ষেত্রে সরকার দলীয় সংসদরা সামাজিক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমালোচনা করেছেন, তবে ব্রিটেনের মতো বিরোধিতা করেননি। সফল সংসদীয় বিতর্কের অভাব রয়েছে, হ্যাঁ বিরোধী দল সরকারি দলের মতোই কথা বলছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিতর্ক হচ্ছে না। ভারতে রাজ্যসভা আর লোকসভার দ্বিমতের কারণে অনেক আইন নরেন্দ্র মোদি প্রণয়ন করতে পারছেন না অনেক আইন, যদিও তার মধ্য দিয়ে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত হচ্ছে।

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ