জামায়াতের ভেতর-বাহির

Send
আহসান কবির
প্রকাশিত : ১৫:৩৪, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৬, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯

আহসান কবিরজামায়াতের ভূতটা যেন মাথা থেকে নামছেই না। একটা গল্প বললে ব্যাপারটা বোধগম্য হতে পারে।
গুরু আর শিষ্য নদী পার হবে। নদী পার হওয়ার আগেই এক নারীর কান্না শুনতে পেলো তারা। গুরু বললেন শিষ্যকে– দেখ তো কী চায় মেয়েটা? শিষ্য মেয়েটার সঙ্গে কথা বলে এসে জানালো, মেয়েটা নদী পার হতে চায়। গুরুর অনুমতি নিয়ে শিষ্য মেয়েটাকে নদী পার করে দিলো। এরপর জঙ্গলের পথে হাঁটলো দুজন। কিছু দূর আসার পর শিষ্য গুরুর কাছে জানতে চাইলো, আচ্ছা গুরু মেয়েটাকে কী একা ফেলে আসা উচিত হলো?
গুরু পথ হাঁটতে লাগলেন কিন্তু উত্তর দিলেন না। খাবার গ্রহণ করার আগে শিষ্য আবারও বললো, জানি না মেয়েটা কী খাচ্ছে! খানিক পরে আবারও এক খরস্রোতা নদীর দেখা মিললো। এবার শিষ্য বললো– গুরু মেয়েটা এই ঘন জঙ্গলের ভেতর পশু-পাখির সঙ্গে কেমন করে রাত কাটাবে? গুরু উত্তর দিলেন– যদি গন্তব্যে পৌঁছাতেই চাও তাহলে ওই মেয়েটাকে আগে ঘাড় থেকে নামাও। পিছুটান বুকে আর কারও বোঝা ঘাড়ে রেখে গন্তব্যে নামা ঠিক না। বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের বুকে আর ঘাড়ে চেপে আছে জামায়াত। কবে নামবে কেউ জানে না। আর তাই জামায়াত সম্পর্কে যা যা জানা যায় তা এমন–

এক. সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী এবং আরো কয়েকজন মিলে জামায়াতে ইসলামী (হিন্দ) গঠন করেছিলেন ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট। মওদুদীর বিরুদ্ধে শুরুতেই সংগঠনটাকে ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলেন সংগঠনের অন্যতম দুই নেতা, যারা ছিলেন দুই সহোদর। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে অখণ্ড ভারতের সবচেয়ে বড় ইসলামী দল মুসলিম লীগকে সমর্থন করেনি জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত বলে বেড়াতো, মুসলিম লীগে একজনও সাচ্চা মুসলমান নেই। মুসলিম লীগ পাকিস্তানের জন্য আন্দোলন করছিল বলে জামায়াত ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল,পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল। মওদুদী পাকিস্তানকে বলতেন ‘আহাম্মকের বেহেশত’ এবং ‘কাফেরানা রাষ্ট্র’। মওদুদী কাশ্মিরের জন্য আন্দোলনকে বলতেন ‘হারাম’। এসব কারণে খোদ পাকিস্তানেই জামায়াত সম্পর্কে তখন বলা হতো– জন্মই জামায়াতের আজন্ম পাপ। পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতাকারী মওদুদী ভারত থেকে শেষমেশ পাকিস্তানেই চলে যান। কথা আর কাজের মিল না থাকা আর অন্যকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার কারণে জামায়াতের আরেক চরিত্র ‘পরগাছা বা মেরুদণ্ডহীন’ হয়ে থাকা। আজ পর্যন্ত জামায়াতের সেই চরিত্র বদলায়নি।

দুই. মুসলিম লীগের হয়ে পাকিস্তানের স্বাধীনতা আনা কায়েদে আযম মো.আলী জিন্নাহ পাকিস্তানকে একটা ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আওতায় রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনীতির সবচেয়ে সংক্রামক রোগ সামরিক শাসনের হাত ধরে পাকিস্তান হয়ে যায় ইসলামি রাষ্ট্র। মওদুদীর জামায়াতে ইসলাম এটাকে তাদের বিজয় বলে প্রচার করে। এরপর ১৯৫৩ সালে স্বাধীন পাকিস্তানে ‘কাদিয়ানিরা কাফের’ ঘোষণা দিয়ে জামায়াত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায় এবং জামায়াত নিষিদ্ধ ও মওদুদীর ফাঁসির হুকুম হয়, যদিও পরবর্তীকালে তা রদ করা হয়েছিল।

তিন. ভারত ও পাকিস্তানে জামায়াতকে দুই দুইবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে প্রথম সাত বছর জামায়াত বাংলাদেশেও নিষিদ্ধ ছিল। ভারতে জামায়াত প্রথমবার নিষিদ্ধ হয় ১৯৬৪ সালে,দ্বিতীয়বার ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর। ভারতে  জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনের নাম স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া বা সিমি। ভারতে ভয়াবহ সন্ত্রাস আর সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার কারণে তিন তিনবার সিমিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আর পাকিস্তানে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের নাম জমিয়তে তালাবা। মতিউর রহমান নিজামী ১৯৬৯ সালে একবার এবং ১৯৭১ সালে দ্বিতীয়বার তালাবার নাজিমে আলা (সভাপতি) নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তালাবা বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও এই সংগঠনের প্রধানদের বারবার এ দেশে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

চার. নিজামীর মতো গো.আজমও  ছিলেন সাক্ষাৎ বেইমান। ১৯৭১-এর নভেম্বরে গো.আজম  পাকিস্তানে পালিয়ে যান। ১৯৭২ সালে পাকিস্তানে বসে এই বেইমান ‘পূর্ব পাকিস্তান’ পুনরুদ্ধার কমিটি নামে একটি সংগঠন পয়দা করে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের দাবি করেন এবং রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব সম্মেলনে গিয়েও এই দাবির প্রতিধ্বনি তোলেন। ওআইসির সম্মেলনে গিয়েও গো. আজম  বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে অনুরোধ জানান। ৭৩ থেকে ৭৬ সাল পর্যন্ত সৌদি বাদশার কাছে গোলাম আজম  সাহেব সাত সাতবার এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এই ‘বিশ্ব বেইমান’ মানুষটাকেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সুন্দর এবং মনে রাখার মতো ঘটনাও ঘটে মাঝে-সাঝে। স্বাধীনতা লাভেরও দুই বছর পর ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে গোলাম আজম-সহ আটত্রিশজনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। ১৯৭৭ সালের ১১ জানুয়ারি পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন গোলাম আজম। এরপর বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে গেলে মুক্তিযোদ্ধা ও মুসল্লিরা গোলাম আজমকে সেদিন তাদের জুতো দিয়ে পিটিয়েছিলেন।

পাঁচ. জামায়াত অসংখ্যবার প্রচার করেছে গো.আজম নাকি ভাষাসৈনিক ছিলেন। আসল ঘটনা ভিন্ন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৯৪৮ সালের নভেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান এলে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর লিয়াকত আলী খানকে স্বাগত জানিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে মানপত্র পাঠ করার কথা ছিল ভিপি অরবিন্দ বোসের। মাত্র পনের ষোল মাস আগে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়া দুই দেশের সাম্প্রদায়িক উসকানি কিংবা ক্ষত তখনও শুকায়নি। তাই মুসলিম লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে মানপত্র পাঠ করবেন একজন হিন্দু এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। তাই এই সুযোগটা পেয়ে যান সিলেক্টেড ডাকসু জি এস গোলাম আজম। ওই মানপত্রে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার অনুরোধ ছিল। ১৯৭১’র আগেই গো.আজম  প্রকাশ করেন তার মনের কথা। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের শুক্কুরে আঞ্জুমানে ইয়ারানের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা দেওয়া হয় গো. আজমকে। সেখানে তিনি বলেন– বাংলা ভাষা আন্দোলন ভুল হয়েছিল। সেখানে তিনি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এতবড় রাজনৈতিক ভুল আর হবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন!

ছয়. স্বাধীনতা আন্দোলন গো.আজমের কাছে ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন দুষ্কৃতিকারী ও ভারতের অনুচর (৭১ সালে তার এমন হাজারো বিবৃতি পাওয়া যাবে)। পঁচিশে মার্চের কালরাতের পর পূর্ব পাকিস্তানের কসাই হিসেবে পরিচিত জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন এই গো.আজম। রাজাকার,আল বদর,শান্তি কমিটি আর আল শামস গঠন করে পাকিস্তানি হানাদারদের সর্বময় সহযোগিতা করার কারণে তার দলকে পুরস্কৃত করেছিল পাকিস্তানিরা। তার দল থেকে দুজনকে (এই মন্ত্রিসভা ঠ্যাটা মালেক মন্ত্রিসভা হিসেবে পরিচিত। দুজনের একজন ছিলেন জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির আব্বাস আলী, যিনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন) মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর একাধিকবার জামায়াতের নেতারা বলেছেন, একাত্তরে জামায়াত ভুল করেনি। কাদের মোল্লা,নিজামী,গো.আজমদের রক্ষা করার জন্য তাদের হয়ে আইনি লড়াই লড়েছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং মনজু নামের আরেক নেতাকে জামায়াত নিজেই বহিষ্কার করেছে। মনজু সাহেব একদা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। এই দুইজন মানুষ জামায়াত ও শিবিরের নতুন প্রজন্মকে একটু নৈতিক সুরক্ষা দিতে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতকে নাকি অসংখ্যবার ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। জামায়াত ক্ষমা চায়নি এবং ক্ষমা চাইলেই তাদের ক্ষমা করবে না জাতি। তবে জামায়তের আসল চেহারাটা কেমন?

এক. জামায়াতে ইসলামী আসলে একটা এনজিওর আদলে কাজ করার চেষ্টা করে। জামায়াতের আসল চেহারাটা এমন– উপজেলায় ইসলামী আন্দোলনের দল, জেলা ও বিভাগীয় শহরে ইসলামী সংগঠন, রাজধানীতে এনজিওর অবয়বে রাজনৈতিক দল আর আন্তর্জাতিক ভাবে ইসলামী এনজিও।

দুই. জামায়াতের ভাঙন এবারই প্রথম নয়। ১৯৮১-৮২ আবদুল কাদের বাচ্চুর নেতৃত্বে (বর্তমানে উনি খেলাফত মজলিসের সাথে জড়িত) প্রথম ছাত্রশিবির ভাঙে এবং জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কহীন যুব সংগঠন গড়ে তোলা হয়, যদিও এরা বেশি দিন টিকতে পারেনি। এদের বিরুদ্ধে প্রচার ছিল এরা ইরানপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সুন্নি দ্বন্দ্বকেই কাজে লাগানো হয়, যার কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও এরা কোনও সমর্থন পায়নি।

তিন. এরশাদ আমলে জামায়াত এরশাদবিরোধী আন্দোলনে একটা ঢিলও ছুড়েছে কিনা সন্দেহ। ১৯৮৬ সালে এরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে গেলেও ১৯৮৮ সালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। জামায়াত আবার ১৯৯১ সালে বিএনপির সঙ্গে মিলে নির্বাচনে যায়। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলেও জামায়াত এরপর থেকে বিএনপির কাঁধে ভর করে চলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৭১ সালের পরে ২০০১ সালে এসে তারা মন্ত্রিসভায় স্থান পায়। মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রী হলে জামায়াতের ভেতর আরেকটি মেরুকরণ হয় তখন। ছাত্রশিবির এবং জামায়াতে ইসলামীতে উত্তরবঙ্গ ও রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে আগত  নেতাদের দাপট বাড়তে থাকে এবং তারা বিভিন্ন পদে আসীন হতে থাকেন। ঢাকা মহানগরীর কমিটিতে রফিকুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম বুলবুল-সহ একাধিক উত্তরবঙ্গীয় নেতা জামায়াতে স্থান পান। একই ঘটনা ঘটতে দেখা যায় ছাত্রশিবিরের ক্ষেত্রে।

এরই ভেতর আসে এক-এগারোর কাল। জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত যুদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত নেতাদের তালিকা প্রকাশিত হয়। এরপর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতেরও ভরাডুবি হয়। আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিলে জামায়াত আন্তর্জাতিক লবিংয়ে নামে। এ সময়ে জামায়াতের যুবক গোছের নেতা ও শিবিরের সিনিয়র নেতারা দেশে-বিদেশে এ নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। এরা প্রচার করতে থাকেন যুদ্ধাপরাধের বিচার মানে হচ্ছে এক ধরনের জুডিশিয়াল কিলিং। দেশে বিদেশে চাঁদা ও সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং জামায়াতের একটি সূত্রমতে চারশ কোটি টাকার মতো ফান্ড গঠন করা হয়। এর ভেতরে আলী আহসান মুহম্মদ মুজাহিদ মন্তব্য করেন– একাত্তরে জামায়াত কোনও ভুল করেনি, কোনও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জামায়াত জড়িত ছিল না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে আসলে জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। মন্তব্য প্রত্যাহার করতে মুজাহিদকে অনুরোধ করেন শিশির মুনির-সহ একাধিক শিবির নেতা। মুজাহিদ অনড় থাকলে শিবিরের একাধিক নেতা পদত্যাগ করেন এবং আরেকবার ইসলামী ছাত্রশিবির ভাঙ। ২৪ জন নেতাকর্মী দল থেকে বেরিয়ে যান।

রেজিমেন্টেড এবং ডিসিপ্লিনড দল বলে খ্যাত জামায়াতের ভেতর কোনও ফর্মেই গণতন্ত্রের ছোঁয়ামাত্র নেই। বলা হয় গণতান্ত্রিকভাবে শিবির ও জামায়াতের কমিটি গঠন করা হয়। শিবিরের কমিটি গঠনের জন্য আসলে তিন সদস্যের একটি প্যানেল গঠিত হয় এবং কে কত ভোট পায় তা কখনও প্রকাশ করা হয় না। শিশির মুনির যখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভেতরকার নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পান তখনও তাকে সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতি করা হয়নি, যদিও পুরনো কমিটির সাধারণ সম্পাদক, নতুন কমিটির সভাপতি হবেন এমনই শিবিরের ট্র্যাডিশন। একই কথা খাটে জামায়াতের শুরা সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে। বছরের পর বছর ধরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত নেতাদের দায় বহন করার জন্যই ব্যবহৃত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী নামের সংগঠনটি। বাইরে এনজিওর আদল, ভেতরে গণতন্ত্রহীনতা, মুখে কোরআনের বাণী আর বুকে রগকাটার সংকল্প নিয়ে জামায়াত আসলে এতদিন মেরুদণ্ডহীন হয়েই টিকে ছিল।

ভবিষ্যতে যদি দলের নাম পরিবর্তন করে,যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়েও দল গঠন করে পুরনো জামায়াতিরা, এরপরে যদি তারা একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চায়, তাহলেও তারা কখনও শুদ্ধ হবে না।

এই পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের পাপমোচন এই স্বাধীন দেশে কখনও হবে না। বড় জোর এদের নামে পাবলিক টয়লেট কিংবা থুথুদানি নির্মিত হতে পারে। এ দেশে কোনও বাবা তার ছেলের নাম আর গোলাম আযম রাখবেন না। আল শামস আল বদর আর রাজাকার হবে এ দেশের জনপ্রিয়তম গালি।

লেখক: রম্যলেখক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ