behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আবার আন্দোলন?

বিভুরঞ্জন সরকার১১:৪২, মার্চ ১৯, ২০১৬

নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদ শাসনের অবসানের পর থেকে দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ধারা চালু হলেও নির্বাচিত সরকারকে মেয়াদকালের আগেই ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিরোধী দলের আন্দোলন করাটাও একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। অবশ্য হরতাল, লাগাতার হরতাল, অবরোধ, লংমার্চ, মানববন্ধনসহ আন্দোলনের নানা ধরনের কর্মসূচি পালন সত্ত্বেও নির্বাচিত কোনও সরকারকেই মেয়াদপূর্ণ হওয়ার আগে ক্ষমতা থেকে হটানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে মানুষের ব্যাপক সাড়া না পাওয়ার বড় কারণ সম্ভবত এটাই যে, ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তারা উন্নত শাসন উপহার দিতে পারবে কি-না, সে বিষয়ে মানুষের সংশয়। মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা উপলব্ধি করছে, সরকার পরিবর্তন হলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যেসব কথা বলা হয়, ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে যাওয়ার নজির মানুষ দেখছে। সেজন্য গরম কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় পড়ার জন্য কেউ পরিবর্তন চায় না। মানুষের জীবনের সমস্যা-সংকট সমাধান করার মতো আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সম্পন্ন নতুন রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ ও বিকাশ না দেখলে গণঅভ্যুত্থান তৈরি হতে পারে না। দেশের রাজনীতিতে যে এখন তীব্র তিক্ততা চলছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি গত কয় বছর ধরেই পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে আছে। একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই দেশ এগিয়ে চলছে। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারেন না, বিশ্বাস করেন না। কেবল ভিন্ন দলের ক্ষেত্রে নয়, নিজ দলের এমন অবস্থা আছে। রাজনীতির নামে চলছে ব্লেম গেম বা দোষারোপের রাজনীতি। কোনও ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কি হবে তা সহজেই বলে দেওয়া যায়। ঘটনা বা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের চাইতে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর দোষ চাপানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

আওয়ামী লীগ মনে করে বিএনপি দেশের শত্রু। দেশপ্রেমের সোল এজেন্সি নিয়ে বসে আছে একমাত্র সরকারি দল। আবার বিএনপিও মনে করে, তাদের চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কেউ নেই। সরকারি দল দেশটাকে ‘বিক্রি’ করা অথবা ধ্বংস করার কাজে নিয়োজিত আছে।

রাজনীতির এই তিক্ত পরিবেশের জন্য কেউ কেউ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে সমানভাবে দায়ী করে থাকেন। এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য করলে অনেকেই খুশি হন। সংবাদপত্রে যারা কলাম লেখেন, বিভিন্ন বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যারা কিছুটা ভূমিকা পালন করেন, তাদের অনেককেও দেখা যায়, বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে তুলোধুনা করতে। কিছু মানুষ হয়তো এতে তাদের বাহবা দেন, তারিফ করেন। কিন্তু আসলে কি এটা ঠিক? নীতি-আদর্শের ক্ষেত্রে এই দুই দলের ব্যবধান কমে আসলেও একেবারে একবিন্দুতে গিয়ে মেশেনি। তাছাড়া দেশ শাসনে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির রেকর্ড কি সত্যি এক রকম? আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনীতির মধ্যে কি একেবারেই কোনও পার্থক্য নেই?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে শুরু করে অনেক ইস্যুতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান স্পষ্টতই ভিন্ন ও বিপরীত। স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজন পোষণ, দলবাজি, ব্যর্থতা-অযোগ্যতা দুই দলেরই আছে। তারপরও দুই দলকে এক পাল্লায় মেপে সমান দোষে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে কি?

কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি তার রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে কি পরিবর্তন আনে সেদিকেই এখন রাজনীতি আগ্রহী সকলেরই মনোযোগ। বিএনপি যদি আবারও আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথেই চলতে চায় তাহলে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি না হয়ে হতাশাই বাড়তে পারে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

bibhu54@yahoo.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ