‘প্রান্তিক উপকূলে পৌঁছেনি ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা’

Send
সুমন সিকদার, বরগুনা
প্রকাশিত : ১৭:৪০, মে ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৮, মে ০৩, ২০১৯

aa9b0116cc0e9b7b5f37e9eccc0f0eb6-5ccc064fc573aধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। এরমধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরগুনায় শুরু হয়েছে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি। কিন্তু বরগুনার প্রান্তিক উপকূলের মানুষরা অভিযোগ করেছেন, শেষ মুহূর্তেও তাদের কাছে পৌঁছায়নি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা। কোথাও কোথাও আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান দূরে হওয়ায় ভাঙা ঘরের মধ্যেই থাকতে চাইছেন বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ।

বরগুনা সদর উপজেলার সাত নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী আবাসন প্রকল্প ও ভাঙনকবলিত বড়ইতলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এখনও সেখানকার অধিকাংশ মানুষ ঘরের মধ্যেই অবস্থান করছেন। বড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এখানে কেউ আইসা কয় নাই ফণী বন্যা আইতেছে। আমরা যা শুনছি টিভির খবরেই, আর এই আপনারা আইয়া কইলেন। এখন এখানে যারা আছে তারা আতঙ্কের মধ্যেই।’

একই এলাকার আবদুর রশিদ বলেন, ‘ফণী হেডা আবার কী? বইন্নায় আইবে হ্যাতো কেউ কয়নাই। ওই টিভির মধ্যে দেহি মোরাই মোরাই কী জানি ওডে। কিন্তু হ্যা যে মোগে এদিকে আইবে হ্যা তো কেউ কয় নাই।’

পোটকাখালী এলাকার সোবাহান বলেন, ‘ফণী আইবে হ্যা তো মোরা হুনি নাই। আর হোনলেও বা কী করমু? এহানে কোনও ভালো সাইক্লোন শেল্টারও নাই যে হেহানে জামু।’

আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে ঘরে আছেন কেন? জানতে চাইলে পোটকাখালী আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা নূপুর রানী বলেন, ‘ঘরের মধ্যে থাকমু না করমু কী? এখানে ধারেকাছে কোথাও কোনও সাইক্লোন শেল্টারও নাই।’

এদিকে শুক্রবার (৩ মে) দুপুর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এসব এলাকায় দমকা হাওয়া ও থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। সেই সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বরগুনার দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক কিশোর কুমার সরদার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি ইতোমধ্যে ভারতের ওড়িশায় আঘাত হেনেছে। ক্রমশ এটি দুর্বল হয়ে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবক যেকোনও সময় যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলাপর্যায়ে মিটিং করে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থ, টিন, চাল, শুকনো খাবারসহ বরগুনায় ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে ৪২টি মেডিক্যাল টিম।’

এ সময় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব বিভাগকে প্রস্তুত থাকার জন্য এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল খোলা হয়েছে। সব সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৮.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে ভারতের ওড়িশা হয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া বিভাগ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ঘূর্ণিঝড় ফণী সংক্রান্ত আবহাওয়া বিভাগের বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, ‘ফণী আজ  (শুক্রবার) সকাল ৬টায় মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকাল নাগাদ ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এরপর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে শুক্রবার মধ্যরাত নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে। খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার দুপুর নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব পড়া শুরু হতে পারে।

‘ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

‘মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

‘চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।  কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

 

আরও পড়ুন: 

প্রস্তুতি এমন যে একটি প্রাণহানিও ঘটবে না: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

 'ফণী' মোকাবিলায় সচিবালয় ও ১৯ জেলায় সব সরকারি অফিস খোলা

‘ফণী’ আঘাত হানতে পারে মধ্যরাতে

ঘূর্ণিঝড়: কোন সংকেতের কী অর্থ

১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় ‘ফণী’

শুক্রবার সন্ধ্যায় আঘাত হানতে পারে ‘ফণী’

‘ফণী’ মোকাবিলায় সরকারের যত প্রস্তুতি

‘ফণী’র সতর্কতায় সারাদেশে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’: চট্টগ্রাম বন্দরের সব জাহাজ বহির্নোঙরে, তিনটি কন্ট্রোল রুম

বরিশালে ‘ফণী’ মোকাবিলায় প্রস্তুত ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও ২৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র

ধেয়ে আসছে ‘ফণী’: খুলনায় সব উপজেলায় সতর্কতা, জরুরি কন্ট্রোল রুম

যেখানে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রতীক্ষায় রয়েছে মানুষ

ঝড়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার স্পর্শ না করার অনুরোধ

‘ফণী’র ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ডিএনসিসি’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু

ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ