যেখানে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রতীক্ষায় রয়েছে মানুষ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৫৭, মে ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৩, মে ০২, ২০১৯

ভারতের কোটি কোটি মানুষ যেখানে ফণীর আতঙ্কে দিশেহারা, অন্ধপ্রদেশের বিজিয়ানগরাম জেলার মানুষ সেখানে প্রতীক্ষা করছে অতিপ্রবল ওই ঘূর্ণিঝড়ের আশায়।  ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খরার কারণে খাবার পানির তীব্র সংকটে থাকা জেলার বাসিন্দারা  প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা সত্ত্বেও চাইছে ঝড় আসুক। কেননা ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তীব্র পানির সংকট খানিকটা হলেও নিরসন হবে।   

বুধবার বিজিয়ানগরামের সমুদ্র উপকূলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ

দ্য হিন্দুর খবর অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিজিয়ানগরাম নামের শহরটিতে প্রায় চার লাখ বাসিন্দা রয়েছে। তাদের জন্য দৈনিক চার কোটি ৫০ লাখ লিটার পানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে দৈনিক মাত্র দেড় কোটি লিটার পানি। তীব্র খরায় শহর সংলগ্ন চম্পাবতী, ঝঞ্ঝাবতী, ত্রিবুতারি নদীসহ সব পানির ট্যাঙ্ক প্রায় শুকিয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় ঝড়ের ক্ষতির আশঙ্কা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে বৃষ্টি থেকে খাবার পানি সংগ্রহের আশা।

বিজিয়ানগরামের কালেক্টর হরি জওহরলাল ঘূর্ণিঝড়টি পর্যালোচনা করছেন। তিনি জানান, শহরের মানুষ আশা করছে বহুল প্রতীক্ষিত বৃষ্টিতে পানির ট্যাঙ্কগুলো ভরে উঠবে। জোহরলাল বলেন, আগামী কয়েক দিন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে আমরা গ্রামাঞ্চল এবং জেলার অন্যান্য অংশে পানির সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পারবো। বৃষ্টি থেকে খাবার পানির সর্বোচ্চ সংরক্ষণ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃষ্টির পানি সংগ্রহের পাশাপাশি ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও মাথায় রাখতে হয়েছে তাদের। ঘূর্ণিঝড় তিতলির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ওই ঝড়ের কারণে গুমা লহ্মী পুরাণ, জিয়ামমাভাসালা এবং কোমারাদায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আমরা তাই কোনও ধরণের ঝুঁকি নিতে চাই না। সব এলাকায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং স্পেশাল টিম সেখানকার পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করবে।’

শহরের সেনানিবাস এলাকার বাসিন্দা লিনগাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বিজিয়ানগরামের বাসিন্দাদের কাছে একরকম আর্শীবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এর কারণে কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে মাটির নিচের পানি হয়তো আবার পূরণ হয়ে যাবে। মাটির নিচের পানির ওপরে নির্ভর করা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা অধীর আগ্রহে বৃষ্টির অপেক্ষা করছে’।

শহরের বাসিন্দারা কেবল বৃষ্টির আশায় ঝড়ের প্রতীক্ষায় থাকলেও প্রশাসনে কর্মরতদের বাস্তবতা ভিন্ন। ক্ষয়ক্ষতির কথা ঠিকই মাথায় রাখতে হয়েছে তাদের। প্রশাসনের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি দেখতে কালেক্টর হরি জওহরলাল উপকূলীয় বেশ কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। তার আশঙ্কা রুশপাতি রেগা, বোগারামপুর, চিপুরুপালি, দেনকাদা, গারিবিধি, গুরলা এবং নীলিমারা এবং সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ঘূর্ণিঝড় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজিয়ানগরামের পুলিশ সুপারিন্ডেন্ট এ আর দামোদর জানিয়েছেন, আঞ্চলিক এবং রাজ্যের মহাসড়কগুলো সচল রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার পর জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ এবং উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করবে।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ