‘বাংলাদেশের দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলা’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ জুন ২০২৬, ২২:১২আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ২২:১২

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের দুর্নীতিতে টপ মোস্ট পেশা দুটো। এক নম্বরে আছে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আমলাদের নাম।

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এ সব কথা জানান।

রুমিন ফারহানা বলেন, এখানে ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মঞ্জুরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমি প্রতীকী হিসেবে ৫০০ টাকা হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছি। আমি মন্ত্রণালয়ের এই দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সার্চ করে দেখছিলাম, গুগল কী বলে? বাংলাদেশের দুর্নীতিতে টপ মোস্ট পেশা দুটো, কোনটা? দেখলাম এক নম্বরে আছে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আছে আমলা। কোনও রাজনীতিবিদ যখন পেশা হিসেবে লেখেন রাজনীতি, তখন আমি সঙ্গত কারণেই খুব অবাক হই। রাজনীতিবিদরা বেতন পান বা রাজনীতি করলে পয়সা উৎপাদন হয়, এটা সম্ভবত বাংলাদেশের মতন দেশেই সম্ভব। যে দেশটি ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমরা বিগত সরকারের আমলে ছাগলকাণ্ড দেখেছি। বালিশ দুর্নীতি দেখেছি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সময় যে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে সেটাও দেখেছি। আমরা দেখেছি, একজন পিয়ন কী করে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় এবং হেলিকপ্টার ছাড়া চলাফেরা করতে পারে না বলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন। আমরা ব্যাংক থেকে লক্ষ-কোটি টাকার লোপার্ট দেখেছি। ভুয়া কোম্পানির নামে অর্থ আত্মসাৎ ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি ইত্যাদি দেখেছি। ওভার ইনভয়েসিং আন্ডার ইনভয়েসিং হুন্ডি ভুয়া রফতানি বিল মারফত টাকা কীভাবে দেশের বাইরে পাচার হয়েছে, আমরা দেখেছি মেগা প্রজেক্ট মেগা দুর্নীতি। আমরা দেখেছি নিয়োগ পদোন্নতি এবং সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম, স্বাস্থ্য খাতে মিঠু সিন্ডিকেটের দৌড়াত্বের কথাও কম বেশি আমরা জানি। আর সে কারণেই আমাদের আশা ছিল, ৫ আগস্টের পরে যখন নতুন বাংলাদেশের কথা হচ্ছে, তখন দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে আমরা একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবো।

তিনি বলেন,  অন্তর্বর্তী সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল, অধ্যাদেশ তৈরি করেছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর একশ’র ওপর অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ আইন করা হয় নাই। সরকারের নিয়তটা কী তা এই দুর্নীতি দমন কমিশনকে নখদন্তহীন করে রাখবার এখান থেকে বের না হবার উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায় এই সরকার আসলে দুর্নীতি দমন করার বিষয়ে কতটুকু আন্তরিক। দুদককে শক্তিশালী করা হলে কেন সরকারগুলো ভয় পায় কিছু কিছু আমরা বুঝি। সরকারে সরাসরি যুক্ত থাকে রাজনীতিবিদরা এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে আমলারা। সেই কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশন যদি শক্তিশালী হয়ে যায় তখন রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের জন্য খুব ভালো খবর সেইটা নয়। সে কারণেই ঠিক যেভাবে একটার পর একটা ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে নাই। একইভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে মোটেও আন্তরিক নয়। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের তিন জন সদস্য কারা হবেন, এটাও সরকার ঠিক করে দেবে। যদিও অধ্যাদেশের মাধ্যমে যেই আইনটি করা হয়েছিল, সেখানে বলা ছিল যে, প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন বাকি সদস্যদের নির্বাচন করবে স্পিকার। সেটাও দলের হাতেই থাকতো। কিন্তু সেইটুকু করার মতন সাহসও সরকার দেখাতে পারে নাই।

/এসএমএ/আরকে/
সম্পর্কিত
বিধানসভা নির্বাচনের পর সীমান্তে ৩৬টি ‘পুশইন’ চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
আমাকে দুটি আসন দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি জেবা আমিন
এই বাজেট চানাচুর মার্কার মতো, খেলে পেট খারাপ হবে: সংসদে আমির হামজা
সর্বশেষ খবর
সেই খালেদা রাব্বানীকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, কথা শুনে আবেগাপ্লুত
সেই খালেদা রাব্বানীকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, কথা শুনে আবেগাপ্লুত
গেন্ডারিয়ায় ওয়ার্কশপ কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত
গেন্ডারিয়ায় ওয়ার্কশপ কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত
বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, জন্ম ১৯৮১ সালে বলে ভাইরাল জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত
বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, জন্ম ১৯৮১ সালে বলে ভাইরাল জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত
টিভিতে আজকের খেলা (১৮ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (১৮ জুন, ২০২৬)
সর্বাধিক পঠিত
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দাবির সঙ্গে একমত গভর্নর
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দাবির সঙ্গে একমত গভর্নর
অবশেষে মাকে নিয়ে সুখবর পেলেন ভোজিনহা
অবশেষে মাকে নিয়ে সুখবর পেলেন ভোজিনহা