X
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

‘৭১ এর বীরসেনা আতিয়ার এখন ভ্যান চালক

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ১০:৫০

Fredom fighter pic

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে লাঙল জোয়াল ফেলে যারা যুদ্ধে গিয়েছিল তাদের মধ্যে আতিয়ার রহমান একজন। যে স্বপ্ন নিয়ে ‘৭১ এর রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি তার। মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ী সেই যোদ্ধা এখন জীবন যুদ্ধে পরাজিত। রোগে-শোকে অনাহারে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। দেশ স্বাধীন করতে যে একদিন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন সেই মুক্তিযোদ্ধাই বেঁচে থাকার তাগিদে এখন ভ্যান চালাচ্ছেন।  

১৯৭১ সালে ২০ বছরের তরুণ ছিলেন আতিয়ার। টগবগে এক যুবক। তার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ী ইউনিয়নের নেবাখালি গ্রামে। ৫ ভাই আর দুই বোনের মধ্যে আতিয়ার রহমান সবার বড়। সংসারে অভাব থাকায় লেখাপড়া শেখা হয়নি। একাত্তরে যুদ্ধের সময় কাকডাংগা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হাকিমপুর যান আতিয়ার রহমান। প্রশিক্ষণ নিয়ে ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। লক্ষ্মীদাড়ী ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর বাগেরহাটের মংলায় যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। 

আতিয়ার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশের জন্য সেদিন জীবনের মায়া ত্যাগ করেছিলাম। একটি পতাকার জন্য লাঙল ফেলে হাতে নিয়েছিলাম অস্ত্র। তখন আমার বয়স ছিলো ২০ বছর। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৪ বছর আগে। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা সেদিন যুদ্ধ করেছিলাম তা আজও পূর্ণ হয়নি। আমাদের স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা, দরিদ্র্য, সন্ত্রাসমুক্ত একটি সোনার বাংলার। যে বাংলায় হিন্দু- মুসলিম সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। হিংসা- হানাহানি মুক্ত একটি শান্তিময় দেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।’

আতিয়ার রহমান বলেন, ‘সে স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। আজও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়। শুধু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিলে আমাদের ভাতা আরও বেশি হতো।’

আতিয়ার রহমানের তিন ছেলে। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সাত কাঠা জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে পেয়েছেন এক কাঠা। সেখানেই থাকেন তিনি। অভাবের কারণে তিন ছেলেকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। ছেলেরা মাঠে কৃষি কাজ করে। তাদের আলাদা সংসার। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান ঠিকই কিন্তু তাতে সংসার চলে না। তাই সংসার চালাতে ৬৫ বছর বয়সে তাকে ভ্যান চালাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন ৮০০০ টাকা ভাতা পাই। এ বাজারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। এরপর ডাক্তার খরচ।’

মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার জানান, ‘অর্থের অভাবে ছেলেদের লেখাপড়া শেখাতে পারিনি। ওরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কি জানে?’

তিনি বলেন, এ দেশের মাটিতে থাকা সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শহীদের আত্মা শান্তি পাবে না। এত বছর পর হলেও যে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী শাস্তি পেয়েছে তাতে আমি খুশি। এদের শাস্তি আরও আগে দরকার ছিলো। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

 

/এসটি/

সম্পর্কিত

সূর্যমনির শহীদদের স্মরণে নেই কোনও স্মৃতিস্তম্ভ

সূর্যমনির শহীদদের স্মরণে নেই কোনও স্মৃতিস্তম্ভ

জামালপুরের বেশিরভাগ বধ্যভূমি আজও অরক্ষিত

জামালপুরের বেশিরভাগ বধ্যভূমি আজও অরক্ষিত

সুনামগঞ্জের অনেক বধ্যভূমিতে এখনও নেই স্মৃতিস্মারক

সুনামগঞ্জের অনেক বধ্যভূমিতে এখনও নেই স্মৃতিস্মারক

রংপুর টাউনহল বধ্যভূমিতে পাওয়া যাচ্ছে হাড়গোড়

রংপুর টাউনহল বধ্যভূমিতে পাওয়া যাচ্ছে হাড়গোড়

একদিনে ৩৬৫ জনকে হত্যার সাক্ষী বড়ইতলা স্মৃতিসৌধ

একদিনে ৩৬৫ জনকে হত্যার সাক্ষী বড়ইতলা স্মৃতিসৌধ

আজ ঠাকুরগাঁও মুক্তদিবস

আজ ঠাকুরগাঁও মুক্তদিবস

বধ্যভূমির ওপর ব্যাংক ভবন!

বধ্যভূমির ওপর ব্যাংক ভবন!

সর্বশেষ

ঢাকা-কায়রো যুক্ত ঘোষণা

ঢাকা-কায়রো যুক্ত ঘোষণা

জামে আছে যত পুষ্টি

জামে আছে যত পুষ্টি

কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রধান ভূমিকা নেবে তুরস্ক: বাইডেন প্রশাসন

কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রধান ভূমিকা নেবে তুরস্ক: বাইডেন প্রশাসন

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: পুতিন

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: পুতিন

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নেদারল্যান্ডস

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নেদারল্যান্ডস

নীল জল থেকে উঠে জড়ালেন অন্তর্জালে!

নীল জল থেকে উঠে জড়ালেন অন্তর্জালে!

ব্রাজিলের অলিম্পিক দলে নেই নেইমার!

ব্রাজিলের অলিম্পিক দলে নেই নেইমার!

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মমতা

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মমতা

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনে ট্রেডমার্ক সনদ পেলো ওয়ালটন

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনে ট্রেডমার্ক সনদ পেলো ওয়ালটন

প্রথম ব্যাচের তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিলো ফুডপ্যান্ডা

প্রথম ব্যাচের তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিলো ফুডপ্যান্ডা

সিলেটের নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

সিলেটের নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune