X
রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

উত্তরা ফিন্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, উল্টো চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:৪৯

জনগণের আমানতের অর্থ স্বেচ্ছাচার করার অভিযোগের বিষয়ে উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের দেওয়া ব্যাখ্যা যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রভাবশালী একটি মহলের চাপ থাকায় উত্তরা ফিন্যান্সের বিরুদ্ধে এখনই কোনও ব্যবস্থা নিতে চাইছে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বলে পরিচিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। যদিও উত্তরা ফিন্যান্সের বিস্তর অনিয়মের তথ্য খুঁজে পেয়েছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কর্মকর্তারা।

উত্তরা ফিন্যান্সের ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ওপর পরিদর্শন করতে গিয়ে গুরুতর বেশ কয়েকটি অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সদস্যের পরিদর্শক দল প্রায় চার মাস পরিদর্শন শেষে সম্প্রতি এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তরা ফিন্যান্স পরিদর্শক দলের কাছে তছরুপের অর্থের তথ্য বা ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে অভিযুক্ত উত্তরা ফিন্যান্স সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাখ্যা এখন পর্যালোচনা করছে। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য মুখ খুলছেন না।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েকশ কোটি টাকা গড়মিলের কারণ সম্পর্কে কোনও তথ্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করেননি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান এমডি এসএম শামসুল আরেফিন, বর্তমান সিএফও কাজী আরিফুজ্জামান। অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উত্তরা ফিন্যান্সের কর্মকর্তারা। যদিও কোম্পানির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের কাছে অনিয়মের দায়ভার চাপানো হয়েছে সম্প্রতি মারা যাওয়া উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) উত্তম কুমারের ওপর। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃত সত্য আড়াল করতে সব অনিয়মের দায়ভার মৃত উত্তম কুমারের ওপর চাপানো হচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পরিদর্শন শুরুর পর একটি প্রভাবশালী গ্রুপ তা থামানোর চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপে পরিদর্শন শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে  গ্রাহকের জমানো টাকা হিসাবে জমা হয়নি। ঋণের তথ্যও গোপন করা হয়েছে। কলমানির ধারের টাকা একজন পরিচালক ব্যবহার করেছেন ব্যক্তিগত কাজে। অনুমোদন ছাড়া পরিচালকদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে টাকা দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে নিজের কাজে লাগিয়েছেন।

পরিদর্শন প্রতিবেদনের হিসেবে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কয়েকজন পরিচালক নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সময়ে তিন হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বের করে ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়েছেন। এর বাইরে অনুমোদিত ভবন ভাড়া ও শ্যাডো লেজারের মাধ্যমে লেনদেনসহ আরও অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিদর্শনের সময় 'ইনভেস্টর অ্যাকাউন্টস' নামে গোপন হিসাবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেখানে গত বছরের ডিসেম্বরে ঋণাত্মক স্থিতি ছিল ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। পরিদর্শনের সময় গত ৭ অক্টোবর তা বেড়ে ঋণাত্মক ৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা হয়েছে। এর কোনও তথ্যও বাংলাদেশ ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করেনি উত্তরা ফিন্যান্স। কোনও প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এ হিসাব বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের টিডিআর নগদায়ন, সুদ দেওয়া, পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট শেয়ার কেনার মূল্য পরিশোধ এবং পরিচালকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তরের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরা ফিন্যান্সের বার্ষিক হিসাব বিবরণীতে এক হাজার ৮০৩ কোটি টাকা লিজ অর্থায়ন বা ঋণের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অথচ ব্যাংকটির লেজার ব্যালেন্স পর্যালোচনায় তিন হাজার ৮০২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আবার এক হাজার ৮৭৭ কোটি ২১ লাখ টাকার মেয়াদি আমানত দেখানো হয়েছে আর্থিক বিবরণীতে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক দুই হাজার ৬০৩ কোটি ২০ লাখ টাকার মেয়াদি আমানতের তথ্য পেয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ও ঋণের প্রকৃত তথ্য আড়াল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গোপনে টাকা দেওয়া হয়েছে।

প্রকৃত আমানত দায় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে গোপন করে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আর্থিক কর্মোণ্ডে লিপ্ত বলে পরিদর্শক দল প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে।

পরিদর্শনে উত্তরা ফিন্যান্সের ব্যাংক হিসাব থেকে ১১৮টি অনুমোদনহীন উত্তোলনের মাধ্যমে উত্তরা মোটরস ও উত্তরা গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে ৩৩৬ কোটি বের করে নিয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কোনও বিবরণীতে এই ঋণের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ২০২০ সালেও এ ধরনের ভুয়া ঋণের নামে টাকা ওঠানো হয়েছে। ভুয়া শিরোনামে এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিবরণীতে অপ্রদর্শিত আমানতই এর মূল উৎস।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে মার্জিন ঋণ ও মার্চেন্ট ব্যাংকিং ইউনিটকে দেওয়া ঋণ হিসেবে ৫৯৭ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যার গ্রাহকভিত্তিক বিস্তারিত কোনও তথ্য শ্রেণিকৃত ঋণের বিবরণীতে নেই। শুধু তাই নয়, অনুমোদন ছাড়াই সাবসিডিয়ারি কোম্পানি উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে মার্জিন ঋণ বাবদ ২৪৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ কোনও তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, তা দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ৩৫০ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৭৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকাসহ ৫২১ কোটি টাকা কোনও আবেদন, প্রস্তাব বা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সরাসরি ছাড় করা হয়। এভাবে আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত অধিকাংশ চেকেই স্বাক্ষর করেছেন কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিল চন্দ্র দাস। তিনি নিয়মিত চাকরি থেকে ২০১১ সালের ১৯ জুন অবসরে গেলে তার চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়। তবে এর স্বপক্ষে পর্ষদ সভার কোনও রেজুলেশন পাওয়া যায়নি। এরপর এমডি শামসুল আরেফীনের একটি তারিখবিহীন অফিস নোটে অনিল চন্দ্রের চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। পর্ষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসান দুই বছর অনুমোদন করেন। পরে এমডি আবার তার চাকরির মেয়াদ ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করেন। এরপর আর তার চাকরির মেয়াদ না বাড়ালেও তিনি নিয়মিত কর্মকর্তাদের মতো সব কিছুতে স্বাক্ষর করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির স্থিতিপত্রে অগ্রিম ও প্রিপেমেন্ট খাতে ৯০ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং শেয়ারে বিনিয়োগ খাতে ২২১ কোটি আট লাখ টাকা দেখানো হলেও এ দুই খাতে সরবরাহ করা হয়েছে এক হাজার ২০১ কোটি ২০ লাখ টাকা। যার সবই গেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবে।  পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেজার ব্যালেন্স অনুযায়ী ছাড় করা অর্থের পরিমাণ এক হাজার ২০১ কোটি টাকা হলেও আর্থিক বিবরণীতে ৩৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা দেখানোর কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ খাতে ৮৮৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা গরমিলের বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম শামসুল আরেফীন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের কাছে কোনও জবাব দিতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে নগদ লেনদেনের সুযোগ না থাকলেও সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় সাধারণ খতিয়ানের 'অ্যাডভান্স অ্যান্ড পেমেন্ট' শিরোনামে কোম্পানির ব্যয় খাতে বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন পরিলক্ষিত হয়েছে। এ খাত থেকে বিভিন্ন তারিখে উত্তরা ফিন্যান্সের চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসানকে তার প্রাপ্যতাবহির্ভূত বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। অগ্রিম ও পরিশোধ খাতে পরিদর্শন তারিখে অর্থের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৯৯ কোটি টাকা। তবে বিপুল অঙ্কের এ অস্বাভাবিক লেনদেনের কোনও প্রতিফলন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, এক টাকাও আমানত রাখেননি, অথচ ২৩৬ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত রিসিপ্ট বা টিডিআর ইস্যু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুজিবুর রহমানের মালিকানাধীন ব্লু চিপস সিকিউরিটিজের নামে গত ৩১ আগস্ট এই ভুয়া টিডিআর ইস্যু করা হয়।

পরিদর্শক দল মন্তব্য করে বলেছে, ভুয়া টিডিআরের বিপরীতে পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে তার দায়ভার উত্তরা মোটরসের ওপর এসে পড়বে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তরা ফিন্যান্সের স্বচ্ছ কোনও হিসাব বিবরণী না থাকায় কী পরিমাণ ভুয়া টিডিআর ইস্যু করা হয়েছে, তা উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি। তবে পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারি হেড মো. মাইনউদ্দীনের কাছে ২০০টি টিডিআর ইস্যুর বই পাওয়া গেছে। এর কোনও হিসাব প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার বা নথিতে নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে,  কলমানি থেকে উত্তরা ফিন্যান্সের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে ছিল ৩৯৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তবে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে মাত্র ১৬ কোটি টাকার তথ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। কলমানি থেকে নেওয়া অর্থ বিভিন্ন তারিখে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুজিবুর রহমানকে সরাসরি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কলমানি থেকে নেওয়া ৩৮১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ব্যবস্থাপনা ব্যয় নামে প্রতিষ্ঠানের এমডি শামসুল আরেফীন নিজেও ২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। এই তথ্যও ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ নেই। আবার তার নামে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনও ঋণও নেই। বিভিন্ন উপায়ে নেওয়া অর্থ এমডির গাড়ি, বাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করার তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমডির পক্ষে সাউথ ব্রিজ হাউজিং লিমিটেডকে ছয় কোটি টাকা, বে ডেভেলপমেন্টকে এক কোটি টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি কেনায় ডিএইচএস মোটরসে ৫০ লাখ টাকা ও উত্তরা মোটরসকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন তারিখে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ তুলে নগদ ডলার ও ইউরো কেনায় পরিশোধ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যাংকের এমডি পরিদর্শক দলকে জানান, তার সন্তান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় ছেলের চিকিৎসার প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে অর্থ উত্তোলন করেন। সুবিধামতো তা আবার ফেরত দিয়েছেন। যদিও এমডির এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে উত্তরা ফিন্যান্স গত সপ্তাহে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিয়েছে। তাতে দালিলিক প্রমাণ ও ভাউচারসহ সব জবাব দেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক সেই তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাই করছে। এ বিষয়ে উত্তরা ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম শামসুল আরেফিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১২ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার দিকে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবো। সেখানে আমরা সব বলবো।

/এমআর/আপ-এনএস/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:৪১

রবিবার (১ আগস্ট) থেকে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলো চালু হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য ১৫টি শর্ত মানতে হবে কারখানা মালিকদের। শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে গার্মেন্টস মালিকদের এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন- বিজিএমইএ।

সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেওয়া শর্তগুলো হলো:

১. কারখানা খোলা এবং ছুটির সময়ে গেট বা কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের ভিড় এড়ানোর লক্ষ্যে কারখানায় প্রবেশ ও কারখানা ত্যাগ করার বিষয়ে Staggered Time নির্ধারণ করার ওপর জোর দেওয়া।

২. শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে গমনাগমন পথের ব্যবহার নিশ্চিত করা (রশি/শিকল দিয়ে পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা লাইন করে কারখানায় প্রবেশ এবং বাহির নিশ্চিত করতে হবে।

৩. সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা বিভিন্ন শিফটে নির্ধারণ করা।

৪. ফ্লোরে বা কাজের স্থানগুলোতে ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা।

৫. দুপুরের খাবারের বিরতি বা অন্যান্য বিরতি যথাসম্ভব Staggered Time এ করা।

৬. কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা অথবা প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা।

৭. কর্মস্থলে (কারখানা বা প্রতিষ্ঠান) সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে হাত পরিষ্কার সমগ্রী রাখা এবং নিয়মিত সেগুলো পুনর্ভর্তি করা।

৮. পর্যাপ্ত সংখ্যক সাবানের ব্যবস্থাসহ প্রধান ফটকে হাত ধৌতকরণ-স্থান নির্দিষ্ট করা।

৯. কারখানায় প্রবেশের সময় সব শ্রমিক-কর্মচারীর হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা।

১০. হাত ধৌতকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণের প্রতিটি স্থান/পানির কলের মধ্যে ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব নিশ্চিত করা।

১১. হাত ধৌতকরণ এবং জীবাণুমুক্তকরণের সঠিক পদ্ধতিগত নির্দেশাবলী দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করা (যেমন: উভয়হাত কমপক্ষে

২০ সেকেন্ড ধরে ধৌত করা)।

১২. হাত ধোয়ার পর শুকানোর জন্য ড্রায়ার বা টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা রাখা।

১৩. সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১৪. কারখানার বাইরে সভা সমাবেশ, গণপরিবহন এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে শ্রমিকদের উৎসাহিত করা।

১৫. করোনা সংক্রমণের উপসর্গ সম্পর্কে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবহিত করা।

 

/জিএম/আইএ/

সম্পর্কিত

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:২২

পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের সুপার হাইওয়েতে রয়েছে। এটাকে টেকসই করার জন্য নিজস্ব সম্পদ, জনশক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু দেশে জ্বালানিসহ সকল খাতে দক্ষ জনবলের সংকট চরমে। ফলে প্রবাসী  বাংলাদেশিরা এই ঘাটতি পূরণে বড় অবদান রাখতে পারে। 

শনিবার (৩১ জুলাই) এনার্জি এন্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এনার্জি সেক্টর হিউম্যান রির্সোস ডেভলপমেন্ট: ক্যান এনআরবি এক্সপার্ট সাপোর্ট?’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ম. তামিম, ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর,  ইউনিভারসিটি অব কুইনল্যান্ডের প্রফেসর ড. তপন সাহা, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন, আরএমআইটির প্রফেসর ড. ফিরোজ আলম ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার আবদুল সালেক। 

ম. তামিম বলেন, কেবল জ্বালানি খাতে নয়, সকল খাতেই দক্ষ জনবল সংকটের মধ্যে আছে। দক্ষ জনবল চাহিদা নিরূপণ ও গড়ে তোলার জন্য একটি বিভাগ বা স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাজারের চাহিদার নিরিখে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনছে। বুয়েটও তার শিক্ষাক্রমে আগামী ২ বছরের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। কিন্তু এটাকে সাসটেইনেবল করতে চাইলে নিজস্ব সম্পদ, প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে কাজে লাগানোর কোনও বিকল্প নেই। প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরাও আমাদের এক বড় সম্পদ। ফলে দক্ষ জনবল ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রবাসী বিশেষজ্ঞদেরও উন্নয়নকাজে যুক্ত করার কোনও বিকল্প নেই।

ড. তপন সাহা বলেন, কোথা থেকে কোনও প্রবাসী বিশেষজ্ঞ কিভাবে বাংলাদেশে  সহায়তা করতে হবে তার একটি ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে টেকসই উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। 

মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, প্রবাসীরা কীভাবে অবদান রাখতে পারে তার জন্য আইইবি তাদের বিদেশি চ্যাপ্টারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

/এসএনএস/এমআর/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:০৩

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন, আবেদন ফি, নামের ছাড়পত্র ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি জমাসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ করে দিয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিসিআইঅ্যান্ডই, বিডা, এনবিআর, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ফলে সকল অনুষ্ঠানিকতা সহজ হয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের টিম কমার্সের কর্মদক্ষতায় বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য অনলাইনে বাণিজ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজ করতে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনসহ সকল বাণিজ্যসেবা অনলাইনে প্রদান করছে। 

উল্লেখ্য, ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন সুবিধায় বাণিজ্য সহজীকরণে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। দেশি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশনসহ বাণিজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদানে সফলতার জন্য ২০২১ সালে দলগত (কারিগরি) শ্রেণিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরকে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে পদক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। এ জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরের পক্ষে তৎকালীন নিবন্ধক বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মকবুল হোসেনসহ দলের সদস্যরা জনপ্রশাসন পদক গ্রহণ করেন। 

/এসআই/এমআর/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২১:২৫

শ্রমিকদের কারখানায় আসার জন্য বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কোনও মালিক বাধ্য করছে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, কারখানা চালু করতে সব শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। আপাতত, ঈদের যারা ছুটিতে বাড়িতে যায়নি ও যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের দিয়ে কারখানা চালু করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকরা হয়ত নিজ থেকে আসা শুরু করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রফতানিমুখী শিল্পকারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আগামীকাল রবিববার সকল গণপরিবহন চলাচল শিথিল করেছে সরকার। যেসব শ্রমিক আগামীকাল রবিবার বাড়ি থেকে আসতে চান, তাদের জন্য গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না। এছাড়া লঞ্চসহ শ্রমিকদের জন্য নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ বড় বড় কারখানা ঢাকার বাইরে। আশুলিয়া, সাভার, মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের কারখানার  শ্রমিকদের ঢাকায় আসার দরকার পড়ছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় বসবাসকারী শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু হচ্ছে। এছাড়া যারা ঈদে বাড়ি যায়নি তাদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। কাজেই যারা ঈদে বাড়ি গেছেন, তারা লকডাউন শিথিল হলে কাজে যোগ দিবেন। তাদের কারও চাকরি যাবে না। তিনি আরও বলেন, কোনও মালিক বা কোনও কারখানার পক্ষ থেকে শ্রমিকদের আসার জন্য বাধ্য করা হয়েছে একথা সত্য নয়।

 

/জিএম/এফএএন/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:০০

দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে এই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনাস্থার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এখন বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে এই শেয়ারবাজার। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শহরে রোডশো করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এ রোডশোর উদ্বোধন করা হয়।

বিএসইসি থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এ রোডশোর আয়োজন করা হয়েছে। এ দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরাই এ রোডশো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে ঈদের পর প্রথম সপ্তাহ ভালো গেলো না শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য। গেলো সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ার কারণে ৭৮১ কোটি টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য ঈদের আগে টানা তিন সপ্তাহ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা টাকার পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়। গত ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার থেকে দেশের শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হয়। গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকে বাজার।

এতে মূল্যসূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজার মূলধনে। গেলো সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ৭৮১ কোটি টাকা।

ঈদের আগের তিন সপ্তাহের টানা উত্থানে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ে ২০ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বাড়ার পর বাজার মূলধন ৭৮১ কোটি টাকা কমলো। এতে জুলাই মাসে ডিএসই’র বাজার মূলধন ২০ হাজার ১২২ কোটি টাকা বেড়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স বেড়েছে ২০ দশমিক ২১ পয়েন্ট। ঈদের আগের তিন সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ২৫৫ পয়েন্ট। এতে চার সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়লো ২৭৬ পয়েন্ট।

চার সপ্তাহের এই টানা উত্থানের কারণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থাতে পৌঁছে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স। মূল্যসূচকের ভুল গণনা বন্ধ করতে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন সূচক ডিএসই-এক্স চালু করে ডিএসই। চার হাজার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সূচকটি এখন ছয় হাজার ৪২৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক রেকর্ড অবস্থানে উঠে আসার পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। গেলো সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। ঈদের আগে তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১১৩ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট।

অপরদিকে, ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট। ঈদের আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ১২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৩ হাজার ৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৪ হাজার ৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

মালিকদের উদ্দেশে যা বললেন বিজিএমইএ সভাপতি

সর্বশেষ

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে অটোয়ায় বঙ্গবন্ধু

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে অটোয়ায় বঙ্গবন্ধু

প্রিন্সেস ডায়ানা-চার্লসের বিয়ের কেক নিলামে

প্রিন্সেস ডায়ানা-চার্লসের বিয়ের কেক নিলামে

ঘরে বসেই দেদার আড্ডা

আজ বন্ধু দিবসঘরে বসেই দেদার আড্ডা

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

‘জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল সংকট মেটাতে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দিতে হবে’

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্য সহজীকরণে এগিয়ে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না: ফারুক হাসান

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

বিদেশি ও প্রবাসীদের ডাকছে শেয়ারবাজার

© 2021 Bangla Tribune