X
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ৬ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২১, ১৯:৫৯

পেশায় দিনমজুর জয়নাল আলী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুতে পারেননি। আর্থিক অনটনে বিদ্যালয় ছেড়ে শ্রম বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন সেই শিশু বয়সেই। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে ভাটা পড়েনি তাতে। নিজের প্রচেষ্টায় বই পড়ে পড়ে স্বশিক্ষিত হন তিনি। আর শিক্ষা ও বইয়ের প্রতি এই আগ্রহ ও ভালোবাসা থেকে গ্রামের ছেলেমেয়েদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন গ্রাম পাঠাগার ‘সাতভিটা গ্রন্থনীড়'।

গ্রাম পাঠাগারের উদ্যোক্তা জয়নালের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাতভিটা গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে। জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত এই গ্রামে ২০১৫ সালে শ’খানেক বই নিয়ে নিজ বাড়িতে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন জয়নাল। শুরুটা বন্ধুর হলেও প্রত্যন্ত একটি অঞ্চলে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন দিনমজুর উদ্যোক্তা জয়নাল আলী।

'বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আর গ্রামের শিশু কিশোরসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞান চর্চার সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি', বলেন জয়নাল।

জয়নাল আলী জয়নাল জানান, তিনি পেশায় মূলত দিনমজুর। এছাড়াও মৌসুমভিত্তিক ধান ব্যবসাও করেন তিনি। ধানের মৌসুম ছাড়া বাকি সময় দিনমজুরের কাজ করে চলে সংসার। পারিবারিক অভাব অনটনে প্রাথমিকের গন্ডিও পার হতে পারেননি। কিন্তু এরপরও শিক্ষা থেকে দূরে থাকেননি তিনি। নিজে বই পড়ে পড়ে স্বশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোগ নেন নিজ এলাকায় পাঠাগার গড়ে তোলার। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ সফলতার আলো ফুটেছে তার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়' পাঠাগারে।

পাঠাগার প্রতিষ্ঠার শুরুর গল্প বলতে গিয়ে জয়নাল আলী জানান, দিনমজুরের কাজ করে রোজগারের টাকার কিছু কিছু জমিয়ে ২০১৫ সালের দিকে প্রায় ১০০ বই নিয়ে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন তার শখের পাঠাগার। গ্রাম অঞ্চলে পাঠক জোগাড় করতে ছুটতে হয়েছিল শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি। বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে বই সরবরাহ করতে হতো বলেও জানান তিনি। বর্তমানে জয়নালের গ্রন্থনীড় পাঠাগার পাঁচ শতাধিক বইয়ে সমৃদ্ধ।

বসতবাড়ি থেকে বর্তমানে নতুন কেনা জমিতে নতুন ঘরে পাঠাগার স্থানান্তরিত করেছেন জয়নাল। সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশে পাঠকরা যাতে আলাদা পরিবেশে বই পড়তে পারেন সেজন্য এই উদ্যোগ।

জয়নাল আলীর পাঠাগার 'ধীরে ধীরে পাঠক সংখ্যা বাড়তে থাকলে ২০১৯ সালে নিজের জমানো টাকা দিয়ে এক শতক জমি কিনে সেখানে টিনের ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলেও স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধীরে ধীরে এগুতে থাকি। এক শতক জমি, পাঠাগারের ঘর ও আসবাবপত্র নির্মাণে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে যার সবটাই আমার দিনমজুরি করে আয়ের জমানো টাকায় করা। আজ আমার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। পাঠকরা এখন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়তে পারবেন।' বলেন জয়নাল।

জয়নালের পাঠাগারে বই পড়ে উপকৃত হচ্ছেন গ্রামের শিক্ষার্থী ও শিশু কিশোররা। তারা জয়নালের এমন উদ্যোগে অনুপ্রাণিত।

স্থানীয় যুবক পলাশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘প্রায় চার মাস থেকে আমি এই পাঠাগারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে জয়নাল ভাইয়ের মতো বইপ্রেমী যুবক আমাদের গ্রামে আছে।'

সাতভিটা বিশেষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পাঠাগারের পাঠক আম্বিয়া আক্তার মিম বলেন, ‘আমরা স্কুলের বই পড়ার পাশাপাশি অনেক ধরনের বই পড়তে পারছি। জয়নাল ভাই আমাদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে বই পড়ান।'

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে জয়নালের স্বপ্ননীড় পাঠাগারের নতুন ভবন উদ্বোধন ও সেরা পাঠককে পুরস্কৃত করা হয়। সে উপলক্ষে জয়নালের উদ্যোগকে সমর্থন এবং তাকে অনুপ্রাণিত করতে জেলা শহর থেকে ছুটে যান শিক্ষক, লাইব্রেরিয়ান, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বইয়ের প্রতি ভালোবাসার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন অতিথিরা।

জয়নাল আলীর পাঠাগার পাঠাগার পরিদর্শনে যাওয়া অতিথি আখতারুল ইসলাম রাজু বলেন, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে প্রত্যন্ত একটি গ্রামে এরকম একটি পাঠাগার তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বই পড়ার আন্দোলন এক ধাপ এগিয়ে গেলো।'

সমাজকর্মী সুব্রতা রায় বলেন, লাইব্রেরিগুলো গ্রামেই হওয়া উচিত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে পড়াশোনা খুবই জরুরি। শিশু-কিশোরসহ শিক্ষার্থীরা বইকে বন্ধু করতে পারলে সমাজটাই পাল্টে যাবে।’

শিক্ষক ও সাংবাদিক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক পড়াশোনার থেকে পুস্তকভিত্তিক পড়াশোনার গুরুত্ব বেশি যা এই পাঠাগারে সম্ভব। জয়নালের এই উদ্যোগকে আমরা স্বানন্দ্যে স্বাগত জানাই।

জয়নাল আলীর পাঠাগার পরিদর্শনে যাওয়া কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সুশান্ত বর্মন বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের আগ্রহ ও সহযোগিতা থাকবে এই পাঠাগারটিকে সমৃদ্ধ করার জন্য।'

'পাঠক পাঠাগারের প্রাণ। তাদের পাঠাগারে আনতে পারাটা একটা বড় অর্জন। জয়নাল বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠক সংগ্রহ করছেন যা এই উদ্যোগকে সফল করবে বলে আমি মনে করি।' যোগ করেন এই শিক্ষক।

জয়নালের পাঠাগার তার গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে জ্ঞানের আলো ছড়াবে এই প্রত্যাশা সবার।

 

 

/টিএন/

সম্পর্কিত

বাস ছাড়া সবই চলে!

বাস ছাড়া সবই চলে!

সৌদিতে ১৭ মে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু

সৌদিতে ১৭ মে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু

আরও এক সপ্তাহ ‘কঠোর লকডাউনের’ সুপারিশ

আরও এক সপ্তাহ ‘কঠোর লকডাউনের’ সুপারিশ

হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে আরও ৬২ আলেমের বিবৃতি

হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে আরও ৬২ আলেমের বিবৃতি

বাড়ির উঠানের পানির ট্যাংকে পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

বাড়ির উঠানের পানির ট্যাংকে পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

সোয়া কোটি মানুষের জন্য মোটে ২৬টি আইসিইউ বেড!

সোয়া কোটি মানুষের জন্য মোটে ২৬টি আইসিইউ বেড!

লন্ডনে তালা ভেঙে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের জামাতার লাশ উদ্ধার

লন্ডনে তালা ভেঙে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের জামাতার লাশ উদ্ধার

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে আরও দুই ডজন হেফাজত নেতা

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে আরও দুই ডজন হেফাজত নেতা

ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন পেয়ে কারামুক্ত ৯ হাজার আসামি

ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন পেয়ে কারামুক্ত ৯ হাজার আসামি

পথেই ইফতার

পথেই ইফতার

লকডাউন বাড়লে ফ্লাইটও বন্ধ

লকডাউন বাড়লে ফ্লাইটও বন্ধ

‘যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন ও বিচার চেয়ে নারী আইনজীবীর আবেদন

‘যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন ও বিচার চেয়ে নারী আইনজীবীর আবেদন

সর্বশেষ

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে দুষ্প্রাপ্য মণিরাজ ফুল

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে দুষ্প্রাপ্য মণিরাজ ফুল

৭ দিনের রিমান্ডে মামুনুল

৭ দিনের রিমান্ডে মামুনুল

বাস ছাড়া সবই চলে!

বাস ছাড়া সবই চলে!

সৌদিতে ১৭ মে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু

সৌদিতে ১৭ মে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু

হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত মুরালিধরন  

হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত মুরালিধরন  

আদালতে মামুনুল হক, নিরাপত্তা জোরদার

আদালতে মামুনুল হক, নিরাপত্তা জোরদার

পাকিস্তানে টিএলপি-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৩

পাকিস্তানে টিএলপি-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৩

আরও এক সপ্তাহ ‘কঠোর লকডাউনের’ সুপারিশ

আরও এক সপ্তাহ ‘কঠোর লকডাউনের’ সুপারিশ

২০ চেক কূটনীতিককে বহিষ্কার রাশিয়ার

২০ চেক কূটনীতিককে বহিষ্কার রাশিয়ার

কলাবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩

কলাবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৩

দুই নারী সঙ্গীর বিষয়ে পুলিশকে যা বললেন মামুনুল

দুই নারী সঙ্গীর বিষয়ে পুলিশকে যা বললেন মামুনুল

বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে বিষাক্ত নদী, মরছে মাছ-জলজ প্রাণি

বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে বিষাক্ত নদী, মরছে মাছ-জলজ প্রাণি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বাড়ির উঠানের পানির ট্যাংকে পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

বাড়ির উঠানের পানির ট্যাংকে পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

সোয়া কোটি মানুষের জন্য মোটে ২৬টি আইসিইউ বেড!

সোয়া কোটি মানুষের জন্য মোটে ২৬টি আইসিইউ বেড!

পচা চাল পালিশ!

পচা চাল পালিশ!

ঝড়ে উড়ে গেলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরের চালা!

ঝড়ে উড়ে গেলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরের চালা!

বুড়িমারীতে জুয়েল হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেফতার

বুড়িমারীতে জুয়েল হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেফতার

মেনে নেওয়া হবে শ্রমিকদের দাবি

বাঁশখালী হত্যাকাণ্ডমেনে নেওয়া হবে শ্রমিকদের দাবি

‘গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুলিশ আমাদের গুলি করে’

বাঁশখালীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ‘গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুলিশ আমাদের গুলি করে’

এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ৫ জন নিহত

এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ৫ জন নিহত

পিকআপে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত, আহত ২২

পিকআপে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত, আহত ২২

অপহরণের পর ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে: প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

অপহরণের পর ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে: প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.
© 2021 Bangla Tribune