X
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

‘সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে’

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০২:২২

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৭ এপ্রিল) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে হলেও ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের সম্ভ্রমে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে। জাতির পিতা যে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সব আশুষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কার্যকরি ভূমিকা রাখবো, ইনশাআল্লাহ।

বাণীতে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহুকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।

প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা- শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, শহীদ মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের স্মৃতির প্রতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। ৩ নভেম্বর জেলখানায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল না। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আমরা জাতির পিতাসহ জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার করেছি।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করেছি। সেই থেকে গত ১২ বছরে আমরা উন্নয়নের সব সূচকে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশের নীচে নামিয়ে এনেছি। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করেছি এবং এর বাস্তবায়নও শুরু করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। তাঁর নির্দেশেই বাংলাদেশের সব প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে, জাতির পিতা স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা বার্তা লিখে যান- ‘ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। — চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।’ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি গণপরিষদ গঠনপূর্বক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক ইতোপূর্বে ঘোষিত স্বাধীনতা দৃঢ় সমর্থন ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথগ্রহণ করেন। পাশাপাশি এদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। ফলে, অস্থায়ী সরকার ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে প্রবাসী সরকারের কার্যক্রম চালাতে থাকে। বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে পূর্ব বাংলায় নারকীয় তাণ্ডবলীলা ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

তিনি ‘মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

সূত্র: বাসস

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

খাকদোনের দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

খাকদোনের দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

কেন এত বজ্রপাত? সাবধানে থাকতে যা করতে হবে

কেন এত বজ্রপাত? সাবধানে থাকতে যা করতে হবে

পাতার রসে সারবে করোনা!

পাতার রসে সারবে করোনা!

'আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে'

'আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে'

ডিএনসিসির অভিযানে অনিয়মের খেসারত দিলেন ব্যবসায়ীরা

ডিএনসিসির অভিযানে অনিয়মের খেসারত দিলেন ব্যবসায়ীরা

যে পদ্ধতিতে দেশের ৩ কোম্পানি টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাইয়ের তালিকায়

যে পদ্ধতিতে দেশের ৩ কোম্পানি টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাইয়ের তালিকায়

প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবে নাগরিক সমাজ

প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবে নাগরিক সমাজ

দিনাজপুরে স্বস্তির বৃষ্টি

দিনাজপুরে স্বস্তির বৃষ্টি

সরকারের অনুমতির পরই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত: খালেদা জিয়ার চিকিৎসক

সরকারের অনুমতির পরই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত: খালেদা জিয়ার চিকিৎসক

দেশেই হবে ভ্যাকসিন, এগিয়ে ইনসেপটা ও পপুলার

দেশেই হবে ভ্যাকসিন, এগিয়ে ইনসেপটা ও পপুলার

পদ্মা সেতুর প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানোর খবর সত্য নয়: কাদের

পদ্মা সেতুর প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানোর খবর সত্য নয়: কাদের

ভ্যাকসিন পেতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভ্যাকসিন পেতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ

নারায়ণগ‌ঞ্জের মে‌রিনা লন্ড‌নের অ্যাসেম্বলি মেম্বার নির্বাচিত

নারায়ণগ‌ঞ্জের মে‌রিনা লন্ড‌নের অ্যাসেম্বলি মেম্বার নির্বাচিত

সকাল থেকে যাত্রীবাহী ফেরি বন্ধ

সকাল থেকে যাত্রীবাহী ফেরি বন্ধ

সুহিতা সুলতানা

সুহিতা সুলতানা

আপনার শুভেচ্ছা বার্তায় আমি আপ্লুত: প্রধানমন্ত্রীকে মমতা

আপনার শুভেচ্ছা বার্তায় আমি আপ্লুত: প্রধানমন্ত্রীকে মমতা

আজ বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস

আজ বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস

হাতিয়ায় ইউপি সদস্য প্রার্থীকে হত্যার ঘটনায় আটক ৭

হাতিয়ায় ইউপি সদস্য প্রার্থীকে হত্যার ঘটনায় আটক ৭

খাকদোনের দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

খাকদোনের দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

থ্যালাসেমিয়া রোগনিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধের কোনও বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

থ্যালাসেমিয়া রোগনিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধের কোনও বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

মালদ্বীপ যাওয়ার আগে উজ্জীবিত বসুন্ধরা

মালদ্বীপ যাওয়ার আগে উজ্জীবিত বসুন্ধরা

বাড়ি দখলে মালিকের বিরুদ্ধে শকুনের 'যুদ্ধ ঘোষণা'

বাড়ি দখলে মালিকের বিরুদ্ধে শকুনের 'যুদ্ধ ঘোষণা'

যানজট ঠেলে শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়,  উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

যানজট ঠেলে শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়, উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

কেন এত বজ্রপাত? সাবধানে থাকতে যা করতে হবে

কেন এত বজ্রপাত? সাবধানে থাকতে যা করতে হবে

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

'আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে'

'আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে'

যে পদ্ধতিতে দেশের ৩ কোম্পানি টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাইয়ের তালিকায়

যে পদ্ধতিতে দেশের ৩ কোম্পানি টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাইয়ের তালিকায়

দেশেই হবে ভ্যাকসিন, এগিয়ে ইনসেপটা ও পপুলার

দেশেই হবে ভ্যাকসিন, এগিয়ে ইনসেপটা ও পপুলার

পদ্মা সেতুর প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানোর খবর সত্য নয়: কাদের

পদ্মা সেতুর প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানোর খবর সত্য নয়: কাদের

১৮ মে রোহিঙ্গাদের ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ ঘোষণা

১৮ মে রোহিঙ্গাদের ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ ঘোষণা

জীবন-জীবিকার মাঝে সমন্বয়ের কারণে করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে: কাদের

জীবন-জীবিকার মাঝে সমন্বয়ের কারণে করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে: কাদের

পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু ৩৭ জন

পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু ৩৭ জন

যত টিকা তত পরিকল্পনা

যত টিকা তত পরিকল্পনা

মাস্ক ব্যবহারে সরকারের ৮ নির্দেশনা

মাস্ক ব্যবহারে সরকারের ৮ নির্দেশনা

জনগণের পাশে থাকাই এখন আ.লীগের রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী

জনগণের পাশে থাকাই এখন আ.লীগের রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune