সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য না করতে বিজ্ঞপ্তি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ জুন ২০২১, ১৯:২২আপডেট : ০৯ জুন ২০২১, ২০:৫১

‘বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে’ এমন কিছু ‘সামাজিক মাধ্যমে’ না লেখার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ। বুধবার (৯ জুন) বিভাগের সভাপতি আনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীরা বিভাগ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করবে না। এতে বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।’

বিজ্ঞপ্তিটি পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের শিক্ষকরা বলছেন, যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিক্ষার্থীদের গণ্ডি ছোট করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা বলার মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার জানার জগৎকে সম্প্রসারিত করবে এটাই কামনা করা হয়। সেখানে এধরনের নিষেধাজ্ঞা যৌক্তিক না।

বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নিতে হবে। মত প্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।

ওই বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলছেন, চার মাস হলো আমাদের স্নাতকের ফল আটকে আছে। আমরা ক্লাস পরীক্ষা এসব নিয়ে ফেসবুকে নিজেদের মধ্যে কেন কথা বলতে পারবো না? এখন তো ছুটি। এসময়ে ফলাফল প্রকাশে তো কোনও বাধা নেই। আমরা বিষয়টি নিয়ে আমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, অন্য বিভাগের বিষয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করা শোভন নয়। তবে আমরা এই বিষয়ের সঙ্গে একমত নই। শিক্ষার্থীরা নানা ফোরামে যৌক্তিক সমালোচনা করতেই পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেখানে হস্তক্ষেপ করা শোভন নয়। 

এ ব্যাপারে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। অনেক সময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেগপ্রবণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কিছু লিখে থাকেন। এতে বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ কারণে এমন কিছু যেন না লেখেন সেজন্য একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অধিকার সংবিধান কাউকে দেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় এমন কাজ কেন করবে? তিনি মনে করেন এটা একটা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মাহবুবা জাহান বলেন, রাজনীতি বিজ্ঞান এমন একটা বিভাগ যে বিভাগে সংবিধান পড়ানো হয়, যারা নাগরিক অধিকার বিষয়ে সতর্ক করবে তারা যদি বাক স্বাধীনতা হরণের বিজ্ঞপ্তি দেয় তাহলে সেটা ভীষণ নিন্দনীয়। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন মত প্রকাশের জায়গা। এখানে শিক্ষার্থীদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া অন্য আরও বিধিনিষেধ জারির প্রথম ধাপ।
 
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান মনে করেন, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মতামত প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মত প্রকাশ করবেই। তবে নানা ইস্যুতে ফান করতে গিয়ে একটু এদিক সেদিক মন্তব্য হয়, সেটা ভিন্নভাবে করতে হবে। আমার মনে হয় আরেকটু লিবারেল পন্থায় বিষয়টা ম্যানেজ করা যেতো।
/ইউআই/এমআর/
সম্পর্কিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নগদের ক্যারিয়ার ফেস্ট, চাকরি পেলেন ৫ শিক্ষার্থী
আজও বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা 
বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের মারামারি, আহত ২
সর্বশেষ খবর
কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি
কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি
বালকদের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী, বালিকাদের ঢাকা
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসবালকদের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী, বালিকাদের ঢাকা
সংসদের বিরোধী দল কি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে পারে?
সংসদের বিরোধী দল কি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে পারে?
হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, আশা ভোলার বিএনপি নেতাকর্মীদের
হাফিজ উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, আশা ভোলার বিএনপি নেতাকর্মীদের
সর্বাধিক পঠিত
দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, দেখালেন নতুন পথ
দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, দেখালেন নতুন পথ
একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি, জামায়াতপন্থিদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি, জামায়াতপন্থিদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে রেলওয়ের ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে রেলওয়ের ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে, একজনের নাম উল্লেখ করে যা বললেন আসিফ নজরুল
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে, একজনের নাম উল্লেখ করে যা বললেন আসিফ নজরুল
অবশেষে আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতিকে দুই সিটিতে বদলি
অবশেষে আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতিকে দুই সিটিতে বদলি