X
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

সফটওয়্যার মুঘল জন ম্যাকএ্যাফির মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০৩:২৯

স্পেনের বার্সেলোনার একটি কারাগার থেকে মার্কিন সফটওয়্যার মুঘল জন ম্যাকএ্যাফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্পেনের একটি আদালত তাকে কর ফাঁকির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় কারাগারে তার মরদেহ দেখতে পান কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

কাতালান বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কারাগারের চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সবকিছু ইঙ্গিত করছে, ম্যাকএ্যাফি নিজেই নিজের জীবন নিয়েছেন। অর্থাৎ, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ম্যাকএ্যাফির আইনজীবীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রিজন সেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

২০২০ সালের অক্টোবরে স্পেনে গ্রেফতার হন জন ম্যাকএ্যাফি। তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ উপার্জন সত্ত্বেও চার বছর ধরে ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ম্যাকএ্যাফি তার নিজের আয় তার মনোনীত অন্য লোকদের নানা অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিনি ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেননি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বেনামে থাকা প্রমোদতরী এবং বাড়ি-জমির মতো সম্পদ গোপন করার অভিযোগ ছিল।

প্রযুক্তির জগতে বহুল আলোচিত ম্যাকএ্যাফি সবার নজর কাড়েন ১৯৮০-এর দশকে। তখন ম্যাকএ্যাফি ভাইরাসস্ক্যান নামে প্রথম বাণিজ্যিক এ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বাজারে ছাড়েন তিনি। পরে এটি শত শত কোটি ডলারের এক শিল্পে পরিণত হয়। অবশ্য পরে সেই ব্যবসা ইনটেল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেন। তবে পরবর্তীতে নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন সাইবার-সিকিউরিটি পণ্য তৈরি করছেন। তিনি নিজে বহুবার ট্যাক্স দেওয়ার ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। ট্যাক্স বিষয়টিকেই অবৈধ মনে করতেন এই সফটওয়্যার মুঘল। ২০১৬ ও ২০২০ সালে ম্যাকএ্যাফি লিবার্টারিয়ান পার্টি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

ম্যাকএ্যাফির জন্ম যুক্তরাজ্যে। তার মা ইংরেজ এবং বাবা ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে থাকা একজন আমেরিকান সেনা। তার বাবা পরে অ্যালকোহল-আসক্ত এবং অত্যাচারী হয়ে পড়েন এবং নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। ম্যাকএ্যাফি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এ্যালকোহল ও মাদকে আসক্ত হন। লকহিড মার্টিন কোম্পানিতে কাজ করার সময় তিনি প্রথম কম্পিউটার ভাইরাসের সঙ্গে পরিচিত হন। বের করেন কম্পিউটারগুলোকে ভাইরাসমুক্ত করার এক পদ্ধতি। তিনি নিজের নামে কোম্পানি চালু করে এর ব্যবসা শুরু করেন। পরে তিনি এই কোম্পানি ইনটেলের কাছে বিক্রি করে দেন ৭৬০ কোটি ডলারে। তার কোম্পানি এ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বিক্রি করলেও ম্যাকএ্যাফি বলেছিলেন, তিনি নিজে কখনও তার পণ্য ব্যবহার করেননি।

এ নিয়ে তার মন্তব্য ছিল, ‘আমি সবসময়ই আক্রান্ত হচ্ছি, কিন্তু আমি কোনও সফটওয়্যার সুরক্ষা ব্যবহার করি না। আমি সব সময় আমার আইপি ঠিকানা পরিবর্তন করতে থাকি। কোনও ডিভাইসে আমার নাম দেই না এবং ভাইরাস ঢুকতে পারে এমন কোনও সাইটে আমি যাই না। আমি নিরাপদ কম্পিউটিং করি। কেউ আমাকে ই-মেইল করলে তাকে ফোন করে জেনে নেই তিনি আমাকে ই-মেইল করেছেন কিনা। তার আগে সেই মেইল খুলি না।’

/এমপি/

সম্পর্কিত

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

মাল্টার সাংবাদিক হত্যায় রাষ্ট্রই দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

মাল্টার সাংবাদিক হত্যায় রাষ্ট্রই দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০৩:০৪

কিউবায় সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নির্বিচারে আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বন্দিদের ওপর কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিজেদের এমন দাবি ও উদ্বেগ তুলে ধরেছে ইইউ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

ইইউ-এর শীর্ষ কূটনীতিক জোসেফ বোরেল বলেন, ‘কিউবা সরকারকে আমরা সার্বজনীন মানবাধিকার কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানাই।’

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় সরকারের প্রতি কিউবার জনগণের ক্ষোভ বাড়ছিল। এক পর্যায়ে জুলাইয়ের গোড়ার দিকে রাস্তায় নেমে আসে তারা। ১৯৯৪ সালের পর এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে কিউবা। শুধু রাজধানী হাভানা নয়, পুরো দেশজুড়ে রাজপথে নামে হাজার হাজার মানুষ। এসব বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় সরকারি বাহিনী।

বৃহস্পতিবার নির্বিচারে এই ধরপাকড়ের শিকার লোকজনের মুক্তি দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যদিও এরইমধ্যে অনেকের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে কম বয়সীরাও রয়েছে। সরকারিভাবে আটক বা গ্রেফতারকৃতদের সুনির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে শুধু বিক্ষোভের কারণে কাউকে গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের দাবি, বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্তদেরই কেবল আটক করা হয়েছে।

/এমপি/

সম্পর্কিত

মাল্টার সাংবাদিক হত্যায় রাষ্ট্রই দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

মাল্টার সাংবাদিক হত্যায় রাষ্ট্রই দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্ব বাতিল করলো ইকুয়েডর

অ্যাসাঞ্জের নাগরিকত্ব বাতিল করলো ইকুয়েডর

ক্যাপিটলে হামলার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ৪ পুলিশ সদস্য

ক্যাপিটলে হামলার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ৪ পুলিশ সদস্য

টিকা নিলেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা, মাস্ক পরার পরামর্শ সিডিসি’র

টিকা নিলেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা, মাস্ক পরার পরামর্শ সিডিসি’র

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০২:১৪

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এই আহ্বান জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

২০২১ সালের ২৫ জুলাই সেনা সমর্থন নিয়ে তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসাচ মেচিচকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ। এক মাসের জন্য পার্লামেন্টও স্থগিতের ঘোষণা দেন তিনি। তার এমন পদক্ষেপকে বিরোধীরা ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ বিক্ষোভ বা সহিংসতার কথা চিন্তা করলে সশস্ত্র বাহিনী বুলেট দিয়ে তার জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কায়েস সাঈদ। একইসঙ্গে এক মাসের জন্য কারফিউ ঘোষণা করেছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার দেশটিকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রশাসনিক ক্ষমতা দখলের পর তিনি তাকে দেশটিকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আল জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিউনিসিয়ায় সম্প্রতি দেশটির সংবিধান পরিপন্থী যেসব ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন।

/এমপি/

সম্পর্কিত

অনির্দিষ্টকাল ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনির্দিষ্টকাল ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভূমিকম্পের পর আলাস্কা-হাওয়াইতে সুনামির সতর্কতা

ভূমিকম্পের পর আলাস্কা-হাওয়াইতে সুনামির সতর্কতা

আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক: যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

সংঘর্ষে নিহত নন, তালেবানের হাতে ‘খুন’ হয়েছেন দানিশ সিদ্দিকি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০০:৪৭

পুলিৎজার পুরস্কার-বিজয়ী চিত্রসাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের ভারতে চিফ ফটোগ্রাফার দানিশ সিদ্দিকি আফগানিস্তানে নিহত হন গত ১৬ জুলাই। দেশি-বিদেশি সব সংবাদমাধ্যমেই তখন রিপোর্ট করা হয়েছিল, আফগান সেনাবাহিনী ও তালেবানের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গিয়েই দানিশ প্রাণ হারান।

কিন্তু এখন মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো, প্রাবন্ধিক ও নামী নিরাপত্তা গবেষক মাইকেল রুবিন জানাচ্ছেন, দানিশ সিদ্দিকি মোটেও সংঘর্ষের মাঝে পড়ে নিহত হননি – বরং তালেবান যোদ্ধারা তাকে একটি মসজিদ থেকে টেনে বের করে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মাইকেল রুবিন এই উপসংহারে পৌঁছেছেন। ২৯ জুলাই তিনি ওয়াশিংটন এক্সামিনার সাময়িকীতে এই বক্তব্যের স্বপক্ষে একটি প্রতিবেদনও লিখেছেন। সেখানে তিনি পরিষ্কার লিখেছেন, ‘দানিশ সিদ্দিকি ক্রসফায়ারের মাঝে পড়ে মারা যাননি, তাকে কিছুতেই যুদ্ধের ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ও বলা যাবে না। বরং সত্যিটা হলো, তালেবান তাকে নৃশংসভাবে হত্য করেছে।’

এই নিবন্ধের জন্য মাইকেল রুবিন কাবুলে, আফগানিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং দিল্লিতে দানিশ সিদ্দিকির কর্মস্থলে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। দানিশ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, দিল্লির সেই জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ক্যাম্পাসেই তাকে দাফন করার আগে যারা তার মরদেহ খুব কাছ থেকে দেখেছেন – তাদের কাছ থেকেও তথ্য নিয়েছেন।

দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যুর যে ঘটনাক্রম তার গবেষণা থেকে উঠে এসেছে তা এমন:

১৬ জুলাই আফগান সেনার ‘সঙ্গী’ হয়ে দানিশ যাচ্ছিলেন স্পিন বোলডাক অঞ্চলের দিকে, যেখানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডারের একটি সীমান্ত পোস্ট দখলের জন্য তালেবানের সঙ্গে সেনার যুদ্ধ চলছিল। সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে এভাবে যে সাংবাদিকরা যান তাদের বলে ‘এমবেডেড’ জার্নালিস্ট, আর এই অভিযানে আফগান সেনা দানিশকে সঙ্গে নিয়েছিল কারণ তারা নিজেদের বিজয় নিয়ে নিশ্চিত ছিল। তারা ভেবেছিল, রয়টার্সে এই যুদ্ধজয়ের ছবি বিশ্বজুড়ে তাদের দারুণ বিজ্ঞাপন হবে।

স্পিন বোল্ডাকের কাস্টমস চৌকি থেকে দলটি যখন মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে, তখন তালেবানের অতর্কিত হামলায় দলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দলটির কমান্ডার কয়েকজন সেনাকে নিয়ে একদিকে ছিটকে যান, আর দানিশ ও তিনজন আফগান সেনা ছিটকে যান সম্পূর্ণ অন্যদিকে। দানিশের শরীরে একটি বোমার ‘শার্পনেল’ বিঁধেছিল – তাই তারা গিয়ে আশ্রয় নেন কাছের একটি মসজিদে, সেখানে তাকে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক শুশ্রূষাও দেওয়া হয়।

ততক্ষণে আশেপাশে খবর রটে গেছে, মসজিদে একজন পশ্চিমী বার্তা সংস্থার সাংবাদিক লুকিয়ে আছেন। তালেবান সে খবর পেয়েই সেখানে হামলা চালায় এবং টেনে-হিঁচড়ে দানিশ ও তার সঙ্গীদের বের করে আনে। মাইকেল রুবিন নিশ্চিত, দানিশ সিদ্দিকি যখন তালেবানের হাতে ধরা পড়েন তখন তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর তারা দানিশের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তাকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়। দেহটিও ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় বুলেটে।

সেনাদলটির কমান্ডারও ততক্ষণে সদলবলে মসজিদের কাছে ফিরে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন – কিন্তু তালেবানের হাতে তারাও নিহত হন। পরে যে ভারতীয় কর্মকর্তারা কাবুলে দানিশের দেহ গ্রহণ করেন, মাইকেল রুবিন তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন, আগে দানিশের মাথায় ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে মেরে তালেবান তাকে হত্যা করে – তারপর তার শরীরে বুলেটবৃষ্টি চালানো হয়।

মাইকেল রুবিনের ভাষায়, ‘তালেবানের নৃশংসতা সুবিদিত। কিন্তু সেই নৃশংসতাকেও যে দানিশের বেলায় তারা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল তার একমাত্র কারণ সে ছিল ভারতীয়।’ এমনকি ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাসে দানিশ যে মুসলিম ছিলেন, তার জন্যও তাকে কোনও রেহাই দেয়নি ইসলামের ধ্বজাধারী বলে নিজেদের দাবি করা তালেবান যোদ্ধারা।

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন বাঙালি কূটনীতিবিদ গৌতম মুখোপাধ্যায়। তিনি এদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘সত্যি বলতে কী আমি এই খবরে বিন্দুমাত্র আশ্চর্য নই। তালেবানের ভারত-বিরোধিতা এতোটাই চরমে যে, তারা ভারতীয় মুসলিমদেরও ইসলামের সত্যিকারের প্রতিনিধি বলে মনে করে না। দানিশ সিদ্দিকির মতো একজন প্রতিভাবান আলোকচিত্রী তাদের সেই ভারত-বিদ্বেষের বলি হলেন এটাই চরম দুর্ভাগ্যের।’

/এমপি/

সম্পর্কিত

গাড়ি চাপায় বিচারক হত্যায় ভারতে তোলপাড়!

গাড়ি চাপায় বিচারক হত্যায় ভারতে তোলপাড়!

তালেবান নিয়ন্ত্রিত প্রদেশে প্রবল বন্যায় ১৫০ জনের মৃত্যু

তালেবান নিয়ন্ত্রিত প্রদেশে প্রবল বন্যায় ১৫০ জনের মৃত্যু

'ইতিহাসের চরম বিতর্কিত অধ্যায় শেষ হোক': অস্ট্রেলিয়া

'ইতিহাসের চরম বিতর্কিত অধ্যায় শেষ হোক': অস্ট্রেলিয়া

আজেরি সীমান্তে রুশ সেনা চায় আর্মেনিয়া

আজেরি সীমান্তে রুশ সেনা চায় আর্মেনিয়া

ফিলিস্তিনি শিশুর জানাজায় টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে ইসরায়েল

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৩
image

দখলকৃত পশ্চিম তীরে নিহত এক ফিলিস্তিনি শিশুর জানাজার সময় টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বুধবার মোহাম্মদ আল-আলামি নামের ১২ বছর বয়সী শিশুটি ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরের বেইত উমর শহরে বাবার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ১২ বছরের মোহাম্মদ আল-আলামি। বৃহস্পতিবার তার মরদেহ নিয়ে বেইত উমরে মিছিল করে ফিলিস্তিনিরা।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহ পার্টির পতাকায় মোড়ানো কফিন নিয়ে মিছিলের পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। পাল্টা পদক্ষেপে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে।

ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবর্ষণে এক ফিলিস্তিনি তরুণ মারাত্মক আহত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বেইত উমর শহরের রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ ও পাথর পড়ে রয়েছে।

/জেজে/

সম্পর্কিত

অনির্দিষ্টকাল ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনির্দিষ্টকাল ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে রকেট হামলা

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে রকেট হামলা

প্রথমবারের মতো কাতারে অনুষ্ঠিত হবে আইনসভার নির্বাচন

প্রথমবারের মতো কাতারে অনুষ্ঠিত হবে আইনসভার নির্বাচন

চুরি হওয়া প্রত্ন নিদর্শন ইরাককে ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চুরি হওয়া প্রত্ন নিদর্শন ইরাককে ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গাড়ি চাপায় বিচারক হত্যায় ভারতে তোলপাড়!

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ২৩:৪১

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে গাড়ি চাপায় এক বিচারককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রথমে দুর্ঘটনা ধারণা করা হলেও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে, গাড়ি চাপাতেই বিচারক উত্তর আনন্দকে হত্যা করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবামাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার প্রাতঃভ্রমণে বের হন অতিরিক্ত বিচারক উত্তম আনন্দ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি টেম্পু চাপা দেয় তাকে। স্থানীয়রা তুলে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ ঘটনাকে প্রাথমিক অবস্থায় দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে সিসিটিভির ফুটেজে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।  ফাঁকা সড়কে গাড়িটি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই টেম্পুটি বিচারককে ধাক্কা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে চুরি হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিচারের দাবিতে তোলাপাড় শুরু হয়েছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিচারক হত্যার ঘটনায় আইনজীবী মহল থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

/এলকে/

সম্পর্কিত

সংঘর্ষে নিহত নন, তালেবানের হাতে ‘খুন’ হয়েছেন দানিশ সিদ্দিকি

সংঘর্ষে নিহত নন, তালেবানের হাতে ‘খুন’ হয়েছেন দানিশ সিদ্দিকি

'ইতিহাসের চরম বিতর্কিত অধ্যায় শেষ হোক': অস্ট্রেলিয়া

'ইতিহাসের চরম বিতর্কিত অধ্যায় শেষ হোক': অস্ট্রেলিয়া

শুধু শুধু বিরক্ত করায় যুবককে পিষে দিলো হাতি (ভিডিও)

শুধু শুধু বিরক্ত করায় যুবককে পিষে দিলো হাতি (ভিডিও)

আমি লিডার নই, ক্যাডার: দিল্লিতে মমতা

আমি লিডার নই, ক্যাডার: দিল্লিতে মমতা

সর্বশেষ

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

অগ্নিকাণ্ডের ১৫ দিনেও চালু হয়নি আইসিইউ

অগ্নিকাণ্ডের ১৫ দিনেও চালু হয়নি আইসিইউ

মেঘনায় ট্রলারডুবিতে একজনের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

মেঘনায় ট্রলারডুবিতে একজনের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

সংঘর্ষে নিহত নন, তালেবানের হাতে ‘খুন’ হয়েছেন দানিশ সিদ্দিকি

সংঘর্ষে নিহত নন, তালেবানের হাতে ‘খুন’ হয়েছেন দানিশ সিদ্দিকি

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক

রামেবির প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য মাসুম হাবিব আর নেই

রামেবির প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য মাসুম হাবিব আর নেই

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০০ ঘরের বস্তিটি

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০০ ঘরের বস্তিটি

অবিবাহিত বড় ভাই, আত্মহত্যা ছোট ভাইয়ের

অবিবাহিত বড় ভাই, আত্মহত্যা ছোট ভাইয়ের

ভারতকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজের বদলা নিলো শ্রীলঙ্কা

ভারতকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজের বদলা নিলো শ্রীলঙ্কা

লেনোভো বাজারে নিয়ে এলো দুটি নতুন ট্যাব

লেনোভো বাজারে নিয়ে এলো দুটি নতুন ট্যাব

জ্বর-শ্বাসকষ্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জ্বর-শ্বাসকষ্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

কিউবায় আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

মাল্টার সাংবাদিক হত্যায় রাষ্ট্রই দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

মাল্টার সাংবাদিক হত্যায় রাষ্ট্রই দায়ী: তদন্ত প্রতিবেদন

অনির্দিষ্টকাল ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনির্দিষ্টকাল ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভূমিকম্পের পর আলাস্কা-হাওয়াইতে সুনামির সতর্কতা

ভূমিকম্পের পর আলাস্কা-হাওয়াইতে সুনামির সতর্কতা

আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক: যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

বলপূর্বক কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

রাজনীতি ছাড়ছেন ট্রাম্পের জামাই

রাজনীতি ছাড়ছেন ট্রাম্পের জামাই

চুরি হওয়া প্রত্ন নিদর্শন ইরাককে ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চুরি হওয়া প্রত্ন নিদর্শন ইরাককে ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

© 2021 Bangla Tribune