X
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

গ্রামে গ্রামে রোগী

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২০:১৬

গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে এক সময় ‘ধারণা’ ছিল যে, করোনা হচ্ছে শহরের রোগ। কিন্তু সেই ‘ধারণা’ এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মতে, জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অর্ধেকের বেশি গ্রামের। গ্রামে এখন ঘরে ঘরে ঠাণ্ডা এবং জ্বরে ভোগা রোগী আছেন। তাদের মাঝে যারাই টেস্ট করাচ্ছেন, পজিটিভ হচ্ছেন। আবার করোনার ভয়ে অনেকেই টেস্ট করাতে যাচ্ছেন না মৌসুমি জ্বর ও ঠাণ্ডা ভেবে। এদিকে রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে মঙ্গলবার (৬ জুলাই) একদিনে শনাক্ত হয়েছে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি রোগী। গ্রামে গ্রামে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। অপরদিকে বেড়েছে মৃত্যুও।   

স্বাস্থ্য অধিদফতর  মঙ্গলবার (৬ জুলাই) জানায়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫২৫ জন এবং মারা গেছে ১৬৩ জন। বর্তমানে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে। ঢাকা শহরসহ এ বিভাগের ১৩টি জেলায় ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার) শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই শনাক্ত হন ৩ হাজার ৭১৫ জন। গত ৭ দিনে ক্রমান্বয়ে রোগী বাড়ছে ঢাকায়। পাশপাশি সারাদেশেও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে রোগী। ঢাকায় বর্তমানে সংক্রমণের হার ৩১ শতাংশ।

সারাদেশের পরিস্থিতি

ঢাকার পাশপাশি সব বিভাগেই বেড়েছে করোনা সংক্রমণের হার। ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৩১ দশমিক ৭১ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, রংপুরে ৩৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, খুলনায় ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বরিশালে ৫২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং সিলেটে সংক্রমণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশে।

এসব বিভাগের প্রায় সব জেলায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। ঢাকা বিভাগের ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে রোগীর সংখ্যা বেশি। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলা, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাতে রোগীর সংখ্যা বেশি। তাছাড়া রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়, গাইবান্ধায় সংক্রমণের হার বেড়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি, এবং সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগে গত এক সপ্তাহে রোগী বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে।

হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী 

ঢাকাসহ দেশের ১২টি হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি আছে এই মুহূর্তে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, ফেনীর সবকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতাল, বরগুনা জেলা সদর হাসপাতাল এবং সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল। এছাড়া দেশের ১৪ হাজার ৭৩৪টি বেডের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ বেডে রোগীরা চিকিৎসাধীন আছেন।

পাশাপাশি ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে ৮৩৯টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৬৯ ভাগই রোগীতে ভর্তি। রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বেশি বেডে রোগী ভর্তি আছেন। রংপুর এবং সিলেটে কম সংখ্যক আইসিইউ’র বেড ফাঁকা আছে।

জুনে প্রাপ্ত নমুনায় বেশিরভাগই ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

বাংলাদেশে গত এপ্রিলে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ‘ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের’ শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশে  এই ভ্যারিয়েন্ট মে মাসে ৪৫ শতাংশ ও জুন মাসে ৭৮ শতাংশ নমুনায় শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে  কোভিড-১৯ সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

আইইডিসিআর বলছে, বাংলাদেশে ২০২০ সালের  ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিকোয়েন্স করা সব নমুনায় আলফা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। মার্চ মাসে সিকোয়েন্স করা মোট নমুনার ৮২ শতাংশ বিটা ভ্যারিয়েন্ট ও ১৭ শতাংশ আলফা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এপ্রিল মাসেও বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের মধ্যে বিটা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য ছিল। গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত  সংগৃহীত মোট ৬৪৬টি কোভিড-১৯ নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সব নমুনায় কোভিড -১৯ এর আলফা ভ্যারিয়েন্ট (ইউকে-তে প্রথম শনাক্ত), বিটা ভ্যারিয়েন্ট (সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত), ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতে প্রথম শনাক্ত), ইটা ভ্যারিয়েন্ট (নাইজেরিয়াতে প্রথম শনাক্ত), বি ১.১.৬১৮ ভ্যারিয়েন্ট (আনআইডেন্টিফায়েড) শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ‘করোনা মহামারি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি আছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি গ্রামাঞ্চলের। এসব রোগীর বেশিরভাগই রোগের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর হাসপাতালে এসেছেন।’

স্বাস্থ্য অধিদফতর গত ৪ জুলাই  ৪৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে যে, ভর্তি রোগীদের বেশিরভাই বেশি গ্রামের। রোগীরা হাসপাতালে আসছেন রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশ পড়ে, যখন পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে পড়ছে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘এখন বর্ষা মৌসুম। অনেকেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলেও সাধারণ সর্দি–জ্বর বা কাশিতে আক্রান্ত বলে ধরে নিচ্ছেন। পরীক্ষা করাচ্ছেন না বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন না।’ 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১ নম্বর আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকছেদুল গনি শাহ জানান, তার এলাকায় ঘরে ঘরে রোগী। প্রত্যেক বাড়িতে জ্বর- সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগী আছেন। ভয়ে কেউই টেস্ট করাতে যাচ্ছেন না।

ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো মাহফুজুর রহমান সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানে আগে রোগীই ছিল না। আগের তুলনায় আমাদের এখানে রোগী শনাক্ত অনেকটা বেড়ে গেছে। সব জায়গাতেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে আমার ধারণা। গ্রাম-শহর সব জায়গায় এখন একই অবস্থা।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন অবস্থা তো ভয়াবহ। একদিকে সরকারের সর্বাত্মক লকডাউনের কোনও বিকল্প নেই। তাছাড়া সামনে কোরবানি আছে, সব মিলিয়ে এখন কঠিন একটা অবস্থা। আর এবারের সংক্রমণ একদম ভিন্ন। আগের সংক্রমণ ছিল মূলত জেলা শহরগুলোতে, এখন সেটা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। কাজেই লকডাউন দিয়ে এটা ঠেকানো খুব কঠিন কাজ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই রোগীদের আগেই আইসোলেশনে নিতে পারতাম, তাহলে কিন্তু লকডাউন ছাড়াও সংক্রমণ কমানো যেত। এই পন্থা একটু কষ্টকর বলেই করা যাচ্ছে না। তাই সহজ কাজ হিসেবে লকডাউন দিতে হচ্ছে।’

 

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বিশেষ কোনও টিকা নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ থাকা যাবে না

বিশেষ কোনও টিকা নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ থাকা যাবে না

একদিনে নারীমৃত্যু দ্বিগুণ

একদিনে নারীমৃত্যু দ্বিগুণ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আবারও দেশে গণটিকা কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আবারও দেশে গণটিকা কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৪ কোটি টিকা দেওয়া শেষ 

৪ কোটি টিকা দেওয়া শেষ 

‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দখলকারীদের দমন সম্ভব নয়’

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:১৭

মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ক্ষমতাহীন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নদী কমিশনকে পরিপূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা না করলে নদী দখলকারীদের দমন করা সম্ভব নয়। নদীগুলো রক্ষা করে এর প্রবাহ নিশ্চিত করাই— নদী দিবসের অঙ্গীকার।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল মিলনায়তনে মুজিব শতবর্ষ ও বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামরুন নাহার আহমেদ, কমিশনের ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ইকরামুল হক ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুনির হোসেন বক্তব্য দেন।

সভায় তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ভাবনা ও বাংলাদেশের নদীসমূহের দখল, দূষণ ও নাব্য সংকট: প্রেক্ষিত ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্প, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন’, ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’ এবং ‘সুস্থ নদী ও মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধগুলো উপস্থাপন করেন যথাক্রমে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ স্পেশালিস্ট মনির হোসেন চৌধুরী, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্স সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ক্ষমতাহীন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নদী কমিশনকে পরিপূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা না করলে নদী দখলকারীদের দমন করা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘নদী দখল ইস্যুতে আমরা শুধু প্রেসক্রিপশন করার ক্ষমতা রাখি, ওষুধ প্রয়োগের ক্ষমতার জন্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয়।’ দেশের নদী বাঁচাতে হলে বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীন কমিশনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিল্প শহর গড়ে উঠেছে নদীর ওপর ভিত্তি করে, অথচ এই শিল্প-কলকারখানাগুলো নদীকে ধ্বংস করছে। বাংলাদেশের নদী না বাঁচলে কৃষি বাঁচবে না, আর কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। তাই দেশের নদীগুলো বাঁচানোর কার্যকর উদ্যোগ দরকার। তারা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে অনেক নদীতে ব্লক ফেলে নদীর ইকোসিস্টেম নষ্ট করা হচ্ছে। নদীদূষণের কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক দেশি মাছ হারিয়ে গেছে। প্রতিটি নদী নিয়ে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করা গেলে এ দেশের নদীগুলো বাঁচানো সম্ভব। নদীমাতৃক বাংলাদেশের খেতাবকে অটুট রাখা সম্ভব।

 

/এসএনএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করাই নদী দিবসের অঙ্গীকার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করাই নদী দিবসের অঙ্গীকার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

মেইল ট্রেনের নিরাপত্তায় পুলিশই থাকে না

মেইল ট্রেনের নিরাপত্তায় পুলিশই থাকে না

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জীবন

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জীবন

রাখাইনে রেডক্রসকে আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রাখাইনে রেডক্রসকে আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করাই নদী দিবসের অঙ্গীকার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৭

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সার্বিকভাবে ধারণ করতে পারলে বিশ্ব আসনে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদার জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতাকে আমরা সার্বিকভাবে ধারণ করেছি বলেই আজকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে হাঁটছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির সূচক বিশ্বে একটি আলোচিত বিষয়। এই জায়গাটায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল মিলনায়তনে মুজিব শতবর্ষ ও বিশ্ব নদী দিবস-২০২১ উপলক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর নদী ও পরিবেশ ভাবনা এবং আমাদের করণীয়’  শীর্ষক  সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নদীগুলোকে রক্ষা করে এর প্রবাহ নিশ্চিত করাই নদী দিবসের অঙ্গীকার। পঁচাত্তর পরবর্তী দূষিত সমাজ ব্যবস্থার কারণে নদীগুলোও দখল ও দূষণের কবলে পড়েছে। বঙ্গবন্ধু নদী নিয়ে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে অপবাদ ও অপপ্রচার করা হয়েছে। এ জায়গা থেকে আমাদের নদীগুলোও রক্ষা পায়নি। যখন পুরো সমাজ ব্যবস্থা দুর্নীতিবাজ হয়ে যায়, তখন লুটেরা স্বভাবের একটি সমাজ তৈরি হয়। রাষ্ট্র এদের লালন-পালন করে। সেখানে ভালো কিছু থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে নদী রক্ষার জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হতো না। নদীর প্রবাহ ঠিক থাকতো। নদীগুলো বাংলাদেশের জনগণের  জীবন ও জীবিকার উৎস হিসেবে কাজ করতো।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দূষিত সমাজ ব্যবস্থার কারণে নদীগুলো দূষিত হয়ে গেছে, দখল হয়ে গেছে। এই যে দুরবস্থা, এটা এমনি এমনি আসেনি। কিছু মানুষ ভাবতো জায়গা ফাঁকা আছে, এটা আমার পছন্দ, এটাই আমার দখল করতে হবে। এভাবেই কিন্তু হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আমরা যখন ঢাকার চারপাশে নদী দখল উচ্ছেদ শুরু করলাম, আমরা কিন্তু দেখিনি কোনটা কার জায়গা। প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে বলেছিলাম, তখন তিনি আমাদের সাহস দিয়েছিলেন। বাংলাদেশে এমন একজন নেতাকে পেয়েছি, যার সাহস আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়, আমাদের উৎসাহ যোগায়। তিনি যে সাহস আমাদের দিয়েছেন, সে সাহসে আমরা কাজ করছি। এই ঢাকার চারপাশ আমরা দখলমুক্ত করেছি। সেগুলোকে রক্ষা করার জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদী দখলমুক্ত করতে গিয়ে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পচাঁত্তরের পর একটি ধারা তৈরি হয়, মানুষ মনে করেছিল, অপরাধ করলে বিচার হবে না। নদী দখল করলে বিচার হবে না। অনেকে নদীর পাড়ে গিয়ে ঘর তুলেছে, অনেকে নদীর পাড়ে কলকারখানা গড়ে তুলেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন অপরাধীদের হাতে ছিল। বাংলাদেশ অপরাধীদের লালন করেছিল। কাজেই এই দুরবস্থা শুধু আমাদের নদীর নয়, পুরো বাংলাদেশকে গ্রাস করেছিল।’

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামরুন নাহার আহমেদ, কমিশনের ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ইকরামুল হক এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুনির হোসেন।

/এসএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দখলকারীদের দমন সম্ভব নয়’

‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দখলকারীদের দমন সম্ভব নয়’

মেইল ট্রেনের নিরাপত্তায় পুলিশই থাকে না

মেইল ট্রেনের নিরাপত্তায় পুলিশই থাকে না

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জীবন

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জীবন

রাখাইনে রেডক্রসকে আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রাখাইনে রেডক্রসকে আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১২ অক্টোবর

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১৮

দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও সাবেক দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত ।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে সাক্ষ্য দেন সাদ্দাম হোসেন ও রফিকুল ইসলাম। এরপর তাদের সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা শেষ করেন। এরপর পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত এইদিন দিন ধার্য করেন।

মামলায় এ পর্যন্ত  ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০২০ সালের ১৮ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে ২০২০ সালের ৪ মার্চ দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ হয়। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। 

একই বছরের ১৯ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা এ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৯ সালের ১৬ জুলাই ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেছিলেন দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা। 

প্রসঙ্গত, ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পর খন্দকার এনামুল বাছির ও ডিআইজি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান সাময়িক বরখাস্ত হন।

/এমএইচজে/এনএইচ/

সম্পর্কিত

এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

ডা. সাবরিনাসহ আট জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১৮ অক্টোবর

ডা. সাবরিনাসহ আট জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১৮ অক্টোবর

ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না করায় হাইকোর্টের অসন্তোষ

ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না করায় হাইকোর্টের অসন্তোষ

সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:১৫

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে ভুল থাকার ঘটনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান এবং সদস্যকে (কারিকুলাম) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ নভেম্বর তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। 

এ ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে থাকা ভুল সংশোধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সটবুক বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য (কারিকুলাম), সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আলী মুস্তফা খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।  

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলমগীর আলম এ রিট দায়ের করেন। 

রিট আবেদনে বলা হয়, সপ্তম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ১০ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে- ‘১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন ছিল শুধু পূর্ব পাকিস্তানের’; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সকল প্রদেশে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল। 

৬ষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি’ শিরোনামের লেখায় ৩ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক সাহসী, ত্যাগী, ও দুরদর্শী নেতার ‘আর্বিভাব’ হয়। অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, বঙ্গবন্ধু হঠাৎ কোন ‘আর্বিভূত’ নেতা নন। তিনি তিলে তিলে বাঙালি জাতির নেতা হয়ে উঠেছেন। 

একইভাবে অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মাইল’ এর স্থলে ‘কিলোমিটার’ হবে। 

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের ২ থেকে ৯ নং পৃষ্ঠার বিভিন্ন জায়গায় ‘শেখ মুজিব’ লেখা হয়েছে। অথচ বর্তমানে সকল ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’ লিখতে হবে মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি’ এর স্থলে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি’ হবে। ২৯ নং পৃষ্ঠায় ‘প্রেসিডেন্ট ভবন’ এর স্থলে ‘বঙ্গভবন’ হবে। 

/বিআই/ইউএস/

সম্পর্কিত

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১২ অক্টোবর

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১২ অক্টোবর

ডা. সাবরিনাসহ আট জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১৮ অক্টোবর

ডা. সাবরিনাসহ আট জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১৮ অক্টোবর

ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না করায় হাইকোর্টের অসন্তোষ

ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না করায় হাইকোর্টের অসন্তোষ

সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মান্নান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

বিশেষ কোনও টিকা নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ থাকা যাবে না

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৯

করোনা প্রতিরোধের অন্যতম হাতিয়ার টিকা, তবে একমাত্র নয়। ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর সঙ্গে লাগবে টিকা। আর এই টিকা নিয়ে প্রশ্ন বা বিশেষ কোনও কোম্পানির হতে হবে, এমন ফ্যাসিনেশন (মোহ) থাকা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর।

তিনি বলেন, যে টিকা দেশে আসবে সেটাই নিতে হবে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন দৈনিক শনাক্ত নেমে এসেছে হাজারের নিচে। অতি সংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবের পর এ যেন এক স্বস্তির বার্তা। তবে ডা. আলমগীর বলছেন, স্বস্তি নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও সুযোগ নেই। সংক্রমণের এই নিম্নমুখী হার অব্যাহত রাখতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সঙ্গে নিতে হবে টিকা।

ডা. আলমগীর বলেন, ভাইরাসের ট্রান্সমিশন (সংক্রমণ ক্ষমতা) যেহেতু অনেক বেশি, পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় এই ভাইরাসের পরিবর্তন হতে পারে।

করোনাকে একটি অনবরত পরিবর্তনশীল ভাইরাস অভিহিত করে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর ভ্যারিয়েন্ট বদলে অতি সংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে। সুতরাং, এখনও অসতর্ক হওয়া যাবে না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাবধান থাকতে হবে। সেই সঙ্গে যাদের সুযোগ রয়েছে তাদের টিকা নিতে হবে।

‘টিকাও সংক্রমণ কমার অন্যতম উপায়, যদিও একমাত্র কখনোই নয়। টিকা নেওয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ পাঁচ শতাংশের নিচে ধরে রাখা সম্ভব। নয়তো যেকোনও সময় এটা বেড়ে যেতে পারে’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সংক্রমণের হার যদি পাঁচ শতাংশের নিচে দুই সপ্তাহ ধরে কোনও দেশে অব্যাহত থাকে; তাহলে সেই দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে গত ছয় দিন ধরে সংক্রমণের হার পাঁচের নিচে। আগামী দুই সপ্তাহ যদি এটা বজায় থাকে তাহলে কি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করা হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এর আসলে তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ডা. আলমগীর বলেন, পৃথিবীর বহু দেশেই সংক্রমণের হার তিন থেকে চার সপ্তাহ পাঁচের নিচে ছিল। কিন্তু এরপর আবার বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ভিয়েতনাম। কিন্তু বর্তমানে যে কয়েকটি দেশে সংক্রমণ বেশি তার মধ্যে ভিয়েতনাম একটি। আমেরিকাতেও সংক্রমণ অনেক বেশি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমাদের পার্শ্ববর্তী মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনে প্রতিদিন অনেক মানুষ শনাক্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর যেকোনও জায়গায় ভাইরাসের পরিবর্তন হতে পারে। তাই এখন স্বাস্থ্যবিধির ওপরেই আসলে বিশেষ জোর রাখতে হবে।

এই বেড়ে যাওয়াটা কেন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীনতা, ভাইরাসের বদলে যাওয়াসহ নানা কারণেই এটা হতে পারে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি টিকা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা. এএসএম আলমগীর। তিনি বলেন, সবাইকে টিকা নিতে হবে এবং টিকা নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না। যে টিকা আসে সেটাই নিতে হবে। কারণ, প্রতিটিই সমান কার্যকর।

আমাদের দেশে ফাইজার ও মডার্নার টিকা নিয়ে অনেকের মোহ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ভুল করছেন। টিকা নিয়ে কোনও ধরনের ফ্যাসিনেশন থাকাই যাবে না।’

কিন্তু এই বাছাই বা ফ্যাসিনেশনের পেছনে কোন টিকার কার্যকারিতা কতটুকু রয়েছে, সে হিসাবটাও সাধারণ মানুষ আমলে নিচ্ছেন জানালে তিনি বলেন, টিকার কার্যকারিতা শুধু অ্যান্টিবডি দেখে করা হয় না। এটার সায়েন্স জটিল। পৃথিবীর বহু দেশেই ‘নিউট্রিলাইজিং বা নিষ্ক্রিয়করণ অ্যান্টিবডি’ শূন্য কিন্তু টিকা কার্যকর।

ডা. এ এস এম আলমগীর আরও বলেন, এরসঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। সব মিলিয়ে টিকা কার্যকর হয়। কেবল অ্যান্টিবডি দেখে এই টিকা ভালো, এই টিকা খারাপ- এটা যারা বলছেন তারা ভুল বলেন।

টিকা নিয়েই যে সবাই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন এটা ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, টিকা নেওয়ার পর ছোট ছোট স্যাম্পল নিয়ে যারা নিউট্রিলাইজিং অ্যান্টিবডির কথা বলে, এটাও ঠিক নয়। এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

যেকোনও টিকার যদি শতকরা ৫০ শতাংশ কার্যকর হয়, তাইলেই সেই টিকা নেওয়া যায় এবং সেটাই মহামারি প্রতিরোধে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে—বলেন ডা. আলমগীর।

/এনএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

একদিনে নারীমৃত্যু দ্বিগুণ

একদিনে নারীমৃত্যু দ্বিগুণ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আবারও দেশে গণটিকা কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আবারও দেশে গণটিকা কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৪ কোটি টিকা দেওয়া শেষ 

৪ কোটি টিকা দেওয়া শেষ 

আবারও বরিশালসহ ৩ বিভাগে করোনায় মৃত্যুহীন দিন

আবারও বরিশালসহ ৩ বিভাগে করোনায় মৃত্যুহীন দিন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিশেষ কোনও টিকা নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ থাকা যাবে না

বিশেষ কোনও টিকা নিয়ে ‘ফ্যাসিনেশন’ থাকা যাবে না

একদিনে নারীমৃত্যু দ্বিগুণ

একদিনে নারীমৃত্যু দ্বিগুণ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আবারও দেশে গণটিকা কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আবারও দেশে গণটিকা কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৪ কোটি টিকা দেওয়া শেষ 

৪ কোটি টিকা দেওয়া শেষ 

আবারও বরিশালসহ ৩ বিভাগে করোনায় মৃত্যুহীন দিন

আবারও বরিশালসহ ৩ বিভাগে করোনায় মৃত্যুহীন দিন

একদিনে ২২১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

একদিনে ২২১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে

চিকিৎসকসহ সাড়ে ৯ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

চিকিৎসকসহ সাড়ে ৯ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

‘স্বস্তির ঢিলেমি’ আবারও বিপর্যয় আনতে পারে

‘স্বস্তির ঢিলেমি’ আবারও বিপর্যয় আনতে পারে

টানা দুই দিন করোনায় মৃত্যুহীন বরিশাল 

টানা দুই দিন করোনায় মৃত্যুহীন বরিশাল 

সর্বশেষ

১০,৫০০ শ্রমিককে ভিসা দেবে যুক্তরাজ্য

১০,৫০০ শ্রমিককে ভিসা দেবে যুক্তরাজ্য

‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দখলকারীদের দমন সম্ভব নয়’

‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দখলকারীদের দমন সম্ভব নয়’

প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঙ্গা নদীতে সেতুর খবরে এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ

কালীগঙ্গা নদীতে সেতুর খবরে এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ

ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু, এ মাসে রোগী ছাড়ালো ৭ হাজার

ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু, এ মাসে রোগী ছাড়ালো ৭ হাজার

© 2021 Bangla Tribune