X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী?

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১২:৪৮

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত ২২ জুলাই মারা যান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. জারিন তাসনিম রিমি। তিন দিনের জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এই চিকিৎসক। তারপর তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি নয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতিদিন প্রেগনেন্ট চিকিৎসক মায়ের মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন তারা। কয়েকদিন আগে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজের ডা. হালিমা মারা গেলেন।

চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাংবাদিক শেখ সীরাজুম মুনীরা নীরা কেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, টিকা না দেওয়ার কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মৃত্যুর হার বেশি বলেই দেখা যাচ্ছে। তারা এমনিতেই অনেক বেশি ভালনারেবল নানা কারণেই। টিকা নিলে শঙ্কাটা কম থাকে।

ইংল্যান্ড-আমেরিকাতে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক দেশের জন্য আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে, সেই টিকাগুলোতে আমাদের দেশেও এসেছে। তাহলে আমরা কেন পাবো না, প্রশ্ন করেন তিনি।

ঢাকায় একটি দৈনিকে কর্মরত সীরাজুম মুনীরা বলেন, সাংবাদিকসহ অনেক পেশার অন্তঃসত্ত্বাদের কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হয়। ফলে তাদের এক্সপোজার বেশি হয়। এজন্য টিকার সুরক্ষা প্রয়োজন বেশি।

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তখন থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বলে এসেছে, যারা টিকার আওতার বাইরে থাকবে তাদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী অন্যতম। কারণ অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিয়ে বিশ্বে কোনও ট্রায়াল হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তখন জানিয়েছিল বছরে ৩৫ লাখ নারী গর্ভধারণ করেন, তারা অবশ্যই করোনা টিকার বাইরে থাকবেন।

সরকার দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। বাকি ২০ শতাংশকে হার্ড ইমিউনিটির (গণরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) কারণে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে অন্তঃসত্ত্বা অনেক নারীর মৃত্যু হয়েছে-যা আশঙ্কাজনক।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অবশ্যই টিকা নেওয়া উচিত। এতে করোনা ঝুঁকি কমবে। গর্ভাবস্থায় অন্য কোনও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে টিকা নিতে পারে। এতে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং মা ও শিশু নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখায় ঘটছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে অবসট্রাক্টিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)।

সারা দুনিয়াতেই এখন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ওজিএসবির সাবেক সভাপতি ও মামস ইন্সটিটিউট অব ফিস্টুলা অ্যান্ড উইমেন্স হেলথ এর প্রধান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার বলেন, প্রথম তিন মাস বা ১২ সপ্তাহ আমরা নিষেধ করছি। কারণ, সে সময়ে বাচ্চার অর্গানগুলো ডেভেলপ করে, তাই এ সময়ে না দিয়ে ১২ সপ্তাহ পর থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া উচিত এবং বাংলাদেশে যে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে সে ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা উচিত।

অবসট্রাক্টিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) এর সাবেক সভাপতি ও ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেড (আইসিআরসি)এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সামীনা চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অবশ্যই টিকার আওতায় আনা উচিত।

সারা দুনিয়ায় দেওয়া হচ্ছে, আমাদেরও বসে থাকলে হবে না। বিশ্বের অনেক দেশেই গর্ভকালীন সময়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এটা দেওয়া উচিত।

অতি সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা অনেক নারীর মৃত্যু হচ্ছে এবং পেটের শিশুও মারা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মায়ের যদি অক্সিজেন ঘাটতি হয় তাহলে সন্তান পেটের ভেতরে মারা যায়।

রাজধানীর করোনা ডেডিকেটেড একটি হাসপাতালের কথা জানিয়ে ডা. সামীনা চৌধুরী বলেন, ‘সেখানকার চিকিৎসকরা বলছেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বাঁচাতেই পারছি না’

একমাত্র টিকাই তাদেরকে বাঁচাতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, আর কোনও পথ খোলা নেই আমাদের সামনে।

‘ এতে রিস্ক-বেনিফিট দুটোই রয়েছে, কিন্তু এখানে রিস্ক কম, বেনিফিটই বেশি’  জানিয়ে তিনি বলেন, অধ্যাপক সামীনা চৌধুরী বলেন, টিকা দিলে অ্যাবরশন হবে কিনা-সে নিয়ে একটা সংশয় রয়েছে। কিন্তু সাধারণ সময়ে যে অ্যাবরশন হয়। টিকা দিলেও সেই একই হবে। এটি একদম প্রমাণিত।

তিনি আরও বলেন, অনেক জায়গায় ট্রায়াল হয়েছে, টিকা দিলে মা এবং সন্তানের বেনিফিট হয়। মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছে-এমন অবস্থায় টিকাতো আগে থেকেই দেওয়া হচ্ছে। আর বেনিফিট এজন্য যে, মায়ের শরীরে যে ইমিউনিটি তৈরি হয় সেটা বুকের দুধ খাওয়া সন্তানের শরীরে গেলে সন্তানের উপকার হয়। তার মধ্যে রেজিস্ট্যান্স গ্রো করে মন্তব্য করে অধ্যাপক সামীনা চৌধুরী বলেন, এখন আর অপেক্ষা করার কোনও মানেই হয় না। ইতোমধ্যেই ওজিএসবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েদের টিকার আওতায় আনতে হবে।

গর্ভধারণের যে কোনও স্টেজে টিকা দেওয়া যাবে এবং দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেডের (আইসিআরসি) চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মৃত্যুহার এবারে অনেক বেশি।

ওজিএসবির পক্ষ থেকে আমরা সুপারিশ করেছি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা-সিনোভ্যাক সব টিকাই নেওয়া যাবে, অ্যালাউড।

পৃথিবীর সব সংস্থা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে, তাহলে আমরা কেন দেব না- বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  আমরা ২৫ জুলাই একটি প্রস্তাব দিয়েছি নাইট্যাগকে (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ)। তারা যদি অ্যাপ্রুভ করে তাহলে আমরা দেব।

তিনি আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে অনেক দেশ তাদের নিজেদের প্রটোকলে দিয়েছে। যে কোনও দেশে তাদের নিজের প্রয়োজনে এটা করতেই পারে।

ওজিএসবির প্রস্তাবনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কেউ যদি টিকা নিতে চায়, ন্যাশনাল কমিটি যদি আমাদের অ্যাপ্রুভ করে তাহলে আমরা দেব।

/জেএ/এফএএন/

সম্পর্কিত

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের শর্ত শিথিল

নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের শর্ত শিথিল

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

শিগগিরই ২০ জেলায় উন্মুক্ত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের বিউটি পার্লার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৮

দেশের ২০টি জেলা শহরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিউটি পার্লার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। মহিলা অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় বিউটি পার্লার ছাড়াও দেশের ৬৪টি জেলা শহরেই ‘সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টারে’ পণ্য সমগ্রী বিক্রি ও প্রদর্শন চালু হবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের গত মঙ্গলবারের (২১ সেপ্টেম্বর) অফিস আদেশে জানানো হয়, এর আগে বিউটি পার্লার এবং সেলস ও ডিসেপ্ল সেন্টারের ভেন্যু ভাড়া ও চুক্তি সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ২০২১ সালের জুন মাসে দেওয়া হয়েছে। সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টারএবং বিউটিপার্লার স্থাপনের লেআউট ও থ্রিডি ডিজাইনও পাঠানো হয়েছে। ডিজাইন মোতাবেক সন্নিবেশ করার জন্য এবং উদ্যোক্তা নির্বাচনের জন্য ইতোপূর্বে প্রকল্প কার্যালয় থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা অনুরোধ জানিয়ে বলা অফিস আদেশে বলা হয়, আগামী ১০ কর্মদিবসের পর যে কোনও দিন যে কোনও সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালক মহোদয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি, প্রকল্প কার্যালয় এবং অডিট ভবন সরেজমিন বা অনলাইনে পরিদর্শন ও অডিট করবেন।

/এসএমএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

ঢামেকের সামনে থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

ঢামেকের সামনে থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

আজও নারীর মৃত্যু বেশি

আজও নারীর মৃত্যু বেশি

পোশাকশ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

পোশাকশ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হাইকোর্টের

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হাইকোর্টের

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজবে মহালয়ায়। আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়া। এর সঙ্গে সঙ্গেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী এবার আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নিবেন দোলায় চড়ে। মহালয়ার পাঁচদিন পর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১১ অক্টোবর বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পালিত হবে। আর ১৫ অক্টোবর হবে দেবী বিসর্জন। উৎসবকে ঘিরে তাই এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।   

সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন– বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন— দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

ধূপ, কাশা, ঘণ্টা আর ঢাকের তালে তালে শুরু হবে শারদীয় উৎসব। তাই শেষ সময়ে চলছে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ। সারা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুরান ঢাকার শাখারিবাজারে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন সম্প্রদায়ের পালেরা (প্রতিমা তৈরীর মূল কারিগর)। সেখানের কয়েকটি পালবাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বাবা-দাদার আমল থেকে। প্রতিবছর তারাই মূলত প্রতিমাগুলো তৈরি করেন। কারিগরদের সঙ্গে পরিবারের বাকি সদস্যরাও তখন যুক্ত হন। প্রথমে কাঠ-বাঁশ দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে খড় দিয়ে মূর্তির আদল তৈরি করা হয়। তার ওপর দেওয়া হয় কাদা-মাটির প্রলেপ। এভাবে একের পর এক প্রলেপ লাগিয়ে শুকাতে হয়। সব শেষে রং লাগিয়ে পোশাক ও গহনা পরানো হয়। কারিগরেরা বলছেন, প্রতিমা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এঁটেল মাটি, বাঁশ, কাঠ, খড়, পাটের আঁশ।

কারিগরার জানান, প্রতিমা তৈরির খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। বর্তমানে আকারভেদে একেকটি প্রতিমা তৈরি করতে ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কোনও কোনও মণ্ডপে লাখ টাকার বেশিও খরচ করেও প্রতিমা তৈরি করা হয়। কাজভেদে একেকজন কারিগর মৌসুমের প্রতি মাসে আয় করেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।  তারা আরও জানান,  কোনও কোনও মণ্ডপে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করে মাটির কাজও শেষ হয়েছে। ১০-১২ দিন  পর থেকেই শুরু হবে প্রলেপ ও রং দেওয়ার কাজ। সব কাজ শেষ হবে পূজা শুরুর দুই একদিন আগে।

স্কুল জীবন থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন হরিপদ পাল। তার প্রতিষ্ঠান শিমুলিয়া ভাস্কর শিল্পালয়। বয়সের ভারে কাজ নেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন বর্তমানে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণেও কাজ আসার পরিমাণ কম বলেও জানান তিন। বর্তমানে একটি দেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন। সেটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পূজা মণ্ডপের জন্য বলে জানান তিনি। হরিপদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যদি হাতের কাজ তৈরি করার পর পারি সম্ভব হয় তাহলে আরও দুই একটা কাজ নেব। কিন্তু এখন আর নিচ্ছি না। করোনার আগেও অনেক প্রতিমা তৈরির কাজ করেছি। কিন্তু এখন বয়সের কারণে আর আগের মতো কাজ করতে পারি না।

হরিপদ জানান, ঢাকার বনানী পূজামণ্ডপসহ সারাদেশেই অনেক প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আর সেখানে কাজ করা হয় না। দেশের বাইরে থেকেও আগে প্রতিমা তৈরির করার জন্য বায়না করা হতো, তবে সেটি এখন হয়না বলে জানান তিনি। ওয়াশিংটনসহ ভারতেও বায়নার কাজ করেছেন হরিপদ পাল। তিনি জানান, প্রতিমার কাজ অনেক আছে। কিন্তু করতে পারছি না বলে ফিরিয়ে দিচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জের সুকৃতি শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী সুকুমার পাল এবার তৈরি করছেন বনানী পূজামণ্ডপের প্রতিমা। তিনি জানান, এবার চার-পাঁচটি কাজ পেয়েছি। অর্ডার কম কিন্তু যেসব আছে তাতে কাজ অনেক বেশি। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে চারটি প্রতিমা তৈরির কাজ আছে। আর বনানীতে একটি প্রতিমা তৈরির কাজ আছে।

প্রতিমা অঙ্গরাজ ভাস্কর শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী এস কে নন্দী জানান, আমাদের কাজ পুরদমে চলছে। আমার এখানে সাতটি প্রতিমার অর্ডার আছে। ঢাকার গোপীবাগে ভোলা নন্দগিরি আশ্রমের দুটি প্রতিমার কাজ চলছে আর সিলেটের পাঁচটি প্রতিমার কাজ করছি। গত বছরের চেয়ে এই বছর কাজ একটু বেশি। তারপরও অনেকে আমার কাছে আসছিল, কিন্তু আমার সক্ষমতা আর নেই। যার কারণে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আগামিবার যদি পরিস্থিতি ভালো হয় তাহলে আরও আগে থেকে শুরু করবো কাজ।

এদিকে সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ১৮ দফা প্রস্তাবনা সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হবে। এর মধ্যে গতবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত করা কয়েকটি শর্ত শিথিলের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতবার ৩৬ দফা প্রস্তাবনা ছিল এবার কমিয়ে ১৮ দফা দিয়েছি আমরা। উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় যেগুলো গতবার ছিল না, সেগুলো এবার থাকবে। পাশপাশি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে। মাস্ক ছাড়া এবারও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না মণ্ডপে। এবারও আলোকসজ্জা, ডিজে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় যে শোভাযাত্রা করা হয় সেগুলো করা যাবে না। যার যার প্রতিমা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্থানে বিসর্জন দিবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু যেহেতু মোটামুটি খোলা সেহেতু আশা করছি অনেক মানুষ এবার পূজায় অংশ নিবে। যদিও আমরা রেস্ট্রিকশন দিয়ে রেখেছি। ৩০ তারিখের বৈঠকে কিছু জিনিস শিথিলতার বিষয়ে আমরা বলবো। প্রশাসন যেন তাতে নজরদারি রাখে সেগুলো আমরা বলবো।

 

/এফএএন/

সম্পর্কিত

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০০

বারবার উদ্যোগ গ্রহণের পরও পুরোপুরি বাঁচানো যাচ্ছে না বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীকে। এক দিকে দখলমুক্ত করলেও অন্যদিকে ফের দখল করে নিচ্ছে নদীখেকোরা। সরকার এই চার নদীর অবৈধ দখল রোধ করতে চায়। একইসঙ্গে নদীর তীরের পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণ করে রাজধানীর চার নদীর দখলমুক্ত তীর রক্ষা, নাব্যতা, গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো এবং নদীর দূষণ কমিয়ে আনার প্রকল্প নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে নেওয়া হলেও নানা কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি এতে সংশোধনী আনা হয়েছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তা অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের চার নদীর সীমানা পিলার ও ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজের গতি হতাশাজনক। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছরের জুনে। অগ্রগতি মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশ। তাই সময় বাড়িয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করতে উদ্যোগী হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। 

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ওয়াকওয়ে সংলগ্ন ৩৫ দশমিক ৩৫৮ কিলোমিটার ড্রেন, ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নদী সংরক্ষণ বাঁধ, জেটির জন্য ২১ কিলোমিটার পার্কিং ইয়ার্ড ও ৪টি ঘাট নির্মাণ ডিপিপিতে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে রেট সিডিউল পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট অংশের ব্যয় ও পরিমাণ বাড়ানো এবং বাস্তবায়নের মেয়াদ ১ বছর বাড়ানোর জন্যই সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকাকে ঘিরে রাখা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে অবৈধ দখল রোধ, পরিবেশগত উন্নয়ন সাধন, সৌন্দর্য বর্ধন ও জনসাধারণের চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ অর্থ ব্যয়ের পর বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরে প্রকল্পের কাজ অনেকটাই দৃশ্যমান। তবে বালু ও শীতলক্ষ্যার তীরে কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি।

পিলার স্থাপনে যেটুকু কাজ হয়েছে তাতেও অনিয়ম হয়েছে। পাইলিং না করে পিলার বসানোয় বেশ কয়েকটি পিলার উল্টে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্প ব্যয় ৩৩৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে তা একনেকে অনুমোদন পায়।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ঢাকার সদরঘাট, উত্তরখান, তুরাগ, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, কোতায়ালী, মিরপুর, কেরাণীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সদর বন্দর, সোনারগাঁও ও গাজীপুর সদর এলাকায় ১৮ দশমিক ২১ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন ও অপসারণ করা হবে।

নদীর তীরভূমিতে ৩৩ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার, তীরভূমির কলামের ওপর ১৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে এবং ওয়াকওয়ে সংলগ্ন ৩৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন তৈরি হবে। ৮০টি আরসিসি সিঁড়ি বানানো হবে। ১০ দশমিক শূন্য ৪ কিলোমিটার কি-ওয়াল, ২৯১টি বসার বেঞ্চ ৮৫০ মিটার সীমানা প্রাচীর ও ৩৮৫০টি সীমানা পিলার, ৪টি ঘাট, ১৪টি জেটি ও ২৮টি স্পাড, ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নদী রক্ষা বাঁধ, ২১ হাজার বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড, ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২২ সালের ৩০ জুনে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলেও একবছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দখলদারিত্ব রোধ ও আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, ‘এটি একটি বড় প্রকল্প। পুরোপুরি বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ে সম্ভব নয়। প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়ন হলে ঢাকার চার নদীর তীর বিনোদন কেন্দ্রও হবে।

/এফএ/

সম্পর্কিত

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

ক্যাম্পাস দেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ ইউজিসির

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৫৪

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি হয়। অপরদিকে ‘ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা’ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ইউজিসির ওয়েবসাইটে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে ১০৮টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ইউজিসির অনুমতিক্রমে ৯৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের www.ugc.gov.bd ভিজিট করে অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাস ও কমিশন নির্ধারিত আসন সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ভর্তি হতে পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি।

গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০, কমিশনের নিয়ম-নীতি ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস, প্রোগ্রাম ও নির্ধারিত আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করছে।

এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অবৈধভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে কমিশন থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অর্জিত ডিগ্রির মূল সার্টিফিকেটে স্বাক্ষরকারী হবেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ করা ডিসি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৯৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার সকলেই নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া, রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা ভিসি রয়েছে ৬৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রো-ভিসি ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ট্রেজারার আছে ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে কেউ নেই। কমিশনের ওয়েবসাইটে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যাবলী’ শিরোনামের সেবা-বক্সে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সন্নিবেশিত রয়েছে।

এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করেছে ইউজিসি। এরপর অননুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কোনোভাবে প্রতারিত হলে তার দায় ইউজিসির ওপর বর্তাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।  

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কমিশন থেকে এ অবধি কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার পরিচালনারও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভুয়া নামে বা স্বনামধন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অবৈধভাবে ওয়েবসাইট বা অফিস খুলে তথাকথিত পিএইচডিসহ বিভিন্ন ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে যা কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত কোনও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা/ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টারের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন কমিশন দেয়নি।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

অনলাইনে কারিগরির অ্যাডভান্সড কোর্সে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

অনলাইনে কারিগরির অ্যাডভান্সড কোর্সে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৩

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০১৯ শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। এই পরীক্ষায় ১২ থেকে ১৯ ব্যাচের নিয়মিত ও পুনঃপরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন।  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাউবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাউবি'র বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০১৯ এর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের স্থগিত পরীক্ষা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

এছাড়াও ডি-নোভো (DeNovo) রেজিস্ট্রেশন করা ১১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০১৯ এ অংশ নিতে প্রথম সুযোগ এবং ১০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ সুযোগ এটি। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছাড়া অন্য কোনও ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

 

/এসএমএ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

ক্যাম্পাস দেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ ইউজিসির

ক্যাম্পাস দেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ ইউজিসির

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের শর্ত শিথিল

নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের শর্ত শিথিল

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

অনূর্ধ ১০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীই প্রায় ২৫ শতাংশ

অনূর্ধ ১০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীই প্রায় ২৫ শতাংশ

অনলাইনে কারিগরির অ্যাডভান্সড কোর্সে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

অনলাইনে কারিগরির অ্যাডভান্সড কোর্সে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

করোনায় মৃত ২৪ জনের ১৪ জন নারী

করোনায় মৃত ২৪ জনের ১৪ জন নারী

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে টিউশন-ফি মওকুফের দাবি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে টিউশন-ফি মওকুফের দাবি

দেশে এলো সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ টিকা

দেশে এলো সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ টিকা

অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ

চার তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

চার তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

ত্বকটাকে খুশি রাখতে চান?

ত্বকটাকে খুশি রাখতে চান?

মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে যুবককে গুলি করে হত্যা

মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে যুবককে গুলি করে হত্যা

শিগগিরই ২০ জেলায় উন্মুক্ত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের বিউটি পার্লার

শিগগিরই ২০ জেলায় উন্মুক্ত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের বিউটি পার্লার

৫ স্কুলছাত্রীর করোনা শনাক্ত, ক্লাস বন্ধ

৫ স্কুলছাত্রীর করোনা শনাক্ত, ক্লাস বন্ধ

© 2021 Bangla Tribune