X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

অনলাইনে বোমা তৈরির স্কুল চালাতো জঙ্গি ফোরকান

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ০০:৩৩

সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যেভাবে ক্লাস করেন সেভাবেই বোমা তৈরির একটি স্কুল গড়ে তুলেছিল এক তরুণ। এই অনলাইন স্কুলে অংশ নিতো নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যরা। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে জঙ্গি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতো নব্য জেএমবির এক বোমা তৈরির কারিগর। তার নাম জাহিদ হাসান ওরফে রাজু ওরফে ইসমাইল ওরফে ফোরকান। সম্প্রতি অনলাইনে এমন একটি বোমা তৈরির স্কুলের সন্ধান পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশের জঙ্গি প্রতিরোধে বিশেষায়িত ইউনিট-কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। বোমা তৈরির ওই প্রশিক্ষককে গ্রেফতারে শুরু হয়েছে অভিযান।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাসা নব্য জেএমবি আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তুরস্ক থেকে মাহাদী হাসান জন ওরফে আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি পরিচয়ে এক জঙ্গি আমীর হিসেবে নব্য জেএমবিকে সংগটিত করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করে তারা এখন সংগঠনের সব সদস্যদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে জাহিদ ওরফে ফোরকান গোপনে একটি অনলাইন স্কুল তৈরি করেছে। সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যদের সেখানে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী সুমন বলেন, ‘অনলাইনে বোমা তৈরির স্কুল পরিচালনা করছে জঙ্গিরা, এমন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য ও আগে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা বোমা তৈরির অনলাইন স্কুলের সত্যতা পান। পরে এই স্কুলের প্রশিক্ষককে গ্রেফতারের জন্য তার বিস্তারিত নাম-পরিচয় সংগ্রহ শুরু করেন।’

সিটিটিসি সূত্র জানায়, অনলাইনে বোমা তৈরির স্কুল পরিচালনাকারী জাহিদ হাসান ওরফে ফোরকান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় থেকেই সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরকের নানা উপকরণ নিয়ে পড়াশুনা করে এবং অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই বোমা তৈরির দক্ষ কারিগর হয়ে ওঠে। এরপর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে সে নিজেই বোমা তৈরির স্কুল পরিচালনা শুরু করে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, জাহিদ ওরফে ফোরকান এনক্রিপ্টেড বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সংগঠনের সহযোগী সদস্যদের কাছে প্রথমে বোমা তৈরির ম্যানুয়াল পাঠিয়ে দিতো। তারপর সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভিডিও কলে হাতে-কলমে শেখাতো। তার তৈরি করা বোমা বা আইইডি (ইমপ্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একটি পুলিশ বক্স থেকে উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, গত ১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বন্দর থানাধীন দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একাধিক আইইডি উদ্ধারের পর তা নিস্ক্রিয় করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কাউসার হোসেন ওরফে মেজর উসামা নামে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বোমা তৈরির অনলাইন স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষক জাহিদ ওরফে ফোরকানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা ইতোমধ্যে জাহিদ ওরফে ফোরকানের বিস্তারিত পরিচয় সংগ্রহ করেছেন। ফোরকান বোমা তৈরিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণও নিয়েছে। বান্দরবানে গিয়ে নিজে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে সে একাধিকবার কথিত হিজরতের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টাও করেছিল।

সিটিটিসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা শুরু থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের চাইতে আইইডি বা বোমা ব্যবহার করতো বেশি। আত্মঘাতী হামলা বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে বেশি লোকজনকে হতাহত করে আলোচনায় আসা তাদের টার্গেট। এ জন্য আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিস্ফোরকের উপাদান ও ডেটোনেটর সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এখন পার্শ্ববর্তী দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে থাকায় দেশীয় বাজার থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যায় এমন রাসায়নিক উপাদান এনে বোমা তৈরি করছে তারা। এমনকি জঙ্গিরা বোমা তৈরির ডেটোনেটরও নিজেরা তৈরি করছে।

সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা এখন অনেক বেশি অনলাইনকেন্দ্রিক হয়ে আছে। তারা সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, অর্থ সংগ্রহ ও প্রোপাগান্ডা প্রচার বা ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচারণার সবকিছুই করছে অনলাইনে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনলাইনে কড়া নজরদারি করছে।

 

/আইএ/ 

সম্পর্কিত

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৯

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৪২ হাজার ৭২৪ পিস ইয়াবা, ১৮৩ গ্রাম ১ হাজার ২০ পুরিয়া হেরোইন, দেশি মদ ১৭ বোতল, ৫০ কেজি ৩০৫ গ্রাম গাঁজা ও ৮ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪১টি মামলা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

সাক্ষাৎকারে ড. ফেরদৌসী কাদরী 

‘করোনা নিয়ে আরও কাজ হলে গবেষণার ক্ষেত্রটা বাড়বে’

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০০
করোনা নিয়ে যতটা গবেষণা হওয়া উচিৎ ততটা হচ্ছে না। এটা বাড়ানো উচিৎ। করোনা নিয়ে আরও কাজ হলে আমাদের নিজেদের গবেষণার ক্ষেত্রটা বাড়বে। এমনটা জানিয়েছেন এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউন-এর জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক জাকিয়া আহমেদ।

 

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের করোনা পরিস্থিতি বলা যায় ভালোর দিকে, করণীয় কী?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: দেশের সব ‘পারফেক্ট’ নয়। কিন্তু করোনা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যার যার জায়গা থেকে যা করার ছিল সে সেটাই করেছে। সেইসঙ্গে সরকারের তরফ থেকেও অনেক সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনায় প্রতিদিন যে মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো হয়, সেটা নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু এর বাইরে পোস্ট কোভিড, লং কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে। অনেকে আনডিটেকটেড থাকছেন। সবাই পরীক্ষার আওতায় আসছেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যত মৃত্যুর কথা আমরা জানি, তার তিন থেকে চারগুণ বেশি মৃত্যু হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কথা- পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে, চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়াতে হবে এবং মানুষকে সচেতন হতে হবে।

ড. ফেরদৌসী কাদরী 

বাংলা ট্রিবিউন: দেশের ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের হার্ড ইমিউনিটি হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: ৮ বিভাগে আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠা)-এর সঙ্গে এক যৌথ জরিপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ৬০ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি রয়েছে। কিন্তু সেটা হার্ড ইমিউনিটি নয়। করোনা প্রতিরোধের জন্য যে ধরনের অ্যান্টিবডি দরকার সেটা এই অ্যান্টিবডি দিয়েই হবে, তা আমি বলতে পারবো না।

হার্ড ইমিনিউটির ব্যাপ্তি অনেক। এটি কেবল সংক্রমিত হবার মাধ্যমে হয় না। ভ্যাকসিনেশন এবং ইনফেকশন-দুটো দিয়েই করতে হয়।

আমি কখনোই হার্ড ইমিউনিটির কথা বলি না। একটা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০-৮০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হলে এবং তাদের যদি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়- তবে দুটো মিলিয়ে হার্ড ইমিউনিটি হয়।

নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট আসছে, সেগুলোর মধ্যে পরিবর্তন হচ্ছে। যে পরিবর্তনে শরীরের ভেতর অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও সেটা কাজ করছে না অনেক সময়। এই কারণেই একাধিক মানুষ একাধিকবার আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ একবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে আক্রান্ত হলে তিনি যে অন্য ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হবেন না-তাও নয়।

ড. ফেরদৌসী কাদরী 

বাংলা ট্রিবিউন: টিকা নিলেই নিরাপদ?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: কোনও টিকাই শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এখন পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা নেওয়া থাকলে রোগীর অবস্থা জটিল হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে না। আইসিইউতেও যেতে হচ্ছে না। এজন্য টিকা অবশ্যই নিতে হবে।

আবার টিকাতেও তফাৎ রয়েছে। আমরা এখনও পুরোটা জানি না। টিকা আবিষ্কারের জন্য অনেক বছর গবেষণার দরকার। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে আমাদের সময় কম ছিল। অল্প সময়ে টিকা আবিষ্কার হচ্ছে। আবার সেটা বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের কারণে।

করোনায় অনেক দেশেই সংক্রমণের হার বেশি ছিল। ডেল্টার তাণ্ডবে ভারতে হাসপাতালে রোগীদের জায়গা হয়নি। মৃতদেহের সৎকার হয়নি ঠিকমতো। ডেল্টার প্রকোপ বাংলাদেশেও চলেছে সমানতালে। জুলাইতে সর্বোচ্চ রোগী ও আগস্টে একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও যতটা আশঙ্কা ছিল সে অনুযায়ী করোনার প্রকোপ দেখতে হয়নি বাংলাদেশকে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: কী কারণেদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: আমরা দেরি করিনি কিছুতে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভালো ছিল। আমাদের দেশে সিদ্ধান্তগুলো খুব তাড়াতাড়ি নেওয়া হয়েছে অন্য দেশের তুলনায়।

স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে টিকার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে ১১টি টিকা রয়েছে টিকা কর্মসূচিতে। শিশু এবং মায়েদের টিকা দেওয়া হচ্ছে অনেক বছর ধরে।

ডেল্টার সময় আমরা টিকা পাইনি। তার আগে সংক্রমণের হারও কম ছিল। হঠাৎ করেই বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের স্ট্যাটাস অনেক ভালো ছিল। আমরা অনেক মৃত্যু দেখেছি-যা আগে দেখিনি। তারপরও মেক্সিকো, আমেরিকা, ব্রাজিল, ভারতের তুলনায় অনেক কম।

আমাদের অক্সিজেনের অভাবও হয়নি। ভারতে হয়েছে। যার কারণে ভারতে যেভাবে মৃত্যু দেখেছে বিশ্ববাসী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখতে হয়নি।

আবার, বাংলাদেশের মানুষ পেয়ারা, আমড়া, আমলকির মতো ফল খেতে পারছে। এগুলো দেশে খুব কম দামে সবসময় পাওয়া যায়। এগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর। ভিটামিন-বি, সি রয়েছে। আছে আয়রন। এগুলোর জন্যও আমরা হেলদি। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অনেক পুষ্টিকর খাবার পায় কম দামে। যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

বাংলা ট্রিবিউন: এখনও যত পথ বাকি...।

ড. ফেরদৌসী কাদরী: বাংলাদেশের রোগ নির্ণয় অর্থাৎ ডায়াগনোসিস নিয়ে একটু আক্ষেপ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে, কোন দেশে কোন নতুন রোগ দেখা দিচ্ছে, সেই বিষয়ে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যেটা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) করছে। আইসিডিডিআরবিও তাদের সঙ্গে কাজ করে।

কোভিডের বেলায় শুরুতে একটি মাত্র পরীক্ষাগার থেকে আজ ৮১০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এসব পরীক্ষাগার যেন কখনও বন্ধ না হয়। তাদেরকে সেই সাপোর্ট দিতে হবে। প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।

সবকিছু একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মান বাড়ানোর জন্য, যন্ত্রপাতির জন্য, রি-এজেন্টের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে যে সাহায্য পেয়েছি, যে ফান্ডিং এসেছে-সেটাও কম নয়। সেইসঙ্গে সরকারও খরচ করে যাচ্ছে। আমার কথা হলো, এই গতি যেন না কমে।

আমি যেহেতু গবেষণা করি, তাই বলছি-করোনা পরিবর্তন হয়ে আরেকটি নতুন রোগ আসতে পারে। তখন যেন পিছিয়ে না পড়ি, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ড. ফেরদৌসী কাদরী 

বাংলা ট্রিবিউন: ডেল্টার মতো ভ্যারিয়েন্ট আরও আসতে পারে?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: দেশে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত দুদিন শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে। এটা আবার বাড়তে পারে। ডেল্টার মতো অতি সংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্টও আসতে পারে। এ নিয়ে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না।

 

বাংলা ট্রিবিউন: মানুষ তো আবার অবাধে চলতে শুরু করেছে, কোন বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: এখন মাস্ক না পরাটা সবচেয়ে খারাপ হবে। প্রতিটি মানুষের সচেতন হওয়া উচিত। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য এটা কর্তব্য। সবার ‘রেসপনসিবিলিটি’ রয়েছে এখানে। কেন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব হবে? আমাদের দায়িত্ববোধ কোথায়? মানুষতো অনেক ধরনের সমাজসেবা করে। দায়িত্বশীলরা মাস্ক ডোনেট করছে না কেন? পরতে পরতেই এটাকে অভ্যাস বানাতে হবে। মাস্ক কেবল করোনা থেকে নয়, ফুসফুসজনিত অনেক রোগ থেকেও আমাদের বাঁচায়।

যেসব অফিসে কর্মীরা মাস্ক পরছে না, সেখানে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ অফিসে ঢুকতেই পারবে না, এ নিয়ম জারি করতে হবে। নয়তো শাস্তির বিধান করতে হবে। এ ছাড়া বাঁচা যাবে না। সরকার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার অনুরোধ করবো আমি।

 

বাংলা ট্রিবিউন: গবেষণায় আগ্রহী হলেন কেন?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: পুরস্কার পাবো, এমনটা চিন্তা করিনি কখনও। সবসময় মানুষের জন্য কাজ করতে চাইতাম। দেশের কাজে লাগবে, এমন কিছু করতে চাইতাম।

বায়োকেমিস্ট্রি পড়লাম, পিএইচডি করলাম, দেশে ফিরে এলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালাম। পড়াতে গিয়েই বুঝলাম, গবেষণা বেশি পছন্দ করছি। কিন্তু ‍যে সুযোগ দরকার ছিল তার ঘাটতি দেখলাম। সবসময় অভাব বোধ করতাম সেখানে।

এরপর ১৯৮৮ সালে আইসিডিডিআরবিতে যোগ দিই। সেখানেই কাজ করছি ৩৩ বছর ধরে। অনেক আনন্দের সঙ্গে কাজ করছি সহকর্মীদের নিয়ে। দেশ-বিদেশের অনেকের সহযোগিতা পাচ্ছি। এখানে রোজ শিখছি।

১ সেপ্টেম্বর স্বামীকে (সালেহীন কাদরী) হারিয়েছি। পারিবারিক কারণে অনেক কষ্টে রয়েছি। সেটাও কাজের মাধ্যমে ভুলে থাকতে পারছি। কাজ করলে ভালো থাকি।

 

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বের টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার পর্যালোচনা কী?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: অনেক ধনী দেশ করোনাভাইরাসের টিকা মজুত করে রেখেছে। অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সংকট রয়ে গেছে। এটা খুবই দুঃখের বিষয়।

অনেক দেশে দরকারের চেয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি টিকা রয়েছে। তারা রেখে দিয়েছে বুস্টার ডোজের জন্য। কিন্তু অনেক টিকা মেয়াদ হারাচ্ছে। এটা সহ্য করার মতো নয়। এ কারণে কোভ্যাক্স সুবিধা করা হয়েছে। বিশ্বের অনেক ধনী দেশ রয়েছে সেখানে, রয়েছে অনেক সংগঠন। কিন্তু তারাও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এ বৈষম্য স্পষ্ট ধরা পড়ছে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে গবেষণার ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান কেমন?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: মেয়েরা এখন নয়টা-পাঁচটার ছক থেকে বের হয়ে চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসছে। সত্যি খুব গর্ব করি তোমাদের নিয়ে (নারী সাংবাদিকদের উদ্দেশে)। তোমরা একটা ঝুঁকির্পূণ পেশা বেছে নিয়েছো। সবার বাসা থেকে এখানেও সাপোর্ট দেওয়া হয় না।

নারীর লড়াই কেবল বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নয়। সারা বিশ্বেই চলছে। এ লড়াই অনেক কঠিন। নারীরা গবেষণায় একটু পিছিয়ে রয়েছে। এখানে এগিয়ে আসতে হবে।

 

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশকে সামনে কোথায় দেখতে চান?

ড. ফেরদৌসী কাদরী: বাংলাদেশকে সবার উপরে দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ দিয়েছে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন)। এটা দারুণ ব্যাপার। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সবার ওপরে। এখন কোথাও গেলে যখন শোনে আমি বাংলাদেশি, তখন বিস্ময় নিয়ে বলে, টিকা কর্মসূচিতে আমরা সফল। আমরা কীভাবে তা সম্ভব করলাম, সেটা জানতে চায়। আমাদের নেতৃত্বে যিনি আছেন, তার চিন্তা অনেক অগ্রগামী। তিনিই এগিয়ে নেবেন।

আমরা এখন অনেক কিছু রফতানি করি। তৈরি পোশাক থেকে শুরু করে মাছ, ফল-এমনকি আমাদের ওষুধও যাচ্ছে বাইরে। স্বপ্ন দেখি, একদিন আমাদের টিকাও রফতানি হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোয়ালিফিকেশনও পেয়ে যাবে শিগগিরই। যদি আমরা উন্নতমানের ওষুধ বানাতে পারি, তা হলে টিকাও পারবো।

একনজরে ড. ফেরদৌসী কাদরী

আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। এ প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে গবেষণাধর্মী কাজ করছেন ৩৩ বছর ধরে। সম্প্রতি পেয়েছেন এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কার। এ ছাড়া কলেরার টিকা নিয়ে গবেষণা এবং সাশ্রয়ী দামে সহজলভ্য করে লাখো প্রাণ রক্ষায় কাজ করেছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাবিষয়ক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যও ছিলেন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এফএ/

সম্পর্কিত

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ 

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

৫ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি

অনূর্ধ ১০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীই প্রায় ২৫ শতাংশ

অনূর্ধ ১০ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগীই প্রায় ২৫ শতাংশ

করোনায় মৃত ২৪ জনের ১৪ জন নারী

করোনায় মৃত ২৪ জনের ১৪ জন নারী

শিগগিরই ২০ জেলায় উন্মুক্ত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের বিউটি পার্লার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৮

দেশের ২০টি জেলা শহরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিউটি পার্লার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। মহিলা অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় বিউটি পার্লার ছাড়াও দেশের ৬৪টি জেলা শহরেই ‘সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টারে’ পণ্য সমগ্রী বিক্রি ও প্রদর্শন চালু হবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের গত মঙ্গলবারের (২১ সেপ্টেম্বর) অফিস আদেশে জানানো হয়, এর আগে বিউটি পার্লার এবং সেলস ও ডিসেপ্ল সেন্টারের ভেন্যু ভাড়া ও চুক্তি সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ২০২১ সালের জুন মাসে দেওয়া হয়েছে। সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টারএবং বিউটিপার্লার স্থাপনের লেআউট ও থ্রিডি ডিজাইনও পাঠানো হয়েছে। ডিজাইন মোতাবেক সন্নিবেশ করার জন্য এবং উদ্যোক্তা নির্বাচনের জন্য ইতোপূর্বে প্রকল্প কার্যালয় থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা অনুরোধ জানিয়ে বলা অফিস আদেশে বলা হয়, আগামী ১০ কর্মদিবসের পর যে কোনও দিন যে কোনও সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালক মহোদয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি, প্রকল্প কার্যালয় এবং অডিট ভবন সরেজমিন বা অনলাইনে পরিদর্শন ও অডিট করবেন।

/এসএমএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

ঢামেকের সামনে থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

ঢামেকের সামনে থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

আজও নারীর মৃত্যু বেশি

আজও নারীর মৃত্যু বেশি

পোশাকশ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

পোশাকশ্রমিকদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হাইকোর্টের

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা হাইকোর্টের

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজবে মহালয়ায়। আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়া। এর সঙ্গে সঙ্গেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী এবার আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নিবেন দোলায় চড়ে। মহালয়ার পাঁচদিন পর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১১ অক্টোবর বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পালিত হবে। আর ১৫ অক্টোবর হবে দেবী বিসর্জন। উৎসবকে ঘিরে তাই এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।   

সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন– বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন— দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

ধূপ, কাশা, ঘণ্টা আর ঢাকের তালে তালে শুরু হবে শারদীয় উৎসব। তাই শেষ সময়ে চলছে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ। সারা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুরান ঢাকার শাখারিবাজারে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন সম্প্রদায়ের পালেরা (প্রতিমা তৈরীর মূল কারিগর)। সেখানের কয়েকটি পালবাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বাবা-দাদার আমল থেকে। প্রতিবছর তারাই মূলত প্রতিমাগুলো তৈরি করেন। কারিগরদের সঙ্গে পরিবারের বাকি সদস্যরাও তখন যুক্ত হন। প্রথমে কাঠ-বাঁশ দিয়ে ফ্রেম তৈরি করে খড় দিয়ে মূর্তির আদল তৈরি করা হয়। তার ওপর দেওয়া হয় কাদা-মাটির প্রলেপ। এভাবে একের পর এক প্রলেপ লাগিয়ে শুকাতে হয়। সব শেষে রং লাগিয়ে পোশাক ও গহনা পরানো হয়। কারিগরেরা বলছেন, প্রতিমা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এঁটেল মাটি, বাঁশ, কাঠ, খড়, পাটের আঁশ।

কারিগরার জানান, প্রতিমা তৈরির খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে। বর্তমানে আকারভেদে একেকটি প্রতিমা তৈরি করতে ২০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কোনও কোনও মণ্ডপে লাখ টাকার বেশিও খরচ করেও প্রতিমা তৈরি করা হয়। কাজভেদে একেকজন কারিগর মৌসুমের প্রতি মাসে আয় করেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।  তারা আরও জানান,  কোনও কোনও মণ্ডপে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করে মাটির কাজও শেষ হয়েছে। ১০-১২ দিন  পর থেকেই শুরু হবে প্রলেপ ও রং দেওয়ার কাজ। সব কাজ শেষ হবে পূজা শুরুর দুই একদিন আগে।

স্কুল জীবন থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন হরিপদ পাল। তার প্রতিষ্ঠান শিমুলিয়া ভাস্কর শিল্পালয়। বয়সের ভারে কাজ নেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন বর্তমানে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণেও কাজ আসার পরিমাণ কম বলেও জানান তিন। বর্তমানে একটি দেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন। সেটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পূজা মণ্ডপের জন্য বলে জানান তিনি। হরিপদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যদি হাতের কাজ তৈরি করার পর পারি সম্ভব হয় তাহলে আরও দুই একটা কাজ নেব। কিন্তু এখন আর নিচ্ছি না। করোনার আগেও অনেক প্রতিমা তৈরির কাজ করেছি। কিন্তু এখন বয়সের কারণে আর আগের মতো কাজ করতে পারি না।

হরিপদ জানান, ঢাকার বনানী পূজামণ্ডপসহ সারাদেশেই অনেক প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আর সেখানে কাজ করা হয় না। দেশের বাইরে থেকেও আগে প্রতিমা তৈরির করার জন্য বায়না করা হতো, তবে সেটি এখন হয়না বলে জানান তিনি। ওয়াশিংটনসহ ভারতেও বায়নার কাজ করেছেন হরিপদ পাল। তিনি জানান, প্রতিমার কাজ অনেক আছে। কিন্তু করতে পারছি না বলে ফিরিয়ে দিচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জের সুকৃতি শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী সুকুমার পাল এবার তৈরি করছেন বনানী পূজামণ্ডপের প্রতিমা। তিনি জানান, এবার চার-পাঁচটি কাজ পেয়েছি। অর্ডার কম কিন্তু যেসব আছে তাতে কাজ অনেক বেশি। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে চারটি প্রতিমা তৈরির কাজ আছে। আর বনানীতে একটি প্রতিমা তৈরির কাজ আছে।

প্রতিমা অঙ্গরাজ ভাস্কর শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী এস কে নন্দী জানান, আমাদের কাজ পুরদমে চলছে। আমার এখানে সাতটি প্রতিমার অর্ডার আছে। ঢাকার গোপীবাগে ভোলা নন্দগিরি আশ্রমের দুটি প্রতিমার কাজ চলছে আর সিলেটের পাঁচটি প্রতিমার কাজ করছি। গত বছরের চেয়ে এই বছর কাজ একটু বেশি। তারপরও অনেকে আমার কাছে আসছিল, কিন্তু আমার সক্ষমতা আর নেই। যার কারণে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আগামিবার যদি পরিস্থিতি ভালো হয় তাহলে আরও আগে থেকে শুরু করবো কাজ।

এদিকে সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ১৮ দফা প্রস্তাবনা সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হবে। এর মধ্যে গতবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত করা কয়েকটি শর্ত শিথিলের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতবার ৩৬ দফা প্রস্তাবনা ছিল এবার কমিয়ে ১৮ দফা দিয়েছি আমরা। উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় যেগুলো গতবার ছিল না, সেগুলো এবার থাকবে। পাশপাশি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে। মাস্ক ছাড়া এবারও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না মণ্ডপে। এবারও আলোকসজ্জা, ডিজে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় যে শোভাযাত্রা করা হয় সেগুলো করা যাবে না। যার যার প্রতিমা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্থানে বিসর্জন দিবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু যেহেতু মোটামুটি খোলা সেহেতু আশা করছি অনেক মানুষ এবার পূজায় অংশ নিবে। যদিও আমরা রেস্ট্রিকশন দিয়ে রেখেছি। ৩০ তারিখের বৈঠকে কিছু জিনিস শিথিলতার বিষয়ে আমরা বলবো। প্রশাসন যেন তাতে নজরদারি রাখে সেগুলো আমরা বলবো।

 

/এফএএন/

সম্পর্কিত

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০০

বারবার উদ্যোগ গ্রহণের পরও পুরোপুরি বাঁচানো যাচ্ছে না বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীকে। এক দিকে দখলমুক্ত করলেও অন্যদিকে ফের দখল করে নিচ্ছে নদীখেকোরা। সরকার এই চার নদীর অবৈধ দখল রোধ করতে চায়। একইসঙ্গে নদীর তীরের পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণ করে রাজধানীর চার নদীর দখলমুক্ত তীর রক্ষা, নাব্যতা, গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো এবং নদীর দূষণ কমিয়ে আনার প্রকল্প নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে নেওয়া হলেও নানা কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি এতে সংশোধনী আনা হয়েছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তা অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের চার নদীর সীমানা পিলার ও ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজের গতি হতাশাজনক। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছরের জুনে। অগ্রগতি মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশ। তাই সময় বাড়িয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করতে উদ্যোগী হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। 

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ওয়াকওয়ে সংলগ্ন ৩৫ দশমিক ৩৫৮ কিলোমিটার ড্রেন, ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নদী সংরক্ষণ বাঁধ, জেটির জন্য ২১ কিলোমিটার পার্কিং ইয়ার্ড ও ৪টি ঘাট নির্মাণ ডিপিপিতে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে রেট সিডিউল পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট অংশের ব্যয় ও পরিমাণ বাড়ানো এবং বাস্তবায়নের মেয়াদ ১ বছর বাড়ানোর জন্যই সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকাকে ঘিরে রাখা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে অবৈধ দখল রোধ, পরিবেশগত উন্নয়ন সাধন, সৌন্দর্য বর্ধন ও জনসাধারণের চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ অর্থ ব্যয়ের পর বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরে প্রকল্পের কাজ অনেকটাই দৃশ্যমান। তবে বালু ও শীতলক্ষ্যার তীরে কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি।

পিলার স্থাপনে যেটুকু কাজ হয়েছে তাতেও অনিয়ম হয়েছে। পাইলিং না করে পিলার বসানোয় বেশ কয়েকটি পিলার উল্টে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্প ব্যয় ৩৩৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে তা একনেকে অনুমোদন পায়।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ঢাকার সদরঘাট, উত্তরখান, তুরাগ, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, কোতায়ালী, মিরপুর, কেরাণীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সদর বন্দর, সোনারগাঁও ও গাজীপুর সদর এলাকায় ১৮ দশমিক ২১ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন ও অপসারণ করা হবে।

নদীর তীরভূমিতে ৩৩ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার, তীরভূমির কলামের ওপর ১৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে এবং ওয়াকওয়ে সংলগ্ন ৩৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন তৈরি হবে। ৮০টি আরসিসি সিঁড়ি বানানো হবে। ১০ দশমিক শূন্য ৪ কিলোমিটার কি-ওয়াল, ২৯১টি বসার বেঞ্চ ৮৫০ মিটার সীমানা প্রাচীর ও ৩৮৫০টি সীমানা পিলার, ৪টি ঘাট, ১৪টি জেটি ও ২৮টি স্পাড, ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নদী রক্ষা বাঁধ, ২১ হাজার বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড, ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ৩টি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২২ সালের ৩০ জুনে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলেও একবছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দখলদারিত্ব রোধ ও আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, ‘এটি একটি বড় প্রকল্প। পুরোপুরি বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ে সম্ভব নয়। প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়ন হলে ঢাকার চার নদীর তীর বিনোদন কেন্দ্রও হবে।

/এফএ/

সম্পর্কিত

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পী,  উদযাপনের কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

নদীর দখল রোধে আবার পিলার

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

বাউবি’র স্থগিত বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা  শুক্রবার শুরু

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানে তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সবুজের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সবুজের বিরুদ্ধে চার্জশিট

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

১৪ নভেম্বর থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু

সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য হচ্ছে দিবাযত্ন কেন্দ্র

সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য হচ্ছে দিবাযত্ন কেন্দ্র

সর্বশেষ

ঢাবির হলের বারান্দায় ফাটল: পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন

ঢাবির হলের বারান্দায় ফাটল: পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন

জয় তো দূরে থাক, গোলই পাচ্ছে না বার্সেলোনা

জয় তো দূরে থাক, গোলই পাচ্ছে না বার্সেলোনা

মোদি-কমলার বৈঠক, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসীদের সমর্থন বন্ধ করা উচিত: কমলা

মোদি-কমলার বৈঠক, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসীদের সমর্থন বন্ধ করা উচিত: কমলা

তালেবান সরকারের আসল ক্ষমতা কার হাতে?

তালেবান সরকারের আসল ক্ষমতা কার হাতে?

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

© 2021 Bangla Tribune