X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

এবার ভয়ংকর আগস্টের অপেক্ষা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:৪৭

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে বাংলাদেশেও দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে কয়েকগুণ। করোনার ঊর্ধ্বগতিতে চলতি মাসের শুরুতে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে লকডাউন শিথিল করা হয়। এই সুযোগে ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হয়েছে মানুষ। প্রাইভেট কার, মাইক্রো, বাসে, লঞ্চে কিংবা ফেরিতে গাদাগাদি করে গ্রামে গিয়েছেন ঈদ উদযাপন করতে। আবার ঈদের পরের কয়েকদিনে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই একভাবে ঢাকায় ফিরেছে মানুষ।

কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল ঘোষণার পরেই কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলছেন, শিথিলতার এ নির্দেশনায় তাদের ‘সায়’ ছিল না। তারা বলছেন, সরকারের শিথিল বিধিনিষেধের এ ঘোষণা তাদের পরামর্শের উল্টো চিত্র। এ সময় এ ধরনের শিথিলতা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ারই শামিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিল, স্বাস্থ্য অধিদফতর যেখানে বারবার ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছে, সেখানে সংক্রমণের ‘পিক টাইম’-এ এ ধরনের ঘোষণা আমাদের আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।

সে আশঙ্কাকে সত্যি করে দেশে ঈদের পর থেকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর একের পর এক রেকর্ড দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এতে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা তালিকায় বিশ্বে এখন যেসব দেশে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই আগামীকাল রবিবার (১ আগস্ট) থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঈদের পরও যেসব পোশাক কর্মী গ্রামে অবস্থান করছিলেন এমন খবরে তারা এরই মধ্যে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা পিকআপ, ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও রিকশায় বাড়ি থেকে রওয়া হয়েছেন। যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে ছুটছেন গন্তব্যের পথে। আবার অনেকে গাড়ি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছেন দীর্ঘক্ষণ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকলেও এসব শ্রমিকের কাছে চাকরি রক্ষা করাটা বেশি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

বিধিনিষেধে ফেরিতে যাত্রী পারাপার নিষিদ্ধ হলেও যাত্রীরা তা মানছেন না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান। গতকাল শুক্রবার ( ৩০ জুলাই) তিনি বলেন, বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে মাত্র ছয়টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত যানবাহন পারাপারের সময় যাত্রীরা ফেরিতে ওঠে পড়েন। চেষ্টা করেও তাদের ফেরি থেকে নামানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চলমান কঠোর লকডাউন আরও বাড়াতে চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জানিয়েছে, তারা চান লকডাউন ‘কন্টিনিউ’ হোক। যদিও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সুপারিশ এটা কনটিনিউ করার। কেবল অতি জরুরি সেবা ছাড়া যেভাবেই হোক সবকিছু সীমিত রাখতে হবে। এগুলো মনিটর করতে হবে। সব খুলে দিলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে, অবশ্যই বেড়ে যাবে।

গত ২৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কনভেনশন সেন্টারে ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, যেভাবে রোগী বাড়ছে, হাসপাতালে বেড সংকট দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বেড রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে। দেশে ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামে যাওয়া আসার কারণে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় গুণ। এছাড়া শহরের হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর ৭৫ শতাংশই গ্রাম থেকে আসা।

‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে হাসপাতালের বেড সংকট দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ বেড রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে, বলেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ঈদের সময়ের শিথিল লকডাউনের প্রভাব দেখা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর। এখন যে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এবং মৃত্যু সংখ্যা দেখা যাচ্ছে সেটা আগের শিথিল লকডাউনের প্রভাব। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির জন্য মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার সঙ্গে সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকেও দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রধানতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার আলফা ধরন। এই ধরনকে অতি সংক্রামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতে করোনার ডেলটা ধরন শনাক্তের পর তা দ্রুত দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে। 

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্যোগের প্রধান মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারক পিকক বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম ও সবল ভ্যারিয়েন্ট। চীনের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তির নাকে করোনার মূল ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি ভাইরাস থাকে।

দ্রুত সংক্রামন এই ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় থাকাকালে লকডাউন শিথিল হওয়ায় আগস্ট মাস পর্যন্ত অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কঠোর লকডাউন যদি সঠিকভাবে পালন হয়, তাহলে হয়তো একটা ভালো সুফল আগস্টের শেষের দিকে পাবো।

বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোর একটা ক্যাপাসিটি রয়েছে, এত রোগী যদি সংক্রমিত হতে থাকে তাহলে সে ক্যাপাসিটি শেষ হয়ে যাবে। হাসপাতালের সক্ষমতা রয়েছে ১৫ হাজার বেডের মতো, কিন্তু আর কত বাড়ানো যাবে, কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি রোগী হতে বেশি সময় লাগবে না। যে হারে সংক্রমণ চলছে।

দেশে রোগ এবং রোগের বিস্তার নিয়ে গবেষণা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনের আশংকা, আগস্ট মাসের মাঝামাঝি নাগাদ পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে।

এখন যে ‘খারাপ পরিস্থিতিটা’ হচ্ছে তা দুই সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি আর মৃত্যু যেটা হচ্ছে সেটা তিন সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি উল্লেখ করে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ঈদের আগে যে এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় লকডাউন শিথিল ছিল তার প্রভাব দেখা যাবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে।

তিনি বলেন, সংক্রমণ ও শনাক্তে এখন যে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার কারণ জুলাইয়ের শুরুর দিকে লকডাউনের পরিস্থিতির সময় আমরা খুব একটা উন্নতি করতে পারিনি। আর শিথিল লকডাউনের দুই সপ্তাহ পূর্ণ হবে আগামী সপ্তাহে। তার প্রভাব দেখা যাবে আগস্টের প্রথম নাগাদ, তারও এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে মৃত্যু পরিস্থিতি। তারপর হয়তো কমতে পারে, যদি কঠোর বিধিনিষেধ গ্রামাঞ্চলে কার্যকর করা যায়, তাহলে হয়তো দুই থেকে তিন সপ্তাহ নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতেও পারে, বলেন তিনি।

‘মার্চে সংক্রমণ বেড়েছে, জুনে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, জুলাইয়ে কঠিন হয়েছে আর আগস্টে আরও জটিল, আরও গুরুতর পরিস্থিতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা এই বিশেষজ্ঞের। তার মতে, হাসপাতালে এখনই জায়গা নেই, একইসঙ্গে হাসপাতালের সক্ষমতাতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যন্ত্রপাতি বাড়ালেও বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থাতে স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী-নার্সিং শিক্ষার্থী-মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের ভলান্টিয়ার করা যায়। তারা জনস্বাস্থ্যবিদ, বিশেষজ্ঞ অ্যানিস্থেসিওলজিস্টদের পরামর্শ মেনে কাজ করবেন। তাদের যদি কাজে লাগানো না হয়, তাহলে সামাল দেওয়া যাবে না। এগুলো না করা গেলে আত্মরক্ষাও হবে না।

‘যে সময়ের লকডাউনই ধরি না কেন, লকডাউনতো হয় নাই’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর প্রভাব দেখতেই পাচ্ছি। সংক্রমণ বাড়ছে-মৃত্যুও হচ্ছেই।

তিনি বলেন, এটা যে কোনটার প্রভাব কোনটা-সেটার খোঁজ করার দরকার নাই। গত ২৪ ঘণ্টায় ( ২৯ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই) দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সংক্রমণ এবং সংক্রমণের উচ্চহার অব্যাহত রয়েছে।

মানুষকে ঈদের ভেতরে ছেড়ে দেওয়ার খেসারত দিতে হবে সামনে মন্তব্য করে আবু জামিল ফয়সাল বলেন, আর এটা যে কতদিন পর্যন্ত দিতে হবে কেউ জানে না।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ আলোচনায় আজ (বাংলাদেশ সময়) ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভাষণে অগ্রাধিকার পাওয়া অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অসমতা দূরীকরণ।

প্রধানমন্ত্রী গত ২১ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএ জেনারেল ডিবেটের প্রথম দিন অংশ নেন। এ অধিবেশন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনা তার বাবা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগের বছরগুলোর মতই বাংলা ভাষায় তার ভাষণ দেবেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ’র অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এটি হবে বাংলা ভাষায় দেওয়া তার ১৮তম ভাষণ।

শেখ হাসিনা সরাসরি ইউএনজিএ অধিবেশনে অংশগ্রহণে হেলসিঙ্কি হয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছান। কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতির কারণে ইউএনজিএ’র ৭৫তম অধিবেশনে তিনি সশরীরে যোগ দিতে পারেননি।

ইউএনজিএ’র ৭৬তম অধিবেশন গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। ওই দিন সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মালদ্বীপের আব্দুল্লাহ শহিদ শপথ গ্রহণ করেন এবং তিনি বর্তমান অধিবেশন উদ্বোধন করেন।

বৈশ্বিক মহামারির কারণে সাধারণ পরিষদের হলে অনুমোদিত প্রতিনিধির সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে এবং জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সরাসরি উপস্থিত থাকার পরিবর্তে আগে ধারণ করা বিবৃতি প্রদানে উৎসাহিত করা হয়।

শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান জাতিসংঘের প্রধান নীতি নির্ধারণ অঙ্গ ইউএনজিএ অধিবেশনে সশরীরে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খবর বাসস

/ইউএস/

সম্পর্কিত

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৯

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে তিনি নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান পাক, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইবরাহিম মোহামেদ সোলিহ ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেল লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন।

পরে দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি নগুয়েন জুয়ানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম সোলিহ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। গত মার্চে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফর করেছিলেন।

এছাড়া জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। 

/এসএসজেড/ইউএস/

সম্পর্কিত

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এদিনে দেড়শ’ থানায় রক্ষীবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সমাজবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে সরকার দেশের দেড়শ’টিরও বেশি থানার সদর দফতরে অবিলম্বে পর্যাপ্ত রক্ষীবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সরকারি সূত্রে এ কথা জানানো হয়।

খবরে প্রকাশ, দেশের নিরীহ নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পর সরকার উপরোক্ত নির্দেশনা দেয়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠকে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন। সূত্র জানায়, ভিন্ন থানা সদর দফতরে রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করা ছাড়াও সব জেলা ও মহাসড়ক দফতরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোয় পুলিশের তৎপরতায় সাহায্য করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট নির্দেশও দেওয়া হয়।

দৈনিক বাংলা, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

প্রত্যাগত বাঙালিদের পুনর্বাসন

পাকিস্তানে আটকে থাকা যেসব বাঙালি ফিরে আসছেন তাদের পুনর্বাসনে সম্ভাব্য সব করা হবে। ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী সোহরাব হোসেন জাতীয় সংসদে আশ্বাস দেন, পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা বাঙালিদের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা বাঙালিদের জন্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সদস্যরা তা জানতে চান। প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সরকারি বাঙালি কর্মচারীদের এক মাসের অগ্রিম বেতন ও এক মাসের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব কর্মচারী পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় বা অনুরূপ সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য দেশের সব স্বায়ত্তশাসিত ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুটির শিল্প করপোরেশন বিল পাস

দেশে একটি কুটির শিল্প সংস্থা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এদিন জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ কুটির শিল্প করপোরেশন ১৯৭৩ বিল বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী জানান, আগামী পরিকল্পনায় ১২১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। গ্রামাঞ্চলের মানোন্নয়নের জন্য কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিন লক্ষ ৩০ হাজার ৪৩৬টি কুটির শিল্প দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৭৮ ব্যক্তি এই শিল্পের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত। এই শিল্পকে উৎসাহিত ও সম্প্রসারিত করে মৃতপ্রায় কুটির শিল্পগুলোর ব্যবহার এবং পরিবারভুক্ত কুটির শিল্প লোকদের মধ্যে আধুনিক কৌশল ছড়িয়ে দেওয়া হবে এই সংস্থার কাজ।

দ্য অবজারভার, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩

কুটির শিল্প বাঁচাতে যা বলেছিলেন জয়নুল আবেদীন

বাংলাদেশের কুটির শিল্প লুপ্তপ্রায়। এ শিল্পকে বাঁচাতে ব্যাপক সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব নয়, কুটির শিল্পে যারা সত্যিকার অর্থে জড়িত তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন শিল্পী এ মন্তব্য করেন। কুটির শিল্প রক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে অভিনন্দিত করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। গ্রামে গ্রামে এই উদ্যোগ বেকারত্ব কমাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৬

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভোক্তা প্রতারণা বন্ধ করার কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে কমিশনের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির উপ প্রেস সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন ব্রিফিংকালে জানান, সাম্প্রতিককালে ই-কমার্সে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি পত্রপত্রিকা ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হাওয়ায় রাষ্ট্রপতি দেশে দ্রুত প্রসারণশীল ই-কমার্স ব্যবস্থায় ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু সংখ্যক লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক হতে হবে।

এ খাতে প্রতারণাসহ ভোক্তার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কঠোর হস্তে দমনের জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সকল পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ভোক্তারা যেন যৌক্তিক মূল্যে ও প্রত্যাশিত সময়ে মানসম্মত পণ্য পায় তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

সাক্ষাৎকালে কমিশন চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়সহ কমিশনের চলমান কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে আরও অংশ নেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং কমিশনের সদস্য জি এম সালেহ উদ্দিন, ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস।

/এমপি/

সম্পর্কিত

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪১

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি ‘স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’-এ ভার্চুয়ালি যোগদান করে তিনি একইসঙ্গে একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।’

৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ)’র উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, খাদ্য নিরাপত্তা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তঃসংযুক্ত।

পূর্ব-রেকর্ডকৃত বক্তৃতায় ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

শেখ হাসিনা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা অর্জনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ইভেন্টগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।

তিনি এ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মহামারি পরবর্তী পুরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় প্রণীত কাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি অন্তর্ভুক্ত হাতিয়ার হিসেবে সমন্বিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়া-জনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য  মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’ সূত্র: বাসস।

/এমপি/

সম্পর্কিত

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

নেদারল্যান্ডের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

১৯৭৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আবারও নতুন পদক্ষেপ নিতে হয়

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

সর্বশেষ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আটজনকে বদলি

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আটজনকে বদলি

বিএড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২৪ অক্টোবর থেকে

বিএড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২৪ অক্টোবর থেকে

যাত্রীবাহী গাড়িতে গুলি: ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যাত্রীবাহী গাড়িতে গুলি: ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

বাস-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৩ জনের

বাস-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৩ জনের

© 2021 Bangla Tribune