X
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

বঙ্গবন্ধু নেই বঙ্গবন্ধু আছেন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ১৫:৪৯

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। শুরু হয় ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চক্রান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা, সংবিধানের চার মূলনীতিতে আঘাত হানাও শুরু হয় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর। ইতিহাসকে উল্টো পথে হাঁটানোর এই চক্রান্ত চলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। খুনি চক্র তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঘৃণ্য এ কাজগুলো করে।

এসব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নির্মূল করতে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগকে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘ ২১টি বছর। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ আগের সরকারের ইনডেমনিটি (কালো আইন) অধ্যাদেশ বাতিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। তখন থেকে আবারও  প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ হতে শুরু হয় সারা দেশে। নতুন প্রজন্ম জানতে ও বুঝতে শুরু করে তাদের স্বাধীন বাংলাদেশের পেছনে জাতির পিতার সুদীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। দীর্ঘ দিন ধরে পাঠ্যবইয়ে ভুল ইতিহাস জানা থেকে বেরিয়ে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তারা জানতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর কথা। মিথ্যা ইতিহাসের মৃত্যুযাত্রার মধ্য দিয়ে পাট্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তি ঘটে বঙ্গবন্ধুর।

এসবের মধ্য দিয়েই ২১ বছর পর মূলত বঙ্গবন্ধু ফিরে পুনরায় আসেন দেশের মানুষের কাছে। সশরীরে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি না থাকলেও মনেপ্রাণে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করতে শুরু করে বাঙালি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে  দেশের গুনীজনেরা বাংলা ট্রিবিউনকে এমনই প্রতিক্রিয়া জানান। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু নাই, কিন্তু আছেন। বঙ্গবন্ধু আবারও ফিরে এসেছেন আমাদের মাঝে। দীর্ঘ ২১ বছর পর, ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু। তবে এই প্রত্যাবর্তন ঘটেছে অশরীরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তারই কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ঘৃণ্য কালো আইন ইনডেমনিটি বাতিল করে বিচারের পথে বাধা দূর করেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন দ্বিতীয়বার।’ তবে তিনি আক্ষেপের সূরে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ আজকে অনেকটাই হিসাব মিলছে না। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে যে আদর্শ ছিল, সেই আদর্শ থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ বিচ্যুত হয়েছে।’ তার দাবি,  ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সখ্য গড়ে উঠেছে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।’

সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই জায়গায় বঙ্গবন্ধু কখনও ছাড় দেননি, কিন্তু সেখানে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে চিন্তা চেতনা ছিল, বিশেষ করে বাকশাল নামে যে কর্মসূচি তিনি দিয়েছিলেন, তা যদি সমাপ্ত করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশে একটা বিপ্লব হয়ে যেতে পারতো।’ বঙ্গবন্ধুর বাকশাল নীতির সমর্থন করে ইতিহাসের এই অধ্যাপক বলেন, ‘বাকশাল একটা অসম্পূর্ণ বিপ্লবের নাম। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক খাতে অনেক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, সারা বিশ্বে  নজর কেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি আমরা দেখতে পাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে পরিণতি সৃষ্টি করা হয়েছে, এইটা কিন্তু আমরা কখনও পূরণ করতে পারবো না। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ২০২১ সালে এসে পৌঁছেছি আমরা।’ তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার আগে পাঠ্যবইতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ভুল ইতিহাস শিখে আসছিল। ইতিহাসের অনেক জায়গায় টুঙ্গিপাড়ার খোকা থাকতেন অবহেলিত। ১৯৯৬ সাল থেকে ইতিহাসে তিনি যথাযথ মর্যাদা পেতে শুরু করেন।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আজকে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যে, ‘আমি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, বাংলাদেশ অর্জন করেছি। আমি সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখি, সোনার বাংলা অর্জন করবো।’ আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কর্ম প্রচেষ্টার ভেতরে জাতির জনকের উপস্থিতি ঘটেছে।’

তিনি বলেন,‘কিন্তু আমরা বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুকে চর্চা করে যতটুকু করতে পেরেছি, তাতেই বঙ্গবন্ধু আছেন বাংলাদেশে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক উপাচার্য  বলেন,  ‘অন্তত সাংবিধানিক যে বিষয়গুলো তিনি বলে গেছেন, আমাদেরকে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ— এই চারটি মূলনীতি ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তা পারলে বঙ্গবন্ধু থাকবেন আমাদের মাঝে।’

আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই, তার ভাষণগুলো থেকে নির্দেশনা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের

আরেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধু আছেন। তার দাবি, একটা মানুষের কাজের পরিধি যখন জনগণের মধ্যে চলে যায়, তখন সেটা কিন্তু থেকে যায়, যেভাবেই হোক। সেই হিসেবে বঙ্গবন্ধু আছেন।’

তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের আগেই বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে কতগুলো কাঠামো আমরা পেয়েছি। সেই কাঠামোগুলো এখনও চলমান। আর এর মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি আমরা টের পাই।’

ড. ইমতিয়াজ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দাঁড় করানো কাঠামোর মধ্যে অন্যতম হলো পররাষ্ট্রনীতি। এতে আমরা দেখি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই কাঠামোটা বঙ্গবন্ধুর তৈরি করা।’

অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, ‘আররকটি কাঠামো হলো— ল্যান্ড বাউন্ডারি এবং মেরিটাইম বাউন্ডারির দিকে শেখ মুজিব যথেষ্টই নজর রেখেছিলেন এবং কাজ করেছিলেন। সেই ল্যান্ড বাউন্ডারি এবং মেরিটাইম বাউন্ডারি সবকিছু এখন কিন্তু বলতে গেলে পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। সেই কাঠামোটা কিন্তু তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সময়। এখানেও বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘বর্তমানে কৃষিতে যে বিপ্লব এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা সেটাও কিন্তু বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছেন পঁচাত্তরের আগেই। তেয়াত্তর এবং চুয়াত্তরে আমেরিকার কারণে আমরা দুই-দুইবার একটা সংকটে পড়েছিলাম। যেহেতু আমেরিকা তখন খাদ্য বন্ধ করে দিয়েছিল। সেইটা বঙ্গবন্ধুর একটি বিরাট শিক্ষা ছিল। কিন্তু মাথানত করেননি মুজিব। বরং কৃষিতে কীভাবে বিপ্লব হতে পারে এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে কীভাবে খাদ্য বাড়ানো যায়, সেটার ওপর নজর দিয়েছেন। সেটা কাজে দিয়েছে এখন। এখানেও বঙ্গবন্ধু কিন্তু আছেন।’

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এভাবে যদি আমরা একেকটা খাত দেখি, তাহলে বলা যায় যে, অনেক খাতের মধ্যে এখনও তিনি বেঁচে আছেন। যার জন্য আমি বললাম যে, বঙ্গবন্ধু নেই একথা সঠিক বলা হচ্ছে না। কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অনেক কাটামোতে তিনি আছেন, থাকবেন।’

তিনি বলেন, ‘এমনকি যে চারটা সাংবিধানিক মূলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ এগুলোতে চিরঞ্জীব মুজিব।’

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

মুজিবপিডিয়া প্রকাশে এগিয়ে এলো সিটি ব্যাংক

মুজিবপিডিয়া প্রকাশে এগিয়ে এলো সিটি ব্যাংক

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

আইডি নাম্বার পাচ্ছে সব সিটি ও পৌর সড়ক

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:০০

দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোর জন্য আলাদা আইডি নাম্বার থাকলেও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে তা নেই। এ জন্য সড়কের উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতায় পড়তে হয় সংশ্লিষ্টদের। অনেক সময় একই রাস্তা ভিন্ন ভিন্ন নামে টেন্ডার করে বিল উঠিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার একই রাস্তা ভিন্ন ভিন্ন সংস্থাও দাবি করে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের। এ জন্য সড়কগুলোর আইডি নাম্বার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, পর্যায়ক্রমে সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রত্যেকটি রাস্তার কোড নাম্বার দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে গ্রামীণ রাস্তাগুলোর নামকরণের জন্য দুই ধরনের ডাটাবেজ করা হয়। আর তা হচ্ছে—রোড স্ট্রাকচার ও ব্রিজ এবং জিআইএস ডাটাবেজ। এই গ্রামীণ রাস্তাগুলোকে উপজেলা রোড, ইউনিয়ন রোড, ভিলেজ টাইপ ‘এ’ ও ভিলেজ টাইপ ‘বি’ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়। বর্তমানে ডাটাবেজে রাস্তার সব তথ্য রয়েছে। ডাটাবেজের কোন রাস্তা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে যুক্ত হলে ডাটাবেজ হতে তা বাদ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলোর কোনও আইডি নম্বর নেই। রাস্তাগুলো স্থানীয় এলাকা বা ব্যক্তির নামে রয়েছে। অনেক রাস্তার কোনও নামও নেই। এ অবস্থায় অনেক সময় রাস্তাগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় প্রবেশ করলেও এলজিইডি তাদের বলে দাবি করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একই রাস্তার ভিন্ন ভিন্ন নাম উল্লেখ করে কয়েক বার টেন্ডার করে অর্থ তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে।

এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে বিভাগের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও সিলেট সিটি করপোরেশনে চলমান আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় সড়কের আইডি নাম্বার প্রদানের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

অবশিষ্ট ৯টি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সড়কগুলোর আইডি নম্বর প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে সভার আয়োজন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ৮টি বিভাগের ৮টি পৌরসভার সড়ক আইডি নম্বর প্রদানের বিষয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ করবে। উক্ত প্রকল্পের ফলাফলের ভিত্তিতে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির পৌরসভার সড়কগুলোর পর্যায়ক্রমে আইডি নম্বর দেওয়া হবে।

আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক আবুল কাশেম জানান,  প্রকল্পটির দুটি কম্পোনেন্ট রয়েছে। একটি কম্পোনেন্টে দুর্যোগ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। আরেকটি কম্পোনেন্ট জিআইএস নির্ভর জরুরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে কাজ করার জন্য একজন পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এলজিইডি কর্তৃক সব গ্রামীণ সড়কের আইডি নম্বর দেওয়া হয়েছে। ওই আইডির মাধ্যমে তারা সড়কগুলোর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলো বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকার নামে পরিচিত। এলজিইডির মতো পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তাগুলোর আইডি নম্বর দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডি’র আওতাধীন রাস্তাগুলোর আইডি নম্বর থাকলেও আমাদের সিটি করপোরেশনের রাস্তার আইডি নম্বর নেই। সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তাগুলোর আইডি নম্বর দেওয়া দরকার। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের একটি কম্পোনেন্টের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের রাস্তার আইডি নম্বর প্রদানের বিষয়ে একটি প্রাথমিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন–২ শাখার যুগ্ম-সচিব শায়লা ফারজানা বলেন, ‘পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তাগুলোর আইডি নম্বর দিতে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত সাপোর্ট নেই।’ কাজটি এলজিইডির মাধ্যমে করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা প্রতিটি সড়কের জন্য আলাদা কোড নাম্বার চালুর কাজ করছি। এ জন্য কয়েকটি সভাও করা হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

 

/এমআর/আইএ/

সম্পর্কিত

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৫ অক্টোবরের ঘটনা।)

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে তার দেশের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং এজন্য চুক্তির প্রয়োজন হয় না। বঙ্গবন্ধু বলেন, এখানে আসতে পেরে তিনি খুব খুশি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আলোচনা করেও তিনি খুশি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব আমাদের আন্তরিক ভালোবাসা থেকে উৎসারিত। যার জন্য চুক্তির প্রয়োজন হয় না।

জাপান সফর ও অধিকতর জাপানের সাহায্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু বলেন, অর্থই সব নয়। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভালোবাসা, প্রীতি ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা পারস্পরিক সমঝোতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, তার জাপান সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ। জাপানের জনসাধারণ তার প্রতি যে ভালোবাসা ও অকৃত্রিম স্নেহ প্রদর্শন করেছে, তাতে তিনি অভিভূত হয়েছেন। তিনি বলেন, এই ভালোবাসা তার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে জানানো হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নকারীকে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করতে চায়। বাংলাদেশের ব্যাপারে চীনের মনোভাব ও জাতিসংঘভুক্তির প্রশ্নে চীনের নীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেন, তিনি স্বীকৃতি ভিক্ষা চান না। এরমধ্যে শতাধিক দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশের আসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন জাতিসংঘের।

কুয়ালালামপুরে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সহ বহু বিষয়ে কথা বলেন। একজন মুখপাত্র বলেন, উভয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। উভয় দেশের বন্ধুত্ব আরও জোরদার হবে বলে মুখপাত্র আশা করেন।

বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান এবং বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ ও পররাষ্ট্র সচিব এনায়েত করিম।

সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানানোর প্রস্তাব গ্রহণকারীর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম ও প্রথম উদ্যোগী দেশ।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ অক্টোবর ১৯৭৩

মার্কোস-বঙ্গবন্ধু বৈঠক

জাপানে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ম্যানিলা বিমানবন্দরে স্বল্পকাল অবস্থান করেন। এ সময় তিনি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ তাদের কাছে কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতা চেয়েছে। তারা দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এরমধ্যে ফিলিপাইন ১২ হাজার টন ধানের বীজ দিয়েছে বাংলাদেশকে।

ম্যানিলা বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাগত জানান। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে হেলিকপ্টারে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিরাট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা বলে অভিহিত করেন। মার্কোস বলেন, বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন একটি নতুন জাতির মুক্তিদাতা। প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য তার বিরাট শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তার সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে তিনি অভিনন্দন জানান।

 

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

আইডি নাম্বার পাচ্ছে সব সিটি ও পৌর সড়ক

আইডি নাম্বার পাচ্ছে সব সিটি ও পৌর সড়ক

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

একশ’ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ায় মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মান বজায় রেখে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

প্রস্তুত জেলেরা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৪

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ সোমবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। আজ সোমবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পুনরায় ইলিশ শিকার শুরু হচ্ছে। নদীতে নামার জন্য প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সেরে ফেলেছেন জেলেরা। সরব হয়ে উঠেছে জেলে পল্লীগুলো। ইলিশ অধ্যুষিত জেলাগুলোয় খোঁজ নিয়ে এমন খবর জানা গেছে। 

সূত্র জানিয়েছে, প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে চলতি অক্টোবরের ৪ তারিখ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ ছিল। ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য আহরণও এ সময় নিষিদ্ধ ছিল। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে এ সময় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

ইলিশ গবেষকেরা বলছেন, ইলিশ মূলত সারা বছরই ডিম ছাড়ে। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই দুই মাসের চারটি অমাবস্যা-পূর্ণিমায় ডিম ছাড়ে বেশি। বিশেষ করে অক্টোবরের মানে আশ্বিনের দুটি অমাবস্যা-পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময় ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষা করা, যাতে তারা নিরাপদে নদীতে এসে ডিম ছাড়তে পারে। এই ডিম রক্ষা করতে পারলে তা থেকে জাটকার জন্ম হবে। সেই জাটকা রক্ষা করা গেলে দেশে বড় আকারের ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আবার জাটকা ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। দুই ধাপের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, ওজন-আকারও বেড়েছে ইলিশের।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে ৪ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯২টি মোবাইল কোর্ট ও ১৫ হাজার ৩৮৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবং ৮৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়। বাংলাদেশে ২০০৩-০৪ সাল থেকেই জাটকা রক্ষার কর্মসূচি শুরু করা হয়। তখন থেকেই ধীরে ধীরে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছিলো। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

মৎস্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী গত এক দশকে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশে গত কয়েক বছর নেওয়া পদক্ষেপগুলো আগামীতেও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং দামও কম থাকবে।

মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের হিসাবে, বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে আহরিত হচ্ছে। বাংলাদেশের পরই ইলিশের উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। ৫ বছর আগে দেশটিতে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলিশ উৎপাদিত হতো।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৎস্য খাতকে কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। মৎস্যসম্পদ রক্ষার মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, বেকারত্ব দূর হচ্ছে, উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে এবং দেশের রফতানি আয় বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন ইলিশ মাছ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, এর নিরাপদ আশ্রয় ও নিরাপদ প্রজননের জন্য সরকার নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মা ইলিশ রক্ষা, ইলিশের অভয়াশ্রম সৃষ্টি করা, ইলিশ গবেষণা, জাটকা সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ভাবে আমরা কাজ করছি। ইলিশের পরিসর বাড়াতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সকল প্রকার আগ্রহ রয়েছে, পরিকল্পনা রয়েছে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

চাঁদপুরের সব ইলিশ পদ্মার নয়

চাঁদপুরের সব ইলিশ পদ্মার নয়

নদীতে ইলিশের ঘনত্ব বেড়েছে

নদীতে ইলিশের ঘনত্ব বেড়েছে

ইলিশ সব গেলো কোথায়?

ইলিশ সব গেলো কোথায়?

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৬

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, আসুন আমরা একসঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যেন বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, অতীতে যা করেছে ভবিষ্যতে তা যেন না করতে পারে।

রবিবার  (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাব জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকাবাসী সংগঠন আয়োজিত জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. এ .কে. আব্দুল মোমেন বলেন, কুমিল্লায় যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে কিন্তু কোনও জবানবন্দি দেয়নি। অথচ কোনও কোনও গোষ্ঠী অহেতুক এটা নিয়ে কথা বলছে। ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, না আমি কলা খাই না’- এমন একটা অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র ৭৫’র পর থেকে শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পায়তারা করা হয়েছিল। তখন কিন্তু আমাদের ১ কোটি উদ্বাস্তু তৈরি হয়েছিল। পাক হানাদাররা যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তখন কিন্তু জাতিসংঘ তাদের সনদ অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। হয়তো কিছু মুরুব্বি দেশের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তার পরেও আমি স্বীকার করি, সন্ত্রাস দমনে, জঙ্গি দমনে, বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অনন্য ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। এটা স্বীকার করতেই হবে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য অ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি), আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দি, ঢাকাবাসীর সভাপতি মো. শুকুর সালেকসহ আরও অনেকে।

/জেডএ/এমআর/

সম্পর্কিত

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে নাম্বার ওয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে নাম্বার ওয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

বাংলাদেশের কপ-২৬ এজেন্ডাকে সমর্থনে ইইউ’র প্রতি ঢাকার আহ্বান

সার্বিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

সার্বিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ৮৬০ বাংলাদেশিকে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সংখ্যালঘু’ নয়, ‘সাক্ষী সুরক্ষা’ আইনের বিষয়ে ভেবেছিলেন আইনমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৩

‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা’ নয়, মূলত সাক্ষী সুরক্ষা আইনের বিষয়ে ভেবে এ নিয়ে জবাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রবিবার (২৪ অক্টোবর) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এরই মাঝে এক সাংবাদিক বন্ধু সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। এসময় পাশ থেকেও কথার শব্দ আসছিল। ফলে মন্ত্রী সংখ্যালঘু শব্দটি শুনতে পাননি।

‘তিনি (মন্ত্রী) আসলে সাক্ষী সুরক্ষা আইনের বিষয়ে উত্তর দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী তার জবাবে সংখ্যালঘু শব্দটি একবারের জন্যেও ব্যবহার করেননি।’

তাই এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
 
এর আগে সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ পাসের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘ত্বরিত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা জানান। তবে মন্ত্রী ভেবেছেন তাকে সাক্ষী সুরক্ষা আইনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। তাই তিনি আইনটির নাম উল্লেখ না করে উত্তর দেওয়ায় এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে সঠিক তথ্য প্রচার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে আইন মন্ত্রণালয়।

/বিআই/এমআর/

সম্পর্কিত

সাম্প্রদায়িক হামলা-মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে: আইনমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক হামলা-মামলার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে: আইনমন্ত্রী

শেখ রাসেলের মতো আর কোনও মৃত্যু দেখতে চাই না: আইনমন্ত্রী

শেখ রাসেলের মতো আর কোনও মৃত্যু দেখতে চাই না: আইনমন্ত্রী

ইসি গঠনে সার্চ কমিটির বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

ইসি গঠনে সার্চ কমিটির বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

‘শর্ত ছাড়া দণ্ড স্থগিত চাইলে খালেদা জিয়াকে জেলে গিয়ে আবেদন করতে হবে’ 

‘শর্ত ছাড়া দণ্ড স্থগিত চাইলে খালেদা জিয়াকে জেলে গিয়ে আবেদন করতে হবে’ 

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

অর্থের চেয়ে প্রীতি-সদিচ্ছার গুরুত্ব বেশি: বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

সর্বাধিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

মুজিবপিডিয়া প্রকাশে এগিয়ে এলো সিটি ব্যাংক

মুজিবপিডিয়া প্রকাশে এগিয়ে এলো সিটি ব্যাংক

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর জাপান

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর জাপান

বঙ্গবন্ধুর সফরে জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বঙ্গবন্ধুর সফরে জাপানের বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বাঙালিদের শুভেচ্ছা নিয়ে জাপানে রওয়ানা দেন বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধু আরবদের সম্ভাব্য সব সাহায্য দিতে আবারও প্রতিশ্রুতি দিলেন

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় জোটের কাজ কী হবে

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় জোটের কাজ কী হবে

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট আত্মপ্রকাশের দিন ঘোষণা

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট আত্মপ্রকাশের দিন ঘোষণা

সর্বশেষ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনা উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনা উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ডিও লেটার

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ডিও লেটার

আইডি নাম্বার পাচ্ছে সব সিটি ও পৌর সড়ক

আইডি নাম্বার পাচ্ছে সব সিটি ও পৌর সড়ক

নতুন বিপদে ব্রিটিশ তরুণীরা, ফোটানো হচ্ছে সুচ

নতুন বিপদে ব্রিটিশ তরুণীরা, ফোটানো হচ্ছে সুচ

নীলফামারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

নীলফামারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

© 2021 Bangla Tribune