X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

নতুন কারিকুলামে যত পরিবর্তন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৯

শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা এবং শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হচ্ছে।  ২০২২ সালে শিক্ষাক্রম পাইলটিংয়ের পর ২০২৩ সাল থেকে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে ২০২৫ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে। পরিমার্জিত কারিকুলামের প্রস্তাবিত খসড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপনের পর দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।  এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরিমার্জিত নতুন কারিকুলামে পরীক্ষা পদ্ধতির চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর শিখনকালীন মূল্যায়ন বা ধারাবাহিক মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  প্রাথমিকের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা রাখা হয়নি।  শুধু তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্তই নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষার পাশাপাশি ধারাবাহিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে বড় অংশে।  আবশ্যিক বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়গুলোর পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। 

শিক্ষামন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়া হবে। দেওয়া হবে সনদ।  নবম ও দশম শ্রেণির বই আলাদা করা হয়েছে। দশম শ্রেণির পাঠ্যবই পড়িয়েই এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।  অর্থাৎ এসএসসির ও সমমান পরীক্ষার আগে আর কোনও পাবলিক পরীক্ষা থাকছে না।  উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বই আলাদা করা হয়েছে, পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে আলাদাভাবে। দুই পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সমন্বয় করে ফলাফল দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

কারিকুলাম সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন এই কারিকুলামে দক্ষতা অর্জনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বলা আছে। শিখন সময় প্রাথমিকে কতটা, মাধ্যমিকে কতটা হবে তা-ও বলা আছে। প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম-২০১২ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২০; সেগুলো সম্পর্কেও এই কারিকুলামে বলা আছে।

কারিকুলাম পাইলটিং

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর প্রাথমিকে প্রথম শ্রেণি এবং মাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণির পাইলটিং করা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১০০টি করে প্রতিষ্ঠানে পাইলটিং করা হবে। মাধ্যমিকের মধ্যে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ছয় মাস পাইলটিংয়ের পর আমরা বিশ্লেষণ করতে পারবো। ২০২৩ সালে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবো। ২০২৩ সালে প্রাথমিকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে এটি চালু হবে। ২০২৪ সালে প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণি। ২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণি ও মাধ্যমিকের দশম শ্রেণিতে বাস্তবায়ন করবো।

পিইসি, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে হবে না

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সনদও দেওয়া হবে। প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনীকে পাবলিক পরীক্ষা বলছি না। প্রাথমিক শেষে একটা এবং অষ্টম শ্রেণি শেষে একটা সনদ পাবেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি ছাড়া সব শ্রেণিতে শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা হবে। শুধু তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনও ধরনের পরীক্ষা থাকবে না। পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতেও আমরা সনদ দেওয়া হবে। সনদ দেওয়ার জন্য তো পাবলিক পরীক্ষার দরকার নেই।’

নবম দশমে বিভাগ বিভাজন নয়, দশমের কারিকুলামেই এসএসসি পরীক্ষা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নবম ও দশম শ্রেণি আলাদা হয়ে যাবে। আলাদা করে পরীক্ষা হবে। শুধু দশম শ্রেণিতে যা পড়ানো হবে, তার ওপরে ভিত্তি করে এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নবম ও দশম শ্রেণির বই আলাদা হয়ে যাবে। কোনও বিভাগ বিভাজন  থাকবে না। সব শিক্ষার্থীই ১০টি বিষয় পড়বে।

পরীক্ষা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন সমন্বিত করে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল

দীপু মনি বলেন,  একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আবশ্যিক বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা হবে ৭০ শতাংশ। পাবলিক পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ পরীক্ষা দিতে হবে। প্রায়োগিক বা ঐচ্ছিক বিষয় শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ।  একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আলাদা বই থাকবে, আলাদাভাবে পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশের দুই পরীক্ষা ও মূল্যায়নে এইচএসসির চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হবে।

প্রাথমিকে ধারাবাহিক মূল্যায়ন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে শতভাগ। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। আর সামষ্টিক মূল্যায়ন অর্থাৎ পরীক্ষা হবে ৪০ শতাংশ। ৬০ শতাংশই ধারাবাহিক মূল্যায়ন। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প কলা (বিদ্যমান চারু ও কারুকলা) এগুলো শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।

মাধ্যমিকের পরীক্ষা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন

মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন (বছর শেষে পরীক্ষা) ৪০ শতাংশ। বাকি বিষয় জীবন ও জীবিকা, তথ্যপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি (বিদ্যমান বিষয়-চারু ও কারু কলা) শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। আর নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৫০ শতাংশ। নবম ও দশম শ্রেণির বাকি বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ।

একাদশ দ্বাদশের পরীক্ষা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আবশ্যিক বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা হবে ৭০ শতাংশ। পাবলিক পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ পরীক্ষা দিতে হবে। প্রায়োগিক বা ঐচ্ছিক বিষয় শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। এছাড়া নৈর্বাচনিক, বিশেষায়িত কাঠামো, প্রকল্পভিত্তিক, ধারণা অনুযায়ী সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক ও ব্যবহারিক ও অন্যান্য উপায়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।  সেখানে নানা অ্যাসাইনমেন্ট হয়, প্রকল্প হয়, সেগুলোর মাধ্যমে হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর বছর শেষে একটি করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরিতে এখন তা-ই হয়। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুটো পরীক্ষার সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।

শ্রেণিতেই পাঠদান শেষ, শিক্ষা হবে আনন্দময়

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুরো শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক, আনন্দময় পড়াশোনা হবে। বিষয়বস্তু ও পাঠ্যপুস্তকের বোঝা ও চাপ কমানো হবে। মুখস্থ নির্ভরতার বিষয়টি যেন না থাকে, এর বদলে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমভিত্তিক শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই যেন অধিকাংশ পাঠদান সম্পন্ন করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারে। পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা বা অন্যান্য বিষয়ের সুযোগ কমে গেছে, এটা যেন আর না হয়। জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

/এসএমএ/এমআর/

সম্পর্কিত

৪৭১ জন ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের সুপারিশ

৪৭১ জন ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের সুপারিশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু আগামী সপ্তাহে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু আগামী সপ্তাহে

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ

স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা!

স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা!

মাদকবিরোধী অভিযানের রাজধানীতে ৭৮ জন গ্রেফতার

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৪

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে একদিনে আরও ৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে আজ  শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আজ সকালে ডিএমপি মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়েরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত এই ৭৮ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৯৫ গ্রাম ৬৫০ পুরিয়া হেরোইন, ২৬ কেজি ৮০ গ্রাম ১৩০ পুরিয়া গাঁজা, ৭৫ বোতল ফেন্সিডিল, ১০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন ও ১৫ হাজার ৫৬১ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের আগাম জামিনের আবেদন

কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের আগাম জামিনের আবেদন

দুবলার চর থেকে খুলনা পর্যন্ত কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ: হাইকোর্ট

দুবলার চর থেকে খুলনা পর্যন্ত কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ: হাইকোর্ট

নারী ও শিশু পাচার চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার

নারী ও শিশু পাচার চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০০

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু। এখনও দিনে ২৫০-৩০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। অনেকে বাসায় কাতরাচ্ছেন। ত্যক্ত-বিরক্ত নাগরিকরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ আবহাওয়া। চলতি মাসে আবহাওয়া অনুকূলে ফিরবে। তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে।

অন্যদিকে কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, যেভাবে কাজ চলছে তাতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এজন্য আরও জনবল দিয়ে এলাকাভিত্তিক কাজ করা দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে ৩ জন, মে’তে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন, জুলাইয়ে দুই হাজার ২৮৬ জন, আগস্টে সাত হাজার ৬৯৮ জন এবং সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই হিসাবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের ধারা একই গতিতে আছে। সব মিলিয়ে চলতি বছর ১৪ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব বলছে গত কয়েক মাস ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঊর্ধ্বমুখী। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। ১৫ সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান বলছে- আক্রান্তদের মধ্যে শূন্য থেকে একবছর বয়সী আছে দুই শতাংশ। শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৪ দশমিক ২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ২ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, গত ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘দেশে এডিস মশা বিস্তারের অন্যতম কারণ আবহাওয়া। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ডেঙ্গু বেশি ছড়িয়েছে।’

চলতি মাসেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। গত রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও এ মাসেই নিয়ন্ত্রণে আসবে। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। সতর্কতা অবলম্বন করায় এবার সংখ্যাটা কমেছে।’

উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের মশককর্মীরা কাজ করছেন। নগরবাসীকে সচেতন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি ডিএনসিসিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে দুই মেয়র ও মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও আশা দেখছেন না নগরবাসী। তারা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন তেমন কিছু করছে না। বরং নাগরিকদের দায়ী করে জেল-জরিমানা করছে। এভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকার ঘরে ঘরে ডেঙ্গু। মহামারি আকার নিয়েছে যেন। আমাদের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন মারা গেছে শুনেছি। একটি ওয়ার্ডেই যদি এতজন মারা যায়, বাকিগুলোর অবস্থা বুঝে নিন।’

পুরান ঢাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, ‘এলাকায় মশার বেশ উৎপাত। আমরা করপোরেশনকে সচেতন করতে কয়েকটি প্রতীকী প্রোগ্রাম করেছি। কোনও তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না।’

কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গুর সঠিক তথ্য পাচ্ছি না। এভাবে কাজ করলে ডেঙ্গু যাবে না। সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও সিটি করপোরেশনকে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে পরিদর্শনে যেতে হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডকে আলাদা ব্লকে ভাগ করে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর সিটিতে দুই লাখ হোল্ডিং রয়েছে। এজন্য ১২০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে সুপারিশ করেছি। একজনের দায়িত্বে দিনে ১২০টি বাড়ি পড়বে। সপ্তাহে প্রতিটি বাড়ি একবার ভিজিট করা হবে। ভিজিটরের দায়িত্ব হবে ডেঙ্গুর লার্ভা থাকলে সেই খবর সিটি করপোরেশনে পৌঁছানো। এভাবে কাজ করলে বাসাবাড়িতে ডেঙ্গু থাকবে না। কলকাতায় এই মডেল ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনকে দুভাগে ভাগ করতে হবে। প্রথমত, এডিস ও দ্বিতীয়ত কিউল্যাক্স। এ ছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন আলাদা শাখাও স্থাপন করতে পারে।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

আজ সিনোফার্মের ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ দেওয়া হয়েছে

আজ সিনোফার্মের ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ দেওয়া হয়েছে

অপরাধ দমনে ডিএমপি’র শ্রেষ্ঠ যারা

অপরাধ দমনে ডিএমপি’র শ্রেষ্ঠ যারা

অস্থায়ী গেট কিপারদের চাকরি রাজস্বকরণের দাবি

অস্থায়ী গেট কিপারদের চাকরি রাজস্বকরণের দাবি

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:৪২

ছিনতাইকারীদের পাকড়াও করতে গিয়ে বুড়িগঙ্গায় ছুরিকাঘাতে আহত এক দিনমজুরের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন।

নিহত দিনমজুরের নাম আলমগীর হোসেন (৪০)। আহতের নাম আনোয়ার হোসেন (৩৮)। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ছুরিকাঘাতের শিকার হন আলমগীর। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই আব্দুল খান ওই দিনমজুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয় সংশ্লিষ্ট থানাকে অবিহিত করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের পালং উপজেলার ছোট বিনদপুর গ্রামের আবুল হাসেম বেপারীর ছেলে আলমগীর। জিনজিরার বাসিন্দা আলমগীর তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

নিহতের ভাই শাহআলম জানিয়েছেন, তার ভাই লেবারের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মিটফোর্ড হাসপাতাল সংলগ্ন বালুরঘাট এলাকায় ট্রাক থেকে ভাঙারি মালামাল নামানোর কাজ করছিলেন।

সে সময়ে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে তাদের কাছে বলছিলেন ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে টাকা পয়সা মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন আলমগীর ও তার সহকর্মী আনোয়ার তাদের পিছু নেয়।

ছিনতাইকারীরা নৌকায় চড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সে সময়ে তারাও আরেকটি নৌকায় করে পিছু নেন। পরে নদীর মাঝামাঝি এলাকায় ছিনতাইকারীরা তাদের দুই জনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অধীনস্থ বরিশুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক এসএম আব্দুস সোবহান বলেন, এ ঘটনায় একজন মারা গেছেন, একজন মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর সেখানে আমাদের এক অফিসার কে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢামেক মর্গে রয়েছে। মামলার বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

/এআইবি/আরটি/এমপি/

সম্পর্কিত

কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের আগাম জামিনের আবেদন

কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের আগাম জামিনের আবেদন

দুবলার চর থেকে খুলনা পর্যন্ত কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ: হাইকোর্ট

দুবলার চর থেকে খুলনা পর্যন্ত কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অবৈধ: হাইকোর্ট

নারী ও শিশু পাচার চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার

নারী ও শিশু পাচার চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতো তারা

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতো তারা

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন নিয়ে ‘নতুন সংকট’

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৫

৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাব বসাতে অনুমোদন দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।  বিমানবন্দরের উত্তর পাশের বহুতল কারপার্কিং ভবনের ছাদে ল্যাব স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে,  খোলা ছাদ ল্যাব  স্থাপনের জন্য উপযুক্ত নয়। অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মানসম্মত কী না তা যাচাই করতে  সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠাতে হবে। ফলে কবে নাগাদ বিমানবন্দরে ল্যাব চালু হবে তার নির্ধারিত সময় জানাতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বিতর্কিতরাও

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বেবিচক প্রধান কার্যালয় ৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেবিচক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে এ সভায় ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ল্যাব স্থাপনের সময়, জনবলসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে চায় বেবিচক। বর্তমানে বহুতল পার্কিং ভবনটি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া রয়েছে। ল্যাবগুলোকে ছাদ ব্যবহারের জন্য দৈনিক ৮০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। এছাড়া বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি খরচগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে।

সূত্র জানায়,  ৭টি প্রতিষ্ঠানের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মানসম্মত কী না তা যাচাই করতে  সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠাতে হবে। আরব আমিরাত সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আপত্তি না জানালে কাজ দেওয়া হবে। কোনও প্রতিষ্ঠানের এসওপি নিয়ে আপত্তি আসলে তাদের কাজ দেওয়া হবে না।

এদিকে বৈঠকে  খোলা ছাদে ল্যাব স্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। খোলা ছাদে তাপমাত্রা, বাতাস  ল্যাবের পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটাবে। প্রতিষ্ঠানগুলো বেবিচকের কাছে, কার পার্কিং ভবনের ২য় তলায় ল্যাব স্থাপনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিতে অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সুব্রত সাহা বলেন, খোলা জায়গা বলে প্রতিবন্ধকতা আছে।  তাঁবু বা ভ্রাম্যমাণ শেড বসিয়ে সম্ভব হবে না। সেখানে এমনিতেই অনেক বাতাস, ঝড় বৃষ্টি হলে আরও সমস্যা।  পার্কিংয়ের ভবনের দ্বিতীয় তলায় হলে ল্যাব স্থাপন করা যাবে।

তবে বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ল্যাব স্থাপনের জন্য ছাদেই জায়গা দেওয়া হবে তা আগে থেকেই জানানো হয়েছে। যারা কাজ করবে তাদের নিজেদের খরচেই ল্যাব স্থাপনের পরিবেশ তৈরি করে নিতে হবে।  কোনও প্রতিষ্ঠান চাইলে এখনও সরে যেতে পারে। কার্যাদেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময় ল্যাব স্থাপন না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার জন্য ৭টি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন পেয়েছে। এখন তারা বিমানবন্দর এবং যে দেশে যাত্রী যাবে তাদের স্ট্যান্ডার্ড মিট করে কীনা তা যাচাই করা হবে। ইউএইতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন বিমানবন্দরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যাব স্থাপন করবে, তাদের এসওপি ইউএই'র সম্মতি লাগবে। এজন্য ৭টি প্রতিষ্ঠানকে শুক্রবার ১২ টার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জমা দিতে বলা হয়েছে। এগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো হবে, তার আপত্তি না জানালে কাজের অনুমতি দেওয়া হবে।

পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন,  একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকমের ফি নির্ধারণ করেছে। আমরা তাদের প্রস্তাবিত ফি এর মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন এর মাঝামাঝি একটা ফি নির্ধারণ করতে বলেছি। 

আবেদনের উল্লেখিত সময়ে ল্যাব স্থাপনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান বেবিচক চেয়ারম্যান। 

গত বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ৭টি প্রতিষ্ঠানকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাব বসাতে অনুমোদন দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।স্টেমজ হেলথ কেয়ার (বিডি) লিমিটেড ঢাকা, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক- এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এই সাতটি নির্বাচিত ল্যাবকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর-এর আলোকে ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয় স্থান বরাদ্দসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেবিচক  চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।  একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করার নির্দেশ জারি করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে  অনুরোধ করা হয়।

জানা গেছে, এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্টেমজ হেলথ কেয়ার তিন দিনের মধ্যে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে বলে জানিয়েছে। তারা নমুনা পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করেছে দুই হাজার টাকা। সিএসবিএফ হেলথ সেন্টারের ল্যাব স্থাপনে সময় লাগবে পাঁচ দিন, নমুনা পরীক্ষার খরচ নেবে এক হাজার ৮৫০ টাকা। 

এছাড়া, এএমজেড হাসপাতাল পাঁচ দিনে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে, নমুনা পরীক্ষায় খরচ নেবে এক হাজার ৮০০ টাকা। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চার দিনে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে বলে জানিয়েছে। তারা নমুনা পরীক্ষার খরচ দেখিয়েছে ২ হাজার টাকা। জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব স্থাপনে ছয় দিন চেয়েছে এবং খরচ চেয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। পাঁচ দিনে ল্যাব স্থাপন করতে পারবে বলে জানিয়েছে গুলশান ক্লিনিক, যাদের নমুনা পরীক্ষার খরচ এক হাজার ৭৫০ টাকা আর ডিএমএফআর ল্যাব স্থাপন করতে সময় চেয়েছে চার দিন, যেখানে নমুনা পরীক্ষার খরচ দুই হাজার ৩০০ টাকা।

/এমআর/

সম্পর্কিত

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বিতর্কিতরাও

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বিতর্কিতরাও

বিমানবন্দরে অবৈধ ভিওআইপি কলিং কার্ডসহ যাত্রী আটক

বিমানবন্দরে অবৈধ ভিওআইপি কলিং কার্ডসহ যাত্রী আটক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব কেন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব কেন

পাচার হচ্ছিল সাড়ে ১২ কোটি টাকা সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা

পাচার হচ্ছিল সাড়ে ১২ কোটি টাকা সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা

আজ সিনোফার্মের ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ দেওয়া হয়েছে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫০

দেশে এখন পর্যন্ত টিকা এসেছে ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ ডোজ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ৮৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৫ ডোজ টিকা মজুত আছে। এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৮ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ৯৫৭ জন।

এগুলো দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, আজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৪ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৮৭৯ জনকে।

পাশাপাশি আজ ফাইজারের প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ কাউকে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া সিনোফার্মের টিকা আজ প্রথম ডোজ নিয়েছেন দুই লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৯ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ  ৫৯ হাজার ৬১৮ জন। 

মডার্নার টিকা আজ প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ৩১২ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৭২৫ জনকে।

এছাড়া এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার ৩৭৯ জন।

 

/এসও/এফএএন/

সম্পর্কিত

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

ডেঙ্গুতে আরও ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি 

ডেঙ্গুতে আরও ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি 

অবৈধ পদোন্নতির হিড়িক স্বাস্থ্য অধিদফতরে

অবৈধ পদোন্নতির হিড়িক স্বাস্থ্য অধিদফতরে

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৪২ লাখ মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের আওতায় ১ কোটি ৪২ লাখ মানুষ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

৪৭১ জন ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের সুপারিশ

৪৭১ জন ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের সুপারিশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু আগামী সপ্তাহে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট শুরু আগামী সপ্তাহে

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ

স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা!

স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা!

কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে ঢাবির হল  খুলে দেওয়ার সুপারিশ 

কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে ঢাবির হল খুলে দেওয়ার সুপারিশ 

শিক্ষক দিবসে ঐচ্ছিক ছুটির দাবি

শিক্ষক দিবসে ঐচ্ছিক ছুটির দাবি

এইচএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়লো

এইচএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়লো

গেটের বাইরে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভিড় কমাতে নেই উদ্যোগ 

গেটের বাইরে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভিড় কমাতে নেই উদ্যোগ 

স্কুলের সামনের হকার উচ্ছেদ করবে কে?

স্কুলের সামনের হকার উচ্ছেদ করবে কে?

২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন শেষ করতে হবে 

২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন শেষ করতে হবে 

সর্বশেষ

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু

মাদকবিরোধী অভিযানের রাজধানীতে ৭৮ জন গ্রেফতার

মাদকবিরোধী অভিযানের রাজধানীতে ৭৮ জন গ্রেফতার

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

যা আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে

৩ দেশের চুক্তি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: চীন

৩ দেশের চুক্তি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: চীন

© 2021 Bangla Tribune