X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

শাপলা বেচে জীবন চলে ৩০০ পরিবারের

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫৯

গাজীপুরের কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি বিল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বিল ও পারুলী নদী থেকে শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করে আশপাশের অন্তত ৩০০ পরিবার। সাদা শাপলা স্থানীয় বাজারগুলোতে খাদ্য উপকরণ হিসেবে বিক্রি হয়। আর বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় পাঠানো হয় লাল শাপলা। 

দুই উপজেলার নলগাঁও, প্রহলাদপুর, ডুমনী ও লক্ষ্মীপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির পাশে বাঁশের আড়ায় কাঁচা শাপলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। গ্রামের রাস্তায় ও বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়েছে ছোট ছোট করে কাটা শাপলা। আর প্রক্রিয়াজাত শুকনো শাপলাগুলো বড় ব্যাগে ভর্তি করে বসতঘরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের গৃহিণী অঞ্জনা দাস বলেন, চার হাজার টাকায় একটি নৌকা আছে তার। শাপলা তুলে বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন। দুই ছেলের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের অন্য খরচও চলে শাপলা বিক্রির টাকায়।

বিলের জায়গা মালিকানা থাকলেও শাপলা তুলে বাধা নেই

একই গ্রামের দিপালী রানী জানান, নৌকা দিয়ে নদী থেকে শাপলা তুলে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করেন। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে শাপলা বিক্রি হয়। তবে বৃষ্টিতে ভিজে বা পচে গেলে দাম কমে যায়।

গৃহিণী আশানন্দ রানী বলেন, নৌকা না থাকলে বিল থেকে শাপলা উঠাতে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকতে হয়। এতে চুলকানিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। একটা করে বাছাই করে শাপলা তুলতে হয়। বৃষ্টি হলে পচে যায়। গত বছর সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে ১৬০ কেজি শাপলা বিক্রি করেছিলেন তিনি।

রীনা রানী বলেন, তার স্বামী ও ছেলে ভোর থেকে বিলে শাপলা উঠানো শুরু করে। একটা নৌকা পর্যায়ক্রমে একাধিক পরিবার ব্যবহার করেন। শুকনো শাপলা সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ১০ বছর ধরে শাপলা বিক্রি করে আসছেন তারা। 

শাপলা তুলে বিক্রিযোগ্য করতে কমপক্ষে পাঁচদিন সময় লাগে

তিনি আরও বলেন, এলাকায় উঁচু মাঠ-ঘাট না থাকায় রাস্তায় রোদে শুকাতে হয়। অনেক সময় বাঁশ বেঁধে তার ওপর আঁটি ঝুলিয়ে রোদে শুকাতে দেন। একজন নারী প্রতি মৌসুমে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। ময়লা ফুলের দাম কম। সক্ষমতা অনুযায়ী পাঁচ থেকে ৩০ মন পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেন একেক জন। বিলের জায়গা মালিকানা থাকলেও শাপলা উঠাতে বাধা দেয় না কেউ।

নলগাঁও গ্রামের গৃহিণী শেফালী রানী বলেন, কমপক্ষে চার মাস পর্যন্ত শাপলা সংগ্রহ করতে পারেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে শাপলা কেটে রোদে শুকাতে বিক্রিযোগ্য করতে কমপক্ষে পাঁচদিন সময় লাগে। বিলে পানি থাকে যতদিন শাপলা পাওয়া যায় ততদিন।

প্রহলাদপুরের কৃষক লিটন দাস বলেন, গত ১০ বছর ধরে এসব এলাকায় লাল শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একজন ব্যক্তি অনেকগুলো শাপলা সংগ্রহ করতে পারেন। সেগুলো শুকানোর পর কমপক্ষে পাঁচ কেজি হয়। সাধারণত পুরুষরা শাপলা সংগ্রহ করেন। শুকানোর কাজ করেন নারীরা। মাস দেড়েক পর পর ঢাকা থেকে লোকজন এসে ট্রাকযোগে শুকনো শাপলা নিয়ে যাবে। বর্তমানে শাপলা ফুলের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এলাকার প্রায় সবাই সংগ্রহের কাজ করে

তোলার পর বৃষ্টিতে ভিজে বা পচে গেলে শাপলার দাম কমে যায়

চতর বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদির (৫৬) জানান, এক কেজির আঁটি সাদা শাপলা প্রতি মুড়ি (আঁটি) সাত টাকায় কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করেন। একদিন পর পর স্থানীয়রা শাপলা তুলে বাজারে নিয়ে আসেন।

ক্ষেত্র মোহন মন্ডল (৯০) জানান, তিনিই প্রথম শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন। শুকনো শাপলা পাইকাররা ওষুধ বানানোর জন্য বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যায়। তিনি এক মণ আট হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাপলা বিক্রি করেন সংগ্রহকারীরা

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মুয়ীদুল হাসান বলেন, পারুলী নদী ও পাশের বিলগুলোতে বর্ষাকালে প্রচুর শাপলা ফোটে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে এলাকার শত শত পরিবার শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ঔষধি উপাদান হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে শাপলার। 

তিনি আরও বলেন, সংগ্রহকারীরা ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাপলা বিক্রি করেন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শাপলা এখন ফুলের বিপরীতে জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

শরীয়তপুরে আউশের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

শরীয়তপুরে আউশের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

‘আগামী সংসদ নির্বাচনও এই সরকারের অধীনে’

‘আগামী সংসদ নির্বাচনও এই সরকারের অধীনে’

জাজিরা-মাওয়া ফেরিঘাট দ্রুত চালুর দাবিতে গণঅনশন

জাজিরা-মাওয়া ফেরিঘাট দ্রুত চালুর দাবিতে গণঅনশন

১৮ কেজির কাতল ২৫ হাজারে বিক্রি 

১৮ কেজির কাতল ২৫ হাজারে বিক্রি 

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

কক্সবাজার শহর ও পৌরসভার অলিগলির সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে চলছে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। এসব সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। ফলে শহরের পথচারী ও বাসিন্দাদের কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে কাদাপানি। খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্বাস্থ্যকর শহর নামে খ্যাত জেলায় এখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু বর্ষা মৌসুম নয়, শুষ্ক মৌসুমেও শহরের প্রধান সড়ক, উপ-সড়কসহ অলিগলি সব রাস্তার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়কের সবখানে ভাঙা, গর্ত ও হাঁটু ও কাদাপানি। এসব পানি সড়কে জমে একাকার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসীসহ পর্যটকরা।
 
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) পৌর শহরের প্রধান সড়ক উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করে ৩-৪ ফুট গভীর গর্ত করেছে। পাঁচ কিলোমিটারের পুরোনো সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের বাইরের ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে ঢুকতে পারে না। সড়কের বেহাল দশার কারণে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। 

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না

শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম নির্মাণাধীন সড়কের তিন ফুট গভীর গর্তে পড়ে পা ভেঙে তিন মাস ধরে শয্যাশায়ী। তিনি বলেন, সড়কের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে শহরবাসী অপরাধ করেছে, তাই যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে। সড়কের কোথাও পা রাখার জায়গা নেই। এমন উন্নয়নকাজ কোথাও দেখিনি। আগে দেখেছি, সড়কের একপাশ খালি রেখে অন্যপাশে উন্নয়ন কাজ করা হতো। এখন দেখছি, পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

একই কথা বলেছেন শহরের বাজারঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী পারভেজ আলম। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে শহরের প্রধান সড়কের সবকটি এলাকা খুঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু খোঁড়ার পর মেরামত করা হয় না। যতটুকু কাজ করবে, ততটুক না খুঁড়ে পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলায় বেকায়দায় পড়েছে মানুষ। পুরো সড়কে দেখা দিয়েছে অচল অবস্থা। 

এদিকে, গত দেড় বছর আগে থেকে পৌরসভা সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। কিন্তু কাজই শেষ হচ্ছে না তাদের। একসঙ্গে শহরের ২৯টি সড়ক-উপ-সড়ক ভেঙে ড্রেনের কাজ শুরু করেছে তারা। দেড় বছরেও সব ড্রেনের কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে প্রত্যেক সড়ক-উপ-সড়ক অকেজো হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল অনুপযোগী।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম বলেন, পৌরসভা দেড় বছর আগে ২৯টি সড়ক, উপ-সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২৯টি সড়কের ৩২ কিলোমিটার কাজ এখনও শেষ হয়নি। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের মিউনিসিপ্যাল গভর্নরের সার্ভিসেস প্রকল্প (এমডিএসপি) ও ইউজিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কাজের ব্যয় প্রকল্প ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পৌর শহরে বড় ধরনের কোনও বাজেট কিংবা প্রকল্প নিয়ে সড়কের উন্নয়নকাজ করা হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর ধরে পৌরবাসী সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। এখন পুরো শহরের সব সড়কের পরিকল্পিত উন্নয়নকাজ চলছে। সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে বর্তমানে কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে পৌরবাসীর। এই কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 

খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে ঘটছে দুর্ঘটনা

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, শহরের প্রধান সড়কটি অনেক পুরোনো। সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। তাই শহরের প্রধান সড়কের জিরো পয়েন্ট হলিডে মোড় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রশস্ত করে ফোরলেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সড়কের উন্নয়র প্রকল্প হচ্ছে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। 

তিনি বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে সাময়িক চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু কাজ সম্পন্ন হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি পর্যটন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

গত ৯ জুন কক্সবাজারের হোটেল শৈবালে এক কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী কক্সবাজার শহরের সড়কের দুরবস্থা দেখে বলেছেন, পর্যটন শহরের রাস্তার এমন অবস্থা ভাবা যায় না। বিমান বন্দর থেকে যাওয়ার পথে সড়কের এমন করুণ দশা দেশের কোথাও নেই। এমন সড়ক দেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যেন বিরূপ ধারণা না হয়, সে জন্য দ্রুত সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। 

/এএম/

সম্পর্কিত

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩২

দিনাজপুরের হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহি হরিদাশ আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার রেলগেট বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। সৈয়দপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

স্থানীয় ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ছেলে অসুস্থ থাকায় আজ সন্ধ্যায় কাজ শেষে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে একই মোটরসাইকেলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও সিপাহি হরিদাশ ওঠেন। পথে ফুলবাড়ি রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাকি দুইজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, পাথরবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ট্রাকচালক রাজিউর রহমানকে আটক করা হয়েছে। ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা রিয়াজুল হক জোদ্দারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তাকে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার লালমনিহাট সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রিয়াজুল হক জোদ্দারকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ।

আটক রিয়াজুল হক জোদ্দার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চর কড়াইবরিশাল এলাকার মৃত ফুলগনির ছেলে। তিনি চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুলাই নৌকায় তুলে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নারী বাদী মামলা রুজু করলে দীর্ঘদিন এজাহারভুক্ত আসামি পলাতক থাকার পর গতকাল গ্রেফতার করা হয়।

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটে আটকে পড়ার ১১ ঘণ্টা পর বাকপ্রতিবন্ধী এসএসসি পরীক্ষার্থী শারমিনকে উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। এছাড়া ঘটনা পৃথকভাবে তদন্তের জন্য জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে শোকজের জবাব এবং অন্যদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বাকপ্রতিবন্ধী ওই ছাত্রীকে এই স্কুলে ভর্তি করারই কথা না। ছাত্রী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কোনও কথা বলতে পারেনি। তবে তার বাবা বলছেন, মেয়েকে পেয়েই তারা খুশি। তাদের কোনও অভিযোগ নেই। তারপরও জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক সুমন খান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে তদন্ত করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তে কারও গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শাহরাস্তির টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস ছুটির পর সবাই বাড়ি গেলেও বাথরুমের আটকা পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন। পরে রাত ১০টার দিকে ১১ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

/এফআর/

সম্পর্কিত

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৮

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষক, বেসরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী এবং শ্রমজীবী কাউকে বাদ দেয়নি এহসান গ্রুপ। এমনকি বিধবা ও গৃহিণীর টাকাও আত্মসাৎ করেছে তারা। পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে সুদবিহীন উচ্চ মুনাফার কথা বলে শুধুমাত্র যশোরের ১৬ হাজার মানুষকে নিঃস্ব করেছে। আত্মসাৎ করেছে ৩২২ কোটি টাকা। 

এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান এসব টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ১০ ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি। এই ১০ গ্রাহকের কাছ থেকে এহসান গ্রুপ হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন অসহায়ত্বের কথা। ফেরত চেয়েছেন টাকা। শাস্তি চেয়েছেন রাগীব আহসান ও তার সহযোগীদের।

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহকদের বলা হয়েছিল, ব্যাংকে টাকা রাখা হারাম, এহসান গ্রুপে রাখা হালাল। বেশির ভাগ গ্রাহককে মাসিক মুনাফা এবং অল্প কয়েকজনকে মেয়াদ পূর্তিতে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সংস্থার মাঠকর্মী ও পরিচালকরা।

কিন্তু টাকা গ্রহণের পরপরই সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা গা ঢাকা দেয়। অফিস বন্ধ করে দেয়। টাকা না পেয়ে ১০ গ্রাহকের মধ্যে একজন মারা গেছেন; শয্যাশায়ী হয়েছেন দুই জন। অভাব-অনটনের মধ্যে দিন পার করছেন অনেকে।

গচ্ছিত টাকা ফেরতের জন্য কয়েকজন মামলা করেছেন। অন্যরা একই পথে হাঁটছেন। এই ১০ জনের মধ্যে বেশি টাকা গচ্ছিত রাখেন যশোর শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়া এলাকার কাজী মফিজুল হক (৭৮)। তিনি পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, অবসর গ্রহণের পর হজ করি। হজ শেষে দেশে ফেরার পর শহরের দড়াটানা জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাই। সেখানকার ইমাম-মুয়াজ্জিন আমাকে জানান, ব্যাংকে টাকা রাখা হারাম। পরকালে জবাবদিহি করা লাগবে। তারা আমাকে বোঝাতে সক্ষম হন, এহসান গ্রুপে টাকা রাখলে হালাল হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ পাওয়া যাবে। তাই অবসরকালীন যে টাকা পাই, সেখান থেকে চার দফায় ৪০ লাখ দিই। প্রথমে ২০ লাখ, এরপর পাঁচ লাখ করে দুবার এবং শেষে ১০ লাখ টাকা দিই। মাসিক লাখে ১৫০০ টাকা মুনাফা ৪-৫ মাস পাই। এরপর লভ্যাংশ দূরে থাক মূল টাকাও পাইনি। টাকা উদ্ধারে আদালতে মামলা করেছি।

চোপদারপাড়া এলাকার বিধবা জুলেখা বেগম (৬৮)। তিনি গচ্ছিত রাখেন প্রায় ১৬ লাখ টাকা। টাকা জমা দেওয়ার কিছু রশিদ হারিয়ে গেছে। তবে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার রশিদ আছে তার কাছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় জামে মসজিদের হুজুর ইমদাদের মাধ্যমে এহসান গ্রুপের নাম শুনি। ইমদাদের মাধ্যমেই এহসান গ্রুপে টাকা রাখি। এর আগে সমিতির নিয়মে ৫০-১০০ টাকার কিস্তি চালাতাম। সেখান থেকে একবার ১৮ হাজার টাকা উত্তোলন করি। এভাবে বিশ্বাস হয়। আমি ছাড়াও এলাকার অনেক মানুষ এহসান গ্রুপে টাকা জমা রাখতো। আলেম-ওলামার প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কারণে আমরা অনেক কষ্টের টাকা সেখানে জমা রেখেছি। বছর খানেক লভ্যাংশ পেয়েছি। লভ্যাংশ এবং মূল টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করি।

শহরের রামকৃষ্ণ রোড এলাকার বাসিন্দা মুস্তফা দ্বীন মোহাম্মদ (৭৮)। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এহসান গ্রুপের অন্যতম পরিচালক মুফতি আতাউল্লাহ তাকে এই খাতে টাকা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। মুস্তফা ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা রাখেন। কিন্তু এক টাকাও ফেরত পাননি। আতাউল্লাহর বাবা ছিলেন মুস্তফার শিক্ষাগুরু। মুফতি আতাউল্লাহর চাচাতো ভাই মাওলানা জোনায়েদ ও আইয়ুবও তার পরিচিত এবং টাকা রাখতে তারা প্ররোচনা দেন। ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এতদিন মামলা করেননি। কিন্তু সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের গ্রেফতার দেখে তিনিও মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের বাড়ি বিক্রি করে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন রহিমা বেগম (৭০)। একেবারে নিঃস্ব রহিমা এখন শহরতলীর ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা এলাকার ভাঙা ঘরে বসবাস করেন। ইতোমধ্যে দুই দফা স্ট্রোক করেছেন। সারাদিন শুয়েই থাকেন। এক ছেলে দিনমজুর; প্রায়ই কাজ থাকে না তার। রহিমা মাঝেমধ্যে ভিক্ষাও করেন। তিনি তার কষ্টের টাকাগুলো ফেরত চেয়েছেন।

যশোর শহরের শংকরপুরে ভিটাবাড়ির আট শতক জমি বিক্রির ১২ লাখ টাকা এবং নিজের জমানো এক লাখ ২৫ হাজার টাকাসহ ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এহসান গ্রুপে রাখেন আফসার উদ্দিন (৬৭)। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে টাকা জমা রাখার পর ছয় মাস মুনাফা পান। এরপর গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করে প্রতিষ্ঠান। তিনি টাকা আদায়ে মামলা করার জন্য একজনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন।

সবেদা বেগম (৫৫) নামে এক নারী জাকির হোসেন নামে এক হুজুরের প্ররোচনায় এহসান গ্রুপে জমা দেন ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার বাড়ি শহরের রাজা বরদাকান্ত রোড এলাকায়। ২০১৪ সালে যখন জানতে পারেন টাকা-পয়সা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, তখন জাকির তাকে টাকা ফেরত দেবেন মর্মে জমা রশিদ ও বই নিয়ে যান। কিন্তু টাকা ফেরত দেননি। তখন থেকে জাকির লাপাত্তা। টাকা আদায়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের ইসমাইল কলোনি এলাকার বাসিন্দা লেবু বেগম (৬০) জমা দেন আট লাখ টাকা। তিনি বলেন, মাঠকর্মী জাকির ও তার স্ত্রীর প্ররোচনায় এহসানে আট লাখ টাকা জমা রাখি। যে মাসে টাকা রেখেছিলাম, পরের মাসেই তারা লাপাত্তা। এক টাকাও ফেরত পাইনি। নিজের ও ছেলের নামে টাকাগুলো জমা করেছি। আমি টাকা ফেরত চাই।

চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার আম্বিয়া বেগম (৬৮) জমা দেন ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আমার কষ্টের টাকা এহসানে রেখেছি। আমি টাকাগুলো ফেরত চাই। 

শহরের পুরাতন কসবা বিমান বন্দর রোড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামসুর রহমান (৫২) তার জমি বিক্রির ১৫ লাখ টাকা এহসানে রাখেন। তিনি বলেন, বিমান বন্দর রোডের কুন্দিয়ানে জামে মসজিদের ইমাম, শহরের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের প্ররোচনায় প্রথমে ১০ লাখ এবং পরে আরও পাঁচ লাখ গচ্ছিত রাখি। আমাকে বলা হয়, লাখে প্রতিমাসে ১২০০ টাকা মুনাফা দেওয়া হবে। ৮-৯ মাস নিয়মিত লভ্যাংশ পেয়েছি। এরপর আর পাইনি। জমি বিক্রির টাকা প্রথমে সোনালী ব্যাংকে রেখেছিলাম। ওই ইমাম কীভাবে জানতে পারেন আমার কাছে টাকা আছে। ইসলামের নানা ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে এহসানে গচ্ছিত রাখতে বাধ্য করেন। আমার সবশেষ। এ ঘটনায় আমি মামলা করবো।

সদরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মাসুদুর রহমান বাবু (৪৭) রাখেন আট লাখ টাকা। তিনি বলেন, দুই কিস্তিতে আট লাখ টাকা দিই। আমাকে বলা হয়েছিল, লাখে প্রতিমাসে ১৩০০ টাকা মুনাফা দেওয়া হবে। মুফতি আতাউল্লাহ আমাকে এই হিসাবে টাকা জমা দিতে প্ররোচিত করেন। তার অপর সঙ্গী মুফতি মো. ইউনুসের সঙ্গে পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা পাত্তা দেয়নি। এখন টাকা আদায়ের জন্য আমি মামলা করবো।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে আফসার উদ্দিন ও রহিমা বেগম বর্তমানে শয্যাশায়ী। এ ছাড়া টাকার চিন্তায় স্ট্রোক করে মারা যান আম্বিয়া বেগমের স্বামী।

ধর্মের দোহাই দিয়ে মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের একটি অংশ এহসান গ্রুপে বিনিয়োগের জন্য গ্রাহক তৈরি করতেন। যশোরের প্রায় ১৬ হাজার গ্রাহকের ৩২২ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় তারা। হাজার হাজার গ্রাহক এহসান গ্রুপের প্রতারণায় জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

/এএম/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

গাড়ি থেকে নামিয়ে যুবককে পিটিয়ে আহত, থানায় মামলা

গাড়ি থেকে নামিয়ে যুবককে পিটিয়ে আহত, থানায় মামলা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

শরীয়তপুরে আউশের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

শরীয়তপুরে আউশের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

‘আগামী সংসদ নির্বাচনও এই সরকারের অধীনে’

‘আগামী সংসদ নির্বাচনও এই সরকারের অধীনে’

জাজিরা-মাওয়া ফেরিঘাট দ্রুত চালুর দাবিতে গণঅনশন

জাজিরা-মাওয়া ফেরিঘাট দ্রুত চালুর দাবিতে গণঅনশন

১৮ কেজির কাতল ২৫ হাজারে বিক্রি 

১৮ কেজির কাতল ২৫ হাজারে বিক্রি 

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজারের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

ছাত্রলীগের পদ পেতে অছাত্র ও হত্যা মামলার আসামির দৌড়ঝাঁপ

ছাত্রলীগের পদ পেতে অছাত্র ও হত্যা মামলার আসামির দৌড়ঝাঁপ

সেতুর পাটাতন ভেঙে টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কে যান চলাচল বন্ধ

সেতুর পাটাতন ভেঙে টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কে যান চলাচল বন্ধ

ছয় বছর ধরে পানিবন্দি ফতুল্লার ওসমান আলী স্টেডিয়াম 

ছয় বছর ধরে পানিবন্দি ফতুল্লার ওসমান আলী স্টেডিয়াম 

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাজারটি

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাজারটি

শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্দেশনা

শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্দেশনা

সর্বশেষ

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

© 2021 Bangla Tribune