যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে

যশোর প্রতিনিধি
১৪ নভেম্বর ২০২১, ২২:০৬আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২১, ২২:৩২

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে চেক জালিয়াতি করে সাত কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রবিবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে তদন্ত কমিটির প্রধান কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানি বোর্ড সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের প্রায় সাত কোটি টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছে এক চক্র। এর সঙ্গে বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম জড়িত। তবে, এ সংক্রান্তে তদন্ত কমিটির প্রধান মোটা দাগে কয়েকটি তথ্য ছাড়া কিছুই বলতে চাননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রথম জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর একে একে বেরিয়ে আসে, বোর্ড থেকে ৩৬টি চেকের মাধ্যমে প্রায় সাত কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে মামলা করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। 

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

কে এম রব্বানি জানান, আমরা জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। ৫৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ৩৮টি চেকের মধ্যে ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। সুপারিশগুলো গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতির ঘটনা ঘটবে না। তারা বিষয়টিতে সম্মত হয়েছেন।

গত ১৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলমের নামে মামলা করেন। 

যশোর বোর্ডের আড়াই কোটি টাকার সর্বশেষ গন্তব্য খুঁজছে দুদক

শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু অভিযোগ করেন, বোর্ড চেয়ারম্যান দুর্নীতির মামলার আসামি হয়েও স্বপদে রয়েছেন। তদন্ত কমিটির সদস্য অভিযুক্তদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। 
এদিকে, দুদক মামলা করলেও এখনও তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি। ফলে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, বোর্ড চেয়ারম্যান তদবির করে বেরিয়ে আসবেন।

দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ও আমাদের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। তদন্ত চলছে। প্রতিবদেনে জালিয়াতি প্রমাণ হলে আমরা চার্জশিট আকারে আদালতে জমা দেবো। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের কেউ ছাড় পাবে না।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বশেষ খবর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি