মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর অবশেষে একে অপরের ওপর পাল্টা সামরিক আক্রমণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল ও ইরান। সোমবার বিকালে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মার্কিন সময় সোমবার সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল এবং ইরানকে অবিলম্বে একে অপরের দিকে ‘গুলি চালানো’বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই তেহরানও ঘোষণা করে যে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননে নতুন করে হামলা না চালালে তারাও অস্ত্রবিরতি বজায় রাখবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টের পর ট্রাম্প আরও একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাতভর দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের পর এখন ইসরায়েল ও ইরান একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির উপায় খুঁজছে।
হিব্রু গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় আরেকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্পের অনুরোধেই ইরানের ওপর হামলা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, আপাতত মনে হচ্ছে এই দফার লড়াই আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। আমরা এখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
একই দিন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তাও জানান, ইরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রাখে তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনও আক্রমণ চালানো হবে না বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং ইসরায়েল আপাতত হামলা থামাতে সম্মত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। নেতানিয়াহু সোমবার রাত ৯টায় তার পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন বলে এক মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চালানো মধ্যস্থতা যেকোনও পরিস্থিতিতেই স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। পরে ইরানের জরুরি সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান আপাতত স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
অবশ্য এতসব ঘোষণার মাঝেও সোমবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ রকেট ছুড়লে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। জবাবে ইসরায়েলি বাহিনীও ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল









