বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বনরুটি খাওয়ার আগে দুই ভাগ করতেই ভেতরে পাওয়া গেলো আস্ত ব্লেড। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেলো এক শিশুশিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দুপুরে প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে বনরুটি ও ডিম দেওয়া হয়। রুটি পেয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমতাজ মাঝখান থেকে দুই ভাগ করে ফেলে রুটি। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসে ধারালো একটি আস্ত ব্লেড। বিষয়টি আলমতাজ সহপাঠীদের দেখায়। পরে প্রধান শিক্ষিকাকে দেখিয়ে বিষয়টি জানায় তারা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুশিক্ষার্থীদের টিফিনের বনরুটি দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি রুটিতে ধারালো ব্লেড পাওয়া গেছে। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমতাজ খাওয়ার আগে তার রুটির মধ্যে ব্লেড দেখে আমার কাছে নিয়ে আসে। এরপর শিশুদেরকে রুটি খাওয়ার আগে তা ছিঁড়ে দেখে তারপর খাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম মৃধাকে জানিয়েছি আমরা। একইসঙ্গে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনকেও জানানো হয়।’
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশন-এর প্রতিনিধি আরিফ হোসেনের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা টিফিনের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানান তারা।









