যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। মিসরের একটি বন্দরে দুটি জাহাজে বুধবারের অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ড্রোন হামলা দায়ী ছিল বলে নিশ্চিত করেছে কায়রো। এর মাধ্যমে এই প্রথম মিসরের কোনও অবকাঠামো সরাসরি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হলো। একই সময়ে মাসের পর মাস এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
মিসরের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের দামিয়েত্তা বন্দরে গ্যাসে ব্যবহৃত ও সংরক্ষণে নিযুক্ত দুটি জাহাজে আগুন লাগে। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বুধবার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জরুরি ও দ্রুত সাড়াদান কর্মসূচির আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মিসর সরকার নিশ্চিত করে যে একটি ড্রোনের আঘাতেই জাহাজ দুটিতে আগুন ধরেছিল। মিসরীয় মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ জুলাই দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি জাহাজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ঘটনাটি একটি ড্রোনের কারণে ঘটেছিল।
তবে এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এতে আরও বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে বুধবার জানায়, দামিয়েত্তা বন্দরে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংরক্ষণাগারে একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত এবং মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ছিল। জাহাজ থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অন্যদিকে শিপিং সেবা সংস্থা ইনচকেপ আলাদা বিবৃতিতে জানায়, এলএনজি টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটলেও রাতের মধ্যেই বন্দরের অন্যান্য টার্মিনালে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পাঁচ রাত যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে পুনরায় হামলা শুরু করার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে মিসরের এই ঘটনা ঘটে। এর আগে অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইরাকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলায় অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠোর’ জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কয়েক দিনের আপেক্ষিক শান্তির পর একাধিক ফ্রন্টে এসব হামলা মূলত শত্রুতার পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১৩ দিন টানা বোমাবর্ষণের পর ট্রাম্প আকস্মিকভাবে হামলা স্থগিত করেছিলেন, যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা বলে দাবি করেছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা

যুদ্ধ এড়াতে চাওয়া সৌদি আরব এখন ত্রিমুখী হামলার শিকার
ইসরায়েলবিরোধী সমালোচনা থামাতে ‘গোপন বৈঠক’, ওয়াশিংটনে মুখোমুখি ভ্যান্স-নেতানিয়াহু
ককরোচ জনতা পার্টি এখন কী করবে







