গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের একের পর এক দেশ। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আকাশে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপের কারণে অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হওয়া তাপবলয়ের প্রভাবেই এই চরম আবহাওয়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন আবহাওয়া বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম অ্যারাবিয়া ওয়েদার জানিয়েছে, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এই তাপবলয় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রভাব বিস্তার করবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মরু এলাকাগুলো। পাশাপাশি সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডানেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রবিবার ও সোমবার দিনে দেশটির তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ওমানে তাপমাত্রা থাকবে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে। এর আগে শনিবার বিকালে আবুধাবির উপকণ্ঠে আল শাওয়ামেখে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
তবে এই তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝেও বৃষ্টিপাতের কিছু পূর্বাভাস থাকায় স্বস্তির আশাও করা হচ্ছে। অনলাইন আবহাওয়া ট্র্যাকিং সাইট স্টর্ম সেন্টার রবিবার রাস আল খাইমাহ ও ফুজাইরাহ সীমান্তবর্তী মাসাফি শহরে বৃষ্টিপাতের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
আমিরাতের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত পূর্ব অঞ্চলের কিছু এলাকায় ধূলিঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাঁচ দিনের বার্তায় তারা আরও জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, বুধবার পূর্ব দিগন্তে আল মিরজাম তারার উদয় গ্রীষ্মের শেষ ও সবচেয়ে উত্তপ্ত অধ্যায়ের সূচনাকে নির্দেশ করে। তিনি বলেন, এটি আরব উপদ্বীপে সবচেয়ে উষ্ণ সময়ের বার্তা দেয়, যা আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই তারার সাহায্যে দিকনির্দেশনা পেতেন। তাদের কাছে এটি পেকে ওঠা সুস্বাদু খেজুরের প্রচুর ফলনের প্রতীক ছিল। এই তারা দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্দ্রতার পরিমাণও বাড়ে এবং মৌসুমি বাতাস সক্রিয় হয়ে হাজার পর্বতমালার ওপর স্থানীয় মেঘমালার সৃষ্টি করে।
এনসিএম তাদের মাসিক বুলেটিনে জানিয়েছে, আগস্টে গড় তাপমাত্রা থাকবে ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা আসলে বিশ্বজুড়ে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অংশ। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের পেছনে চরম আবহাওয়া দায়ী, যা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের শুরু থেকেই টানা তাপপ্রবাহ ও প্রাথমিক খরা পশ্চিম ইউরোপকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যার ফলে বিশেষ করে ফ্রান্স ও স্পেনে মারাত্মক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল

ইরানি নেতৃত্বে কি ফাটল ধরেছে
হামলা স্থগিতে ট্রাম্পকে অনুরোধের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের
যে মরিচ ছাড়া খাবার চলেই না, তা এলো কোথা থেকে
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি





